logo
news image

ঈশ্বরদীর দুটি খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ থমকে গেছে

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ

 ঈশ্বরদীর দুটি খাদ্যগুদামে সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযান থমকে গেছেএরইমধ্যে সরকারের সংগ্রহ মূল্য অপেক্ষা বাজার মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকা রয়েছেতবে গম ও ধান সরবারাহ ঈশ্বরদী খাদ্যগুদামে মোটামোটি সন্তোষজনক হলেও মুলাডলিতে স্লথ গতি বলে জানা গেছে

জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ঈশ্বরদীর এলএসডি ও মুলাডুলি সিএসডি গুদামে ১ মে থেকে ধান ও গম এবং ৭ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়ঈশ্বরদী এলএসডি গুদামে ৮,৫৪০ মে:টন চাল, ১৯০ মে:টন ধান ও ২৬০ মে:টন গম এবং মুলাডুলি সিএসডিতে ৮,৫৪১ মে:টন চাল, ১৯১ মে:টন ধান ও ২৬১ মে:টন গম সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়এবারে কেজি প্রতি গম ২৮ টাকা, ধান ২৭ টাকা এবং চাল ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছেসরকার উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করলেও বর্তমানে ধান ও চালের বাজারমূল্য উপরে থাকায় মিলারদের চাল সরবরাহে লোকসান হচ্ছে

ঈশ্বরদীতে অটো ও হাসকিং মিলিয়ে মোট রাইচ মিলের সংখ্যা ইতোপূর্বে ছয় শতাধিক তালিকাভূক্ত ছিলোবাস্তবতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তালিকাভূক্ত মিলের সংখ্যা এখন ৩৫৪ দাঁড়িযেছেউপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এটিএম শহীদুল হক জানান, এবারে ৩৫৪ জন অটো ও হাসকিং মিলের মিলাররা দুটি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেনসরকারি সংগ্রহ মূল্য ভালো থাকায় প্রথমদিকে মিলাররা ও কৃষকরা আগ্রহ সহকারে গুদামে চাল ও ধান সরবরাহ করতে থাকেকিন্তু বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সংগ্রহ থমকে গেছে

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) পর্যন্ত ঈশ্বরদী এলএসডি গুদামে ৫,৪৩৯ মে:টন চাল, ১৭৭ মে:টন ধান ও ২৬০ মে:টন গম সংগ্রহ হয়েছেমুলাডুলিতে ৪,৭৫৯ মে:টন চাল, ১৯২ মে:টন ধান ও ১০৪ মে:টন গম সরবরাহ করা হয়েছেবরাদ্দ মোতাবেক চাউল ঈশ্বরদীতে ৬৪ ভাগ এবং মুলাডুলিতে ৫৫.৭ ভাগ সংগ্রহ হয়েছেআগষ্টের ১৬ তারিখ পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান চলবে জানিয়ে তিনি আশা পোষণ করে বলেন, মিল মালিকরা বাজারে ধানের দাম কমার আশায় অপেক্ষা করছেনদাম কমলে সংগ্রহ সম্পূর্ণ সফল হতে পারে

জয়নগরের মেসার্স সম্পদ ট্রেডার্সের হাসকিং মিলের মালিক মঞ্জুরুল আলম প্রথমেই তাঁর বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ চাল গুদামে সরবরাহ করেছেন বলে জানিয়েছেনতিনি বলেন, গুদামে সরবরাহকৃত হাইব্রিড হীরা ধানের প্রথমদিকে দাম ছিল মণপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকাএই দামে ধান কিনে ভাঙ্গিয়ে প্রতি কেজি চালের দাম ৩০-৩৫ টাকা পড়তোএছাড়া ধানের গুঁড়া ও খুদ বিক্রি করেও ভালো টাকা পাওয়া গেছেমে মাসে যারা চাল সরবরাহ করেছে তারা ভালো লাভ করেছেএরমধ্যে হাটে ধানের দাম বেড়ে ১,০৫০-১,১০০ টাকা মণ হয়েছেএখন প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে ৪২-৪৫ টাকাতদুপরি গুদামে চাল দিতে গেলে পরিবহণ ও লেবার খরচ রয়েছেসরকারি দাম কেজিতে ৪০ টাকা  লোকসান হওয়ায় গুদামে চাল সরবরাহ থমকে গেছেধানের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি প্রসংগে তিনি আরো বলেন, বড় বড় অটো রাইচ মিলের মালিকরা ধান কিনে মজুদ গড়তে নেমে পড়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে

সাম্প্রতিক মন্তব্য