logo
news image

অসুস্থ বাবার স্বপ্ন পুরন করা হল নাইমুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়াইগ্রাম নাটোর
অসুস্থ বাবার চিকিৎষার স্বপ্ন পুরন করা হলনা স্নাতক শেষ করা নাইমুর রহমান শুভর। সন্তাসীর চুরিকাঘাতে তার সেই স্বপ্ন আজ অধরায়। লেখা পড়া শেষ না করেই চাকুরী নিয়ে ছিল অসুস্থ্য বাবাকে সুস্থ্য করার জন্য। সেই লক্ষ্যে পৌছে গিয়েছিল প্রায়। সন্ত্রাসীর ছুরিঘাতে সব স্বপ্ন ব্যার্থ হয়ে গিয়েছে। নাইমুর নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার তারা নগর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।
পারিবারিক সুত্রে জানাযায়, দুই ভায়ের মধ্যে ছোট নাইমুর। বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারী কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে অসুস্থ্য বাবার চিকিৎষার দ্বায়ীত্ব মাথায় নিয়ে নরসিংদী জেলার সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেড নামের একটি ভেটেরিনারি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী নেন। ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে যাবার দুই দিনের মাথায় তার এমন আকস্মিক মৃত্যুসংবাদে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার অসুস্থ বাবা-মাসহ স্বজনরা।
নাইমুরের স্বজনরা জানান, নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের পেছনে একটি মেসে ভাড়া থাকতেন নাইমুর। শনিবার তিনি দুই দিনের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে নরসিংদী যান। এ সময় আশিক নামে এক বন্ধুও তার সঙ্গে যায়। সোমবার ভোরে বন্ধুকে ঢাকায় যাওয়ার ট্রেনে তুলে দিয়ে তিনি মোটরসাইকেল যোগে মেসে ফিরছিলেন। নরসিংদী শহরের ভলানগরের চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে পৌছালে দুর্বিত্তরা ছুরিকাঘাতে মারা যায় নাইমুর। ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে নাইমুরের গ্রামে বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
চাচাতো ভাই বিপ্লব জানান, নাইমুরের বুক, হাতসহ শরীরের পাঁচ জায়গায় ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। লাশের পাশেই তার বাইকটি পড়ে ছিল। টাকা-পয়সা, মোবাইল সবই আছে, শুধু ভাই নেই। কী কারণে কারা তাকে হত্যা করেছে কিছুই বুঝতে পারছি না।
মঙ্গলবার সকালে নাইমুরের বাড়িতে দেখা যায়, তার মা বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাবা নিতর দেহ নিয়ে শুয়ে। মায়ের ও স্বজনদের কান্নায় যেন বাতাস ভারী হয়ে আসছে।
এ সময় নাইমুরের বৃদ্ধা দাদি টুলু বেওয়া বুক চাপড়ে বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার নাতি খুবই ভালো ছেলে। লেখাপড়া শেষ না হতেই চাকরি নিয়েছিল আমাদের জন্য। কিন্তু কারা আমার বুকের মানিককে কেড়ে নিল, এ বিচার কার কাছে চাইব।
নিহতের মা ইতি বেগম কান্না চাপতে চাপতে বলেন, আমি চাইনি ছেলে এখনই এতদূরে গিয়ে চাকরি করুক, কিন্তু বাবা অসুস্থ। সংসারের কথা ভেবে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাকরিতে গিয়েছে। কাজের ব্যাঘাত ঘটে বলে এবার এসে মাটরসাইকেল নিয়ে গেল। কিন্তু এভাবে খুনিরা আমার বুক খালি করে দিল, এখন আমাদের কী হবে?
নরসিংদী মডেল থানার ওসি বিপ্লব কুমার চৌধুরী মোবাইলে জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ভোর ৫টার আগে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। ভোরে হাঁটতে বের হওয়া স্থানীয় লোকজন খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। সেখান থেকে নিহত ব্যক্তির মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। কারা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top