logo
news image

মানুষের সঙ্গ ছাড়া ঘুমায় না বরাত

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, লালপুর (নাটোর)
মানুষের সঙ্গ ছাড়া বিছানায় ঘুমায় না ‘বরাত’। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গ ছাড়া সে এক মুহুর্ত থাকে না। বিচিত্র স্বভাবের এক ছাগলের খোঁজ মিলেছে নাটোরের লালপুরের মিল্কিপাড়া গ্রামে।
বুধবার (১১ আগস্ট ২০২১) মিল্কিপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ছেলে মনোয়ার হোসেন মানার সাথে একি বিছানায় শুয়ে আছে ছাগল। ‘বরাত’ বলে ডাক দিতেই সাড়া দেয় ছাগলটি। কী বলা হচ্ছে তা শোনার আগ্রহ। অচেনা মানুষের ডাকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
ছাগল মালিক মো. মনোয়ার হোসেন মানা (৩০) বলেন, ২০১১ সালে শবে বরাতের দিন জন্মগ্রহণ করায় ছাগলটির নাম রাখা হয় ‘বরাত’। এক বছর বয়সে সাদা-কালো রংয়ের ছাগলটিকে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায় কেনেন। তখন ওজন ছিল ১২ কেজি। দুই বছর আগেও ওজন ছিল ৭৫ কেজি। বয়সের ভারে খাওয়া-দাওয়া কমে গেছে। এখন ওজন ৬৫ কেজির ওপরে।
ছাগলটি বাড়িতে আনার পরে তার প্রতি মায়া জন্মে। একই বিছানায় তার সাথে ঘুমাতে শুরু করেন। বাড়ির একজন সদস্যের মতো তার সাথে আচরণ করেন। ১০ বছর ধরে তার সাথে সখ্যতা।
ছাগলটি সম্পর্কে তিনি বলেন, অত্যন্ত বিনয়ী শান্ত স্বভাবের। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছাড়া সে থাকতে পারে না। তিনি না থাকলে পরিবারের অন্য কোন সদস্যের সাথে একই বিছানায় ঘুমায়।
প্রস্রাব-পায়খানার সময় বিছানা থেকে নেমে বাইরে যায়। খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। গোসলের সময় একাই বাথরুমে চলে যায়। তখন সাবান-শ্যাম্পু দিয়ে সুন্দরভাবে গোসল করিয়ে দেন।
খাবার ব্যাপারে খুবই সচেতন। অতিরিক্ত খাবার খায় না। স্বাভাবিক খাবার ছাড়াও সব ধরনের ফল-মুল খেতে ভালোবাসে। প্রত্যেক বেলায় একসাথে ভাত-রুটিও খায়। মাছ-মাংস জাতীয় খাবারের হাতের কোন কিছু মুখে তুলে না।
তিনি প্রাণি হত্যার বিপক্ষে। পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বার ছাগলটিকে কুরবানীর কথা বলা হয়। কিন্তু তিনি রাজি হননি। মানুষ হিসেবে পরিবারের সবার যে রকম বাঁচার অধিকার আছে, তেমনি ছাগলটিরও সে অধিকার আছে। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ছাগলটি মারা গেলে মানুষের মতো করে কবর দেবেন।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরে ছাগলটির তেমন কোন অসুখ-বিসুখ হয়নি। বয়সের কারণে পায়ে রগের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন চলাফেরা করতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করছেন। কয়েকবার আমাশা সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা করে ভালো হয়ে যায়।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ বলেন, ছাগলটিকে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করেন। পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়। পরিবারের সবাই এটির প্রতি যত্নশীল। কৌতুহলী অনেক মানুষ ছাগলটিকে দেখতে বাড়িতে আসেন।
লালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুমারি খাতুন বলেন, এটি ব্যতিক্রম স্বভাবের একটি ছাগল। সাধারণত আয়ুষ্কাল ১২-১৮ বছর হলেও এত বছর বয়সের কোন ছাগল আমাদের দেশে দেখা যায় না।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top