logo
news image

নিষ্কাশনের পথ বন্ধে পানিবন্দি ৬ গ্রামের মানুষ

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
নাটোরের লালপুরের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় মাসব্যাপী পানিবন্দি রয়েছে ৬ টি গ্রামের শতাধিক পরিবার। পানির নিচে তলিয়ে থাকায় স্থগিত আছে নির্মানাধীন পাকা সড়কের কাজ।
রোববার (২৫ জুলাই ২০২১) সরেজমিন দেখা যায়, লালপুর বাজার, পুরাতন বাজার, উত্তরলালপুর, বুধপাড়া, জোতদৈবকী, চকজোতদৈবকী গ্রামের শতাধিক পরিবারের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আষাঢ়ের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ির চারপাশ, উঠোন, রান্না এমন কি বসবাসের ঘরসহ পানিতে ডুবে আছে। বাড়ির সামনে অনেকে বাঁশের সাঁকো, ইট বিছিয়ে কিংবা মাটি দিয়ে উঁচু করে কোন রকম চলাচলের ব্যবস্থা করছেন।
পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর ও জৌতদৈবকী এলাকার মাসব্যাপী পানিবন্দী হয়ে মানবেতার জীবনজাপন করছেন শতাধিক পরিবার। এদিকে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদনও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সোহেল বিশ্বাস (৩৫) বলেন, এসব গ্রামের বৃষ্টির পানি পশ্চিম পাশের মাঠের নিচু জমিতে নিষ্কাশন হতো। প্রবাহ পথে অমল কুমারের জমিতে পাকা দেওয়াল ও মাটি দিয়ে ভরাট করায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে কয়েকটি গ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা দেখা দিয়েছে। মাসব্যাপী জলাবদ্ধ পানিতে চলাচল করতে গিয়ে পায়ে পচন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আমারা ইউএনওকে জানিয়েছি। তিনি এসে দেখে গেলেও কোন সমাধান হয়নি।
যুব উন্নয়নের কর্মচারী জোতদৈবকী গ্রামের সুখি বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির আঙ্গিনা এমনকি উঠোনে পানি জমে থাকে। বাড়ির সামনের ইট বিছিয়ে ও বাঁশের সাঁকো বানিয়ে কোন রকম চলাচল করছি। মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে মহা বিপদে দিন কাটাচ্ছি।
অভিযুক্ত অমল কুমার বলেন, বাড়ির নিরাপত্তার জন্য নিজের জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। পানি প্রবাহ বন্ধের জন্য করা হয়নি। প্রয়োজনে এদিক দিয়ে কালভার্ট স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে তার কোন আপত্তি নেই।  
লালপুর উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, লালপুর ছয়মাথা থেকে কালি মন্দির, হযরত শাহ আলম (র.) মাজার, মহিলা কলেজ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস মোড় পর্যন্ত ৫২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে প্রায় সোয়া ১ কিলো মিটার পাকা রাস্তার কাজ চলছে। কিন্তু এক মাসের অধিক সময় পানিতে ডুবে থাকায় রাস্তার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক পলাশ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতে স্থানীয়দের নিয়ে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পারিবারিক প্রতিহিংসার কারণে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা কাটা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top