logo
news image

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট খোলা চিঠি

মানবতার মা জননী তোমার সন্তানদের মুখের ভাত কেঁড়ে নিওনা।
ব্যবসায়ী, অটোচালক, ভ্যানচালক তথা অত্র মিলজোন এলাকার সাধারণ জনগণ তাদের রুটি- রুজির জন্য সুগার মিলের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।  বিধায় দিন শেষে তাদের পরিবারের বৃদ্ধ পিতা-মাতা,  ছেলে-মেয়ের মুখে দু-মুঠো ডাল-ভাত তুলে দিয়ে আসছে। মা হয়ে সেই ভাত তুমি কেড়ে নিতে পারো না? তুমি যে বাংলার মেহনতী মানুষের মা জননী জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। চিনি শিল্প পরিবারের পক্ষ হতে তোমার প্রতি আমাদের আর্তনাদ জানাই। ১৯৭১ সালের পরাজিত শত্রুরা, ১৯৭৫ এ পাকিস্তানের প্রেতাত্তারা, ২০০৪ সালের আগুন সন্ত্রাসী গ্রেনেড হামলাকারীরা আজও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিছু বেইমান বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘাপটি মেরে বসে আছে। বাঙ্গালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর তথা আপনার ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্য । আজও কিছু পাকিস্তান পন্থী সচিব, আমলা, লুটেরা, চিনি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী তারা চিনি শিল্পকে ধ্বংস করে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আওয়ামী লীগ সরকারের তথা আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
আপনি যেমন রেল, বিমান, বিদ্যুৎ, বিআরটিসি, সার ইত্যাদিতে ভর্তুকি দিয়ে আসছেন কোটি কোটি টাকা। সেই সাথে তোমার লেংড়া-খোঁড়া ছোট ছেলেকে (চিনিশিল্পকে) দু-মুঠো ভাত খেতে দিতে কি এমন ভর্তুকি লাগবে? বড় জোর ৭ থেকে ৮ শ কোটি টাকা লাগতে পারে। চিনি শিল্পের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে, যার প্রতি বছরে সুদ দিতে গিয়ে লোকসানের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে। যদি উক্ত ঋণ সরকারিভাবে পরিশোধ বা মৌকুফ করা যায় তাহলে লোকসান বা ভর্তুকির পরিমাণ আরো কমে আসবে। এ ছাড়াও আপনি প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালিন ভাতা, জেলে-তাঁতিদের ভাতা,
ভিক্ষুকদের ভাতা, বাংলার সুর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, চাকরী জীবিদের নবান্ন ভাতা, করোনা ভাইরাস কালীন প্রণোদনা ভাতা, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য প্রিয় নীড় আশ্রয়ন প্রকল্পে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছেন, গৃহহীনদের আশ্রয়ন প্রকল্পে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছেন, বিদেশি রোহিঙ্গাদের মুখে আহারের ব্যবস্হা করে ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ উপাধীতে ভূষিত হয়েছেন।
চিনি শিল্পের মিলগুলো সরকার তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে যে ভাবে অবদান রেখে আসছে তা নিম্নে বর্ণনাা করা হলোঃ
১. প্রতি বছর সরকারকে প্রায় কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান করে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।
২. সুগার মিলগুলোর উৎপাদিত চিনি বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে, দেশের জনগণকে কমমূল্যে চিনি ক্রয় করতে অবদান রেখে আসছে।  
৩. সুগার মিলগুলো কর্মসংস্থান তৈরী করে দেশের বেকারত্ব সমস্যা দূর করে আসছে।
৪. সুগার মিলগুলো কাঁচামাল হিসাবে কৃষিপন্য আখ ব্যবহার করে কৃষিক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে।
৫. সুগার মিলগুলোতে উৎপাদিত চিনি শিশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে, উক্ত চিনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের খাদ্য যোগানে অবদান রেখে আসছে।
৬ . সুগার মিলগুলো রাস্তা, কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে অর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে  আসছে।
৭ . সুগার মিলগুলো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবদান রেখে দেশকে সেবা দিয়ে আসছে।
৮ . সুগার মিলগুলো দেশের উত্তরাঅঞ্চলে একমাত্র ভারী শিল্প হিসেবে, দেশের বেকারত্ব দূরীকরণসহ বিভাগীয় জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রেখে আসছে।
৯ . সুগার মিলগুলোর কাঁচামাল আখ হওয়ায় কৃষকের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাত্রে অবদান রেখে আসছে।
১০. সুগার মিলগুলো বাঙ্গালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বিধায় তাঁর ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষাত্রে অবদান রেখে  আসছে।
১১. সুগার মিলের অভ্যন্তরে ১৯৭১ সালের ৫ মে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নবেসুমি ব্যবস্থাপকসহ ৪২ জন শ্রমিক শহীদ হয়েছিলেন এবং শহীদ সাগর নামে ইতিহাস তৈরী করেছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই।
১২. সুগার মিলগুলো বিভিন্নভাবে অত্র এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নসহ দেশের অর্থ নৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।
আপনার নির্বাচনী এস্তেহারে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে জাতীর নিকট ওয়াদা করেছিলেন যে, ঘড়ে-ঘড়ে চাকরি দিবেন। সেখানে চিনি শিল্পের প্রাণ সুগার মিলগুলোকে বন্ধ না করে, পুরাতন প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে আধুনিকায়ন এবং বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের পথ সুগম রেখে মিলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করে নির্বাচনী ওয়াদা রক্ষা কল্পে কর্মসংস্থান তৈরী করে, দেশের বেকারত্বের বোঝা কমাতে পারেন। যেমনটি কেরু এন্ড কোং প্রতি বছর তার চিনি উৎপাদনের লোকসান কাটিয়ে ডিস্টিলারি প্রোডাক্ট এর মাধ্যমে প্রায় ২৫/৩০ কোটি টাকা লাভ করে থাকে। সেই  আলোকে আপনার সুচিন্তিত মতামত হিসাবে ২০১৬ সালে একনেকে পাস হয় দুইটি সুগার মিলকে বহুমুখী প্রকল্পে রুপান্তরিত করা হবে। যার ফলশ্রুতিতে নবেসুমি লিমিটেডের জন্য ৩ শ ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জন্য প্রায় ৪ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জানিনা কোন অদৃশ্য শক্তির/গাফেলতির কারণে আজও সেই  বহুমুখী প্রকল্পের দৃশ্যমান কোন কাজ শুরু হয়নি। বিষয়টি আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে চিনি শিল্পকে বন্ধ ,অথবা কয়েকটি মিল চালু রেখে কয়েকটি মিল বন্ধ না করে কিংবা পিপিপির আওতায় না দিয়ে। সকল মিলের মাড়াই কার্যক্রম সচল রাখার জন্য এবং বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ।
‘বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব সরকার , শেখ হাসিনার সরকার শ্রমিক বান্ধব সরকার’।
আপনার সন্তানের এই বিশ্বাস ও স্বপ্ন যেন ভেঙে না যায়। আমাদেরকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের  কর্মসূচি দিতে বাধ্য করবেন না। যদিও আমি আওয়ামী লীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী আর সেই কারণেই সেইটা আমাদের জন্য কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আর তাই আপনার সুদৃষ্টি, সুচিন্তিত মতামত এবং হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই  চিনিশিল্পের সুদিন ফিরে আসতে পারে ।
পরিশেষে আপনার সুস্থ-সুন্দর ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি। আমিন।
শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তা, আখচাষী, দোকানদারদের পক্ষে
মোঃ দেলোয়ার হোসেন পিন্টু
সাধারণ সম্পাদক, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন।
সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক লীগ, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেড শাখা।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top