logo
news image

বাঘায় গোচর খড়ের ছাউনির স্কুল এখন অর্ধকোটি টাকার ভবন




মোঃ মামুনুর রশিদ মাহাতাবঃ
রাজশাহীর বাঘায় গোচর খড়ের ছাউনির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন অর্ধকোটি টাকার ভবন দন্ডায়মান। একটি মহল অবৈধভাবে এ বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ব্যবহারে ব্যর্থ হয়ে  হীনমন্যতায় বিদ্যালয়ের ক্ষতিসাধনে মেতে উঠেছেন। শিক্ষক ও কমিটির বিরুদ্ধে মানহানিকর মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। 

সরেজমিন জানাযায়, রাজশাহীর বাঘার গোচর এলাকায় মনোরম পরিবেশে গোচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দন্ডায়মান। এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ও শিক্ষার মান সন্তোষজনক। 

১৯৯২ সালে শিক্ষার আলো বঞ্চিত গোচর এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়ানোর মানসিকতায় সুলতান মাহামুদ একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। তাঁর পৈত্রিক  সম্পত্তির উপর নিজস্ব অর্থায়নে একটি  তিন'কক্ষ বিশিষ্ট ছাপরা ঘর নির্মাণ করা হয়। এর বারান্দায় দেওয়া হয় খড়ের ছাউনি। এ বিদ্যালয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক সুলতান মাহমুদ হোসেন প্রধান শিক্ষক এবং ফরিদা ইয়াসমিন, মিনারা পারভীন ও মাহামুদা খাতুন সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

সুচারুভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলতে
থাকে। ৩১জানুয়ারি/৯৫ইং জাহিদ হোসেন, সুলতান মাহমুদ ও ফরিদা ইয়াসমিন  ৩১শতাংশ পৈত্রিক জমি গোচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেজিষ্টি করে দেন।

২০০০-২০০১ অর্থ বছরে  সরকারি অর্থায়নে অফিসসহ তিনকক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সে সময় থেকে ঐ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সীমানা প্রাচীরশূন্য বিদ্যালয়ের পুরোনো জীর্ণ-শীর্ণ ঘরটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। শুধু দন্ডায়মান থাকে ক'টি খুঁটিসহ মরিচাধরা টিনগুলো। 

এ বিদ্যালয়টি যোগ্য শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় ২০০৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সহকারি শিক্ষিকা মিনারা পারভীন  ২০০৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে  উপজেলা পর্যায়ে মিনারা পারভীন ২ বার  এবং প্রধান শিক্ষক সুলতান  মাহমুদ  ১বার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। এছাড়া এখানে রয়েছে বিষয় ভিত্তিক "টট " শিক্ষক।

গোচর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ০১-০১-২০১৩ইং সরকারি করণ করা হয়। এর পর
২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৫২ লাখ ৯৭ হাজার ৩শ টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণের অনুমোদন পায়।

সে সময়  বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতে পুরোনো ঘরের জীর্ণশীর্ণ পরিত্যক্ত  জিনিসগুলো সভাপতির দায়িত্বে  অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে যা এখনো গচ্ছিত রয়েছে।   

প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ জানান, বিদ্যালয়টি সরকারি বিধি মোতাবেক সুচারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ না পেয়ে  নানাবিধ অপপ্রচার চালিয়ে বিদ্যালয়ের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সভাপতি আজিবর রহমান জানান,
সরকারি নির্দেশনায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে গোচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top