logo
news image

ছোটমনি নিবাসে আব্দুল্লাহ তাওছিফ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
‘গমখেতে পাওয়া শিশুকে ছোটমনি নিবাসে পাঠানোর কথা শুনে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললেন মোছা. মানজেরা খাতুন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, একদিনেই ছেলেটার ওপর বড় মায়া পড়ে গেছে।’
নাটোরের লালপুরে গমখেত থেকে উদ্ধারকৃত এক দিনের শিশুটিকে রাজশাহীতে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ মার্চ ২০২২) রাতে স্থানীয় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সে তাকে পাঠানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাম্মী আক্তার, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুরুজ্জামান শামীম, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনোয়ারুজ্জামান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোতালেব সরকার প্রমুখ।
শনিবার (২৬ মার্চ ২০২২) সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত রাজশাহীর ছোটমনি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দত্তক প্রদানের বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। ততদিন শিশুটিকে তারা লালন-পালন করবেন।
মো. বাবুল হোসেনের স্ত্রী মোছা. মানজেরা খাতুন বলেন, সারাদিন তাঁদের পরিবার শিশুটির যত্ন করছে। বাচ্চাটিকে নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিয়েছেন। হাসপাতালে আনার পর ‘মো. আব্দুল্লাহ তাওছিফ’ শিশুটির নাম রেখে খাতায় তোলা হয়েছে। এখন ছোটমনি নিবাসে পাঠালে আইনগত জটিলতায় সন্তান হিসেবে তাকে দত্তক না পাওয়ার ভয় করছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোতালেব সরকার বলেন, কুড়িয়া পাওয়া শিশুদেরকে নিয়ম অনুযায়ী রাজশাহী ছোটমনি নিবাসে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. মোনোয়ারুজ্জামান বলেন, শিশুটিকে নিরাপত্তার সাথে ছোটমনি নিবাসে পৌঁছাতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুরুজ্জামান শামীম বলেন, শিশুটিকে সুষ্ঠুভাবে ছোটমনি নিবাসে পাঠানোর জন্য একজন নার্স সাথে দেওয়া হয়। এছাড়াও দিনভর যত্ন নেওয়া উদ্ধারকারী দম্পতিকেও সাথে পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা সুলতানা বলেন, শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য অনেকে যোগাযোগ করেছেন। আইনগত জটিলতা এড়াতে তাকে ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। তারা দত্তক প্রদানের সকল পদক্ষেপ নেবেন। তবে শিশুটি উদ্ধার ও যত্ন নেওয়া পরিবারকে দত্তক প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন।
শুক্রবার ভোরে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের রামপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক মো. বাবুল হোসেন রামপাড়া-রাধাকান্তপুর রাস্তায় হাঁটতে বের হয়ে রাধাকান্তপুর হাকিমপীরের আস্তানার পাশে গমখেতের মধ্যে থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনে সদ্য প্রসবকৃত একটি ছেলে শিশু দেখতে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top