logo
news image

হারিয়ে যাচ্ছে লালপুরের মুচি শিল্প

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
সারা দেশ যখন কাঁসা-পিতল শিল্পের জয়জয়াকার, তখন ভাঙ্গা কাঁসা গলানোর কাজে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হয় মাটির মুচি। নাটোরের লালপুরের এক শ্রেণীর মানুষ এই তৈরিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে। এ এলাকার মানুষ এক সময় বাড়িতে খোলা আবহাওয়ায় খাবার লবন গলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতেও মুচি ব্যবহার করতো।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সিলভার, অ্যালুমিনিয়াম ও মেলামাইন সামগ্রী কাঁসা পিতলের জায়গা দখল করে নেয়। মানুষ সৌখিন সামগ্রীর দিকে ঝুঁকে পড়লে আস্তে আস্তে কাঁসা পিতল শিল্প বিলুপ্তির উপক্রম হয়। এক সময় লালপুরে গড়ে ওঠা রমরমা কাঁসা পিতল পট্টিও উঠে যায়। এরই মধ্যে লালপুরের মাটির মুচি তৈরির পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে কিছু পরিবার। বাপ-দাদার আমলের পুরাতন পেশাকে ছাড়াতে না পেরে তারা চরম দুর্দিনের মধ্যে পড়েছে। কথা হয় মুচি শিল্পী মকবুলের (৫৫) সাথে। মকবুল জানান, তার বাবা এবং দাদারাও এই মুচি তৈরির কাজ করেছেন। তিনি জানান, তার ছয় সদস্যের পরিবার এখনও এই পেশার ওপরেই টিকে আছেন। নজরুলের স্ত্রী রঞ্জনা (৩৫) বলেন, তাদের আট সদস্যের পরিবার এই কাজ করেই বেঁচে আছেন। তবে তাদের খুব কষ্ট। এ জিনিসের আগের মত চাহিদা নেই। তৈরী করা মুচি কুষ্টিয়া ও নাটোরে নিজ খরচে পৌঁছে দিয়ে আসতে হয়। লালপুরের কাঁসা পট্টি উঠে যাওয়ার পর এখন তারা বড়ই দুুর্দিনে পড়েছেন।
জানা যায়, কুষ্টিয়া ও নাটোরে এক’শটিএই মুচি সাড়ে ছয়শ টাকায় বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিলে একশ মুচি বিক্রি করে সাড়ে চার’শ টাকা থাকে। কিন্তু মাসে একশ’র বেশি মুচির চালান হয় না। তাই তারা বেশি মুচি ইচ্ছে করলেও তৈরী করতে পারেন না। বৃদ্ধ নাদের শেখ (৭৫) জানান, তার বাবা পোলাই শেখও এই কাজ করতেন। তিনি জানান, একজন লোক ইচ্ছে করলে দিনে ৬০ থেকে ১০০টি মুচি তৈরি করতে পারেন।
সরেজমিন শুক্রবার (৩০ এপ্রিল ২০২১) দেখা যায়, এখন লালপুরের উত্তর লালপুর ও জোতদৈবকি গ্রামে দুটি কারখানায় কাসাজ দ্রব্য উৎপাদিত হচ্ছে। এখানে ব্যবহৃত মুচি তারা নিজেরাই তৈরি করছেন।
উত্তর লালপুর কারখানার শ্রমিক মরিয়ম বেগম (৪২) বলেন, মুচি তৈরিতে এঁটেল মাটি, ধানের তুষ ও পোড়া কয়লার গুড়া/ছাই লাগে। নিজেদের তৈরি মুচিতে তারা লোহা গলানোর কাজ করেন। চক জোতদৈবকী কারখানায় মুচি বানানোর কাজ করেন মিনা (৭০)। আর গলানোর কাজে সহযোগিতা করেন শ্যামল কুমার কুন্ডু (৩৫)।
দেখা যায়, মুচি শ্রমিকরা অত্যন্ত মানবেতর পরিবেশে রাস্তার পাশে বাস করছেন। টিকে আছেন এই পেশার ৮/১০টি পরিবার। নতুন কোন পেশায় যোগ দিতে না পেরে তারা কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছেন। পাশে দাঁড়ানো জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তারা।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top