logo
news image

জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ১৮ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের দাবিতে আগামী ১৮ মার্চ (শনিবার) শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ’। এদিন সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরের সামনে মাধ্যমিক স্তরের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ, শিক্ষকদের বদলি চালু, পুর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়াসহ পাঁচ দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। এর আগে আগামী ১২ মার্চ (রোববার) দাবি আদায়ে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ ২০২৩) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটির নেতাদের মধ্যে আয়োজিত এক ভাচুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দাবিগুলো হলো, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধানদের যথাক্রমে ষষ্ঠ গ্রেড এবং সপ্তম গ্রেড দেওয়া, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের চাকরি জীবনে দুটি উচ্চতর স্কেল দেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া, ঐচ্ছিক বদলি ব্যবস্থা চালু করা এবং মাধ্যমিক স্তরের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ।
সভার শুরুতে সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে বক্তৃতা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান বাবুল। সংগঠনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল চন্দ্র চৌধুরী।
সভায়, ১২ মার্চ (রোববার) সকাল ১১ টায় প্রত্যেক জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর সরকারিকরণসহ ৫ দফা দাবি আদয়ে স্মারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর ১৮ মার্চ (শনিবার) সকাল ১০ টায় শাহবাগে জাতীয় যাদুঘরের সামনে শিক্ষক সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভার্চুয়াল সভায় ৫০টি জেলার নেতারা সংযুক্ত ছিলেন। ভার্চুয়াল সভায় বিভিন্ন জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন।
আমরণ অনশনের ঘোষণা:
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানরত শিক্ষকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। দাবি আদায়ে তারা আগামী ১৫ মার্চ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। ১২ ও ১৩ মার্চ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হবে। আর ৯ থেকে ১৪ মার্চ সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষকরা প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা।
বুধবার (৮ মার্চ) এ কর্মসূচির ১৩তম দিনে আমরণ অনশন, প্রতীকী অনশন ও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোট নামের একটি মোর্চার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিকরণ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
মহাজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দিন বলেন,  আগামী ১৫ মার্চ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। ১২ ও ১৩ মার্চ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হবে। আর ৯ থেকে ১৪ মার্চ সরকারিকরণের দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রতীকী অনশন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি আমরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পালন করা হবে। ১৫ মার্চ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চলবে।
অবস্থানরত শিক্ষকরা বলছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঠ্যক্রম সিলেবাস, আইন এবং একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হলেও শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অধ্যক্ষ থেকে কর্মচারী পর্যন্ত নামমাত্র ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতা পান ২৫ শতাংশ। অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখলেও ৬ শতাংশের বেশি সুবিধা এখনও দেয়া হয় না এবং বৃদ্ধ বয়সে যথাসময়ে এ টাকা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নেই। সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি করা হলে এ বৈষম্য নিরসন হবে বলে দাবি শিক্ষকদের। তাই শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়, জমানো টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের দাবি জানাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য