logo
news image

জবাবদিহিতাহীন জনপ্রতিনিধি: দুভোর্গে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নাটোরের লালপুর উপজেলার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
প্রায় ১০ বছর ধরে লালপুর-বাউড়া, লালপুর-ওয়ালিয়া, লালপুর-বিলমাড়িয়া, লালপুর-ঈশ্বরদী, লালপুর-বাঘা ও গোপালপুর-আব্দুলপুর সড়কে বড় ধরনের মেরামত কাজ করা হয়নি। জবাবদিহিতাহীন জনপ্রতিনিধিদের কারণে এতে এসব সড়ক যানবাহন চলাচলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কার্পেটিং উঠে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে এসব সড়কে। জীবনের ঝুঁকির পাশাপাশি পথচারীদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। কবে নাগাদ এসব সড়ক মেরামত করা হবে তা বলতে পারছেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সড়ক সংশ্লিষ্টরা।
লালপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে লালপুর-বাউড়া, লালপুর-ওয়ালিয়া, লালপুর-বিলমাড়িয়া, লালপুর-ঈশ্বরদী, লালপুর-বাঘা ও গোপালপুর-আব্দুলপুর সড়কে বড় ধরনের মেরামত কাজ করা হয়নি। এতে এসব সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই খানাখন্দ পানিতে ভর্তি হয়ে যায়। আচমকা গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন নষ্ট হচ্ছে, পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হতাহত হচ্ছে। গন্তব্যে পৌঁছতে যানবাহনগুলোর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
সম্প্রতি এক দুপুরে এসব সড়কে চলাচল করে যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। ধীর গতি ও অত্যধিক ঝাঁকিতে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের বিরক্ত হতে দেখা গেছে। লালপুর-ওয়ালিয়া সড়কের গোপালপুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশা সড়কের পানিভর্তি গর্তে পড়ে উল্টে গেছে। এতে দুই শিশুসহ অন্তত ছয় যাত্রী আহত হন। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা সবাই মিলে রিকশাটি ওঠানোর চেষ্টা করছিলেন।
একই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে লালপুর-বাউড়া সড়কের গবরপুরে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে খোয়া ও পিচ উঠে গিয়ে মাটি বের হয়ে গেছে। লালপুর-ঈশ্বরদী সড়কের লালপুর থেকে গোকুলনগর পর্যন্ত সড়কে বড় বড় গর্ত হওয়ায় ছোট ও মাঝারি যানবাহন চলাচল কমে গেছে। অনেকে মূল সড়ক ছেড়ে আড়মবাড়িয়া বাজার থেকে পদ্মার বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। লালপুর-বিলমাড়িয়া সড়কের চার কিলোমিটার অংশে এক হাত সড়কও ভালো নেই। লালপুর-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কে লালপুর থেকে ছয়খুটি পর্যন্ত বড় বড় গর্ত হয়েছে। সব ধরনের যানবাহনকে এই সড়কে খুবই ধীর গতিতে চলাচল করতে দেখা যায়।
ট্রাকচালক শাজাহান আলী বলেন, লালপুরের সড়কগুলোতে ট্রাক চালাতে মাথা ঘুরে যায়। দৃষ্টিশক্তি এলোমেলো হয়ে যায়। কারণ এসব সড়কে অসংখ্য গর্ত হয়েছে। গর্ত বন্ধ করতে সড়ক বিভাগ আস্ত ইট দিয়েছে। এতে গাড়ির ঝাঁকি আরও বেড়ে যায়। লালপুরের থ্রি-হুইলার চালক মো. কলম বলেন, অসংখ্য গর্তের কারণে লালপুর থেকে ঈশ্বরদী সড়কে দিনে একবারের বেশি যাওয়া যায় না। ২০ মিনিটের রাস্তা যেতে হয় এক ঘণ্টায়। গোপালপুরের অটোরিকশা চালক মুনছুর আলী বলেন, ‘শেষ কবে যে এই সড়ক ভালো করে মেরামত করা হয়েছে, তা মনে নেই। সড়কের গর্তে পড়ে আমার অটোরিকশা তিনবার উল্টায় গেছে। পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় করিছি গাড়ি সারতে।’
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘সড়কের সমস্যা আমাদের জানা আছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় ভালো করে মেরামত করা যাচ্ছে না। তবে ইট দিয়ে জরুরি মেরামত করা হচ্ছে।’
লালপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মুল বানিন দ্যুতি বলেন, লালপুরের সঙ্গে জেলা শহরে যাতায়াতের সব সড়কের বেহাল দশা। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। দেখা যাক কবে নাগাদ মেরামত হয়।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম নিজেও সড়কের বেহাল দশায় বিরক্ত। তিনি বলেন, ‘সড়কগুলো ভালোভাবে মেরামতের জন্য আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিশেষ চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছি, ফোন করেও কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়েছি।’

সাম্প্রতিক মন্তব্য