logo
news image

ওরা পতাকার ফেরিওয়ালা

ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর (নাটোর)
ফেরিওয়ালাদের হাতে লাল-সবুজ রঙ বাঙালির উৎসবের মুহুর্ত জানান দেয়। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস-জাতীয় দিবসের বছরের তিনটি মাসে প্রথম সপ্তাহ থেকেই পথে পথে দেখা যায় লাল-সবুজের পতাকা।
পতাকা বানানোর কারখানা আর পাইকারি দোকান থেকে কিনে রাস্তাঘাটে ফেরি করেন পতাকার হকাররা। বিভিন্ন মাপের পতাকা বিক্রি হয় ১০ থেকে ২০০ টাকায়।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২১) নাটোরের লালপুর উপজেলা পরিষদের সামনে বাঁশে বাঁধা নানা আকারের পতাকা বিক্রি করছেন ফেরিওয়ালা ফরহাদ খান (৩২)। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বড়নাউডবি গ্রামে বাড়ি তাঁর। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকন খান।
ফরিদপুরের নগরকান্দার ফরহাদ খান (৩২) বলেন,  দেশের পতাকার মহত্ব উপলব্দি করে লাল-সবুজের পতাকা ফেরি করতে রাস্তায় বেরিয়েছেন। এ পতাকা তুলে দিচ্ছেন স্বাধীন দেশের নতুন প্রজন্মের হাতে হাতে। দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে এতেই আমার আত্মতৃপ্তি পান। মোবাইল মেরামত করা তার পেশা। বিভিন্ন দিবসে বাড়তি আয়ের আশায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পতাকা ফেরি করেন। তার বাবা রোকন খান ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা।
মাদারীপুরের শিবচরের রশিদ ফকিরের ছেলে মো. শাহ আলম (৩৫) বলেন, গত ৬ বছর ধরে মৌসুমে পতাকা বিক্রি করেন। অন্য সময় অটো ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করেন। একটি উৎসবে খরচ বাদ দিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ থাকে।
আরেক বিক্রেতা সুরুজ আলী (৪৫) বলেন, মৌসুমকে ঘিরে অনেক প্রতিষ্ঠানে নতুন পতাকা কেনা হয়। চাহিদা ভাল থাকলে বেচা বিক্রি ভাল হয়। প্রায় অর্ধেক লাভ থাকে। উৎসবের তিন মাসের প্রথমে বের হন আর উৎসব শেষে ফিরে যান। অন্য সময় পতাকা তেমন বিক্রি হয় না। এক উৎসবে সব পতাকা বিক্রি না হলে তা পরের উৎসবে বিক্রি হয়ে যায়।
পতাকা তৈরির কারিগর (দর্জি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশেষ মাপের ১০ ফুট-৬ ফুট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ ফুট-৩ ফুট, যানবাহন ও হাতে বহনের জন্য ১০ ইঞ্চি-৬ ইঞ্চি মাপের পতাকা তৈরি হয়। হকাররা বাকিতে পতাকা নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করেন।
নওপাড়া উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান আলী বলেন, প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে একটি পতাকা কিনেছেন। মৌসুমি এসব পতাকা বিক্রেতাদের নিকট পতাকা পাওয়ায় বানানোর ঝামেলা নেই।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ ও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে উত্তোলন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জাতীয় পতাকার অবমাননার সামিল হবে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top