logo
news image

ত্রি রত্নের সফল বাবা রুহুল আমিন

মো. মঞ্জুরুল আলম মাসুম, বাগাতিপাড়া,
অফিস সহকারী রুহুল আমিন। নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত। সন্তানদের মনে স্বপ্ন বুননের এক কারিগর। কর্মস্থলে সরকারি কর্মকর্তাদের দেখতেন। মনে মনে ভাবতেন, নিজের সন্তানও একদিন যদি এমন হতো! 

তিন কন্যা সন্তানের বাবা রুহুল আমিন। সন্তানদের শৈশবেই স্বপ্নের বীজ বপন করে দিয়েছেন। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছে তিন কন্যা। বড় মেয়ে হয়েছেন বিসিএস ক্যাডার। অন্য দুই মেয়েও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিন কন্যার সফলতায় স্থানীয়দের মাঝে রুহুল আমিনের পরিচিতি এখন ‘ত্রি রত্নের বাবা’ হিসেবে। তার বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মফস্বল গ্রাম যোগীপাড়ায়।
সম্প্রতি আলহাজ্ব রুহুল আমিন জানান, চাকরির সুবাদে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইউএনও-এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সবশেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। এসব দপ্তরগুলোতে বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের দেখেছেন। তাদের সম্মান মর্যাদা দেখে তিন সন্তানকেও তিনি কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্ন দেখেন। সে কারনেই কন্যাদের শিশুকাল থেকেই পড়ালেখাতে উৎসাহ যুগিয়েছেন। একটু একটু করে স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন। শিখিয়েছেন অধ্যাবসায় আর পরিশ্রমী হওয়ার কৌশল। আর তাতেই ধরা দিতে শুরু করেছে সাফল্য।

তার বড় মেয়ে রুখসানা আমিন ২০১৪ সালে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি বিষয়ে মাস্টার্স (এমএজি) শেষ করে ৩৮তম বিসিএসে ক্যাডারভুক্ত হয়ে বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় কর্মরত। রুখসানাকে বিয়ে দিয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপকের সাথে। বর্তমানে রুখসানার ঘরেও এসেছে এক কন্যা সন্তান।

অন্যদিকে রুহুল আমিনের দ্বিতীয় মেয়ে সাদিয়া আমিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদে এগ্রোনোমী বিষয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।

আর ছোট মেয়ে ফাতেমা আমিন জয়িতা এবারে সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিষয়ে। মেধাবী ফাতেমা আমিনের ইচ্ছে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। কোচিং না করেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুচ্ছ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এই তিনটি ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনটিতেই সুযোগ পেয়ে স্থানীয়দের নজর কেড়েছেন। ফাতেমা আমিন মফস্বল গ্রামের নূরপুর মালঞ্চি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। ছোট মেয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিন মেয়েই দেশের খ্যাতনামা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পাওয়ায় গর্বিত রুহুল আমিন এবং তার স্ত্রী আফিয়া আমিন। এদিকে বড় বোনের মতো বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া দুই মেয়ের ইচ্ছা তারাও বিসিএস ক্যাডার হয়ে বাবার স্বপ্ন পুরন করবেন।

রুহুল আমিন আরো জানান, সন্তানদের লেখা পড়ায় আর্থিক সংকটে পড়তে দেননি। সেকারনে চাকরির পাশাপাশি স্থানীয় তমালতলা বাজারে একটি ঔষধের দোকানও তিনি দিয়েছেন। অফিস ছুটির পর রাত অবধি সেখানে একাই দোকান পরিচালনা করেন। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ দয়ায় শিক্ষকদের সহযোগিতা, আর নিজেদের প্রচেষ্টা ও আত্মবিশ্বাস তার তিন কন্যাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সফলতায় পৌঁছে দিয়েছে।

তবে বাবার স্বপ্নের সাথে সাথে মায়ের পরিশ্রমও কম কিছু ছিলনা। মেয়েদের পড়ালেখায় রাত জেগে সন্তানদের সঙ্গ দেয়ার যে ধৈর্য্য দেখিয়েছেন তার তুলনা হয়না। তাদের সন্তানদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বড় মেয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুখসানা আমিন বলেন, বাবার উৎসাহ আমাদের সফলতার প্রধান নিয়ামক। তাছাড়া শিক্ষকদের সহযোগিতা আর কঠোর অধ্যাবসার কারনে স্বপ্নের বিসিএস ধরা দিয়েছে। আমার ছোট দুই বোনও মেধাবী এবং পরিশ্রমী। তারাও তাদের কাঙ্খিত সফলতায় পৌঁছানোর আশা করি।

সাম্প্রতিক মন্তব্য