logo
news image

বাগাতিপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম



বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ জেলার হাটিকুমরুল গোল চত্তরে  সড়ক দুর্ঘটনায়  নিহতদের পরিবারসহ এলাকায় চলছে শোকের মাতম। জেলা প্রশাসক নিহতদের পরিবারে আর্থিক সহায়তা করেছেন। নিহতরা হলেন- নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার পাকা ইউনিয়নের  ছোটপাকা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মকুল হোসেন (৩৫), আবুল হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (৩৪) একই থানার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫), ইজাল হকের ছেলে আব্দুল হালিম ও গুরুদাসপুর উপজেলার জুমাইনগর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হায়দার আলী (৪০)।
নিহতদের  বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের হারিয়ে পরিবারগুলো  দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ট্রাক-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন।  এছাড়া ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ছোটপাঁকা ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের দুই জন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের পরিবারেও চলছে উৎকণ্ঠা।
নিহতদের মধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলার চার জনই শ্রমিক। তারা ধানকাটার কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। আর গুরুদাসপুরের জুমাইনগরের নিহত ওই ব্যক্তি লিচু বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন বলে শোনা গেছে।
বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান নয়েজ মাহ্মুদ জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিহতদের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, গত ১০-১২ দিন আগে নিহতরা অন্যদের সঙ্গে পাবনায় ধানের জমিতে কাজ করতে যায়। তাদের মধ্যে ছোটপাঁকা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মকুল হোসেন(৩৫), এবং আবুল হোসেনের ছেলে মনির হোসেন(৩৪) মারা যান বাড়ি ফেরার পথে। আর আহত হন একই গ্রামের লাবুর ছেলে মঞ্জু। তাকে রামেকে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, নিহত মকুলের ৮ ও ১৪ বয়সী দুই মেয়ে এবং ৩ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। নিহত মনিরের ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে ছাড়াও ৮বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হাড়িয়ে ছোট ছোট ওই সন্তানদের নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছে নিহতদের পরিবার।
অপরদিকে, আহত মঞ্জুর ৪ ও ৬ বছর বয়সী দুটি ছেলে আছে। তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী দুর্ঘটনার খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী জানান, ওই দুর্ঘটনায় বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫) এবং ইজাল হকের ছেলে আব্দুল হালিম নিহত হন। একই গ্রামের আনসারের ছেলে আলমগীর আহত হয়েছেন। তাকে রামেকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই শ্রমিক। তারা পাবনায় ধানশ্রমিক হিসেবে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
জামনগর ইউপি মেম্বর আইয়ুব আলী জানান, তিনি মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নিহত মকবুলের ১১ বছর বয়সী মেয়ে ছাড়াও ৮ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। নিহত আব্দুল হালিমের ৮ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৫-৬ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। অপরদিকে আহত আলমগীরের ১৮ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, নিহত জুমাইগর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হায়দার আলী (৪০) একজন লিচু ব্যবসায়ী। দুই-তিন দিন আগে তিনি লিচু বিক্রি করতে দিনাজপুর যান। বাড়ি ফেরার পথে তিনি এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার চার মেয়ে। সবচেয়ে বড় মেয়ের বয়স ১৬ বছর।
উল্লেখ্য  বুধবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় রাত ২টার দিকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই চার জন নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোরের দিকে তাদের মধ্যে হাটিকুমরুল সাখাওয়াত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ব্যক্তি মারা যান। 


সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top