logo
news image

নাটক শহীদ সাগর-এর মহড়া

ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর (নাটোর)
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গণহত্যার ভয়াবহতা, গণকবর, বধ্যভূমিসহ মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে নাটক নির্মাণ ও পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার ওপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে নাট্যব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় নির্মাণ হচ্ছে ৬৪ টি পরিবেশ থিয়েটার।
এক বছর ধরে গবেষণা ও যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি জেলায় পরিবেশ থিয়েটার উপযোগী একটি করে বধ্যভূমি বেছে নেওয়া হয়েছে। নাটোর জেলায় লালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে গণহত্যার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নাটক ‘শহীদ সাগর’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা।
নাটকটির স্থানীয় সমন্বয়ক চলন নাটুয়ার সহসভাপতি মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় মানসম্পন্ন একটি নাটক উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। রেকডিংয়ের জন্য পুরোদমে রিহার্সেল চলছে। তাঁরা সফলভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাটকের প্রধান সমন্বয়কারী নাটোর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা আব্দুল রাকিবিল বারী বলেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষকরা নাটোর জেলায় লালপুরের ‘শহীদ সাগর’ গণহত্যার ইতিহাসকে নাট্যরূপ দেওয়ার জন্য নির্বাচন করেছেন। লালপুরের চলন নাটুয়া, ধুপইল সংঙ্গীত একাডেমি, বাগাতিপাড়ার বকুল স্মৃতি থিয়েটার, বড়াইগ্রামের বনপাড়ার রুপরেখা লালন একাডেমি, নাটোরের গোধুলী নাট্য সংস্থাসহ বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিএনসিসি-স্কাউট সদস্যসহ শতাধিক কলাকুশলীর অংশগ্রহনে পরিবেশ থিয়েটারের মহড়াসহ সকল কাজ এগিয়ে চলেছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর ‘শহীদ সাগর’ প্রাঙ্গনে নাটকটি পরিবেশিত হবে বলে আশা করছেন।
নাটকের নির্দেশক ড. সৈয়দ মামুন রেজা বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর ২০২১) বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সারাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ভয়াবহ, বর্বর ও নারকীয় গণহত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর বছরে এই গণহত্যা বিষয়ক নাটক নির্মাণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে গণহত্যায় শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সেই সাথে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা ও গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৫ মে নাটোরের লালপুরে পাকবাহিনীর মর্মান্তিক গণহত্যাকাণ্ডে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের প্রশাসক শহীদ লে. এম এ আজিমসহ অর্ধশতাধিক শহীদ হন। মিলের ভেতরের পুকুর পাড়ে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যার পর পুকুরটি রক্তের সাগরে পরিণত হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের ৫ মে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত পুকুরটির নামকরণ হয় ‘শহীদ সাগর’। ১৯৭৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গোপালপুর স্টেশনের নামকরণ হয় আজিমনগর। ২০০০ সালের ৫ মে পাশেই স্থাপিত হয় শহীদ স্মৃতি জাদুঘর। ওই বছর থেকে দিনটিকে বাংলাদেশের চিনিকল সমুহের ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে দেশের সবকটি চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারিরা পালন করছেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top