logo
news image

শিশু-কিশোর সংশোধনাগার কেন মৃত্যুকূপ?

প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম।।
বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে শিশু আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের জন্য টঙ্গীতে ‘জাতীয় সংশোধনী ইন্সটিউিট’ স্থাপিত হয়। ১৯৭৮ সাল থেকে এর কার্যক্রম চালু হয়। তখন সেখানে একটি কিশোর আদালত, একটি হাজত (রিমান্ড হোম) ও একটি শিশু-কিশোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল শাস্তি বিধানের পরিবর্তে শিশু- কিশোর অপরাধীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে সংশোধন পন্থা নির্ধারণ করা। প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ ছিল- শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগত অপরাধীদের ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করে সমাজে খাপ খাইয়ে বসবাস উপযোগী করে নিজ নিজ পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়া। ওরা শিখতো- সাধারণ শিক্ষা (নবম ও দশম শ্রেণি), কারিগরী শিক্ষা (দর্জি, কাঠ, ড্রাইভিং, বিদ্যুৎ, রেডিও, টিভি, ফ্রীজ, গাড়ি মেরামত ইত্যাদি)। এছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা, বিনোদনমূলক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা (আদব-কায়দা, ভদ্র ও মার্জিত ব্যবহার) এবং শরীর চর্চ্চাও তাদের শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভূক্ত ছিল।
এরপর ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র তৈরী করা হয়। এখন এ ধরনের কেন্দ্রের সংখ্যা তিনটি। দু’টি বালক ও একটি বালিকাদের জন্য। গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে বালক ও বালিকাদের জন্য আলাদা দ’ুটি এবং যশোর জেলার পুলেরহাটে বালকদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এগুলোর আসন সংখ্যা মোট ৬০০। টঙ্গীতে বালকদের জন্য ৩০০ জন ও কোনাবাড়িতে বালিকাদের জন্য ১৫০ জন এবং পুলেরহাটে ১৫০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। তবে প্রায়শই: বালকদের সংখ্যা বেশী থাকে। কিছুদিন আগে টঙ্গীতে ৩০০ জনের বিপরীতে ৪৭৮ জন থাকার কথা জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে নানা সমস্যার কথা শোনা গেলেও গত ১৩ আগষ্ট ২০২০ তিনজন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা জাতির বিবেকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। সর্বপ্রথম গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় যে, সেখানে বিবাদমান দ’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। মারামারিতে তিনজন নিহত এবং পনেরজন আহত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আহত কিশোরদের বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেধড়ক মারধরের ফলে ওরা মারা যায়। পুলেরহাটের শিশু উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটিতে ২৮০ জন থাকে। হাসপাতালে বেডে শুয়ে থাকা কয়েকজন আহত কিশোরের বক্তব্যে জানা গেছে, সেদিন কর্তৃপক্ষের দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় ওরা হতাহত হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে (বিডিনিউজ ২৪ ডটকম আগষ্ট ১৪, ২০২০), এই মারধরের ঘটনার সত্যতা ও যৌক্তিকতা রয়েছে। সংবাদে পুলিশের একজনের বক্তব্য থেকে জানা গেছে- “এখন যারা হাসপাতালে তারাই এর মূল সাক্ষী। মৃত্যুপথযাত্রী কেউ মিথ্যা কথা বলে না। তাদের কথার সত্যতা ও যৌক্তিকতা রয়েছে।”
একজন কিশোর বলেছে, প্রতিষ্ঠানটির  ২০০ জনের চুল কেটে তার হাত ব্যথা হয়েছিল। হেড আনসার গার্ড তাকে চুল কাটতে বললে সে হাতের ব্যথার জন্য কাটতে পারবে না জানালে উক্ত গার্ড তাকে গালাগালি করে। একথা সে তার সহ-কিশোরদের জানালে কিশোররা গার্ডকে মারে। গার্ড কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করে যে কিশোররা মাদকদ্রব্য সেবন করে তাকে মেরেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিগণ উক্ত কিশোরদেরকে অফিসে ডেকে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখায় ও বেদম প্রহার করে আহত করে বাইরে যেখানে সেখানে ফেলে রাখে। এরপর একজন করে মারা গেলে তাদেরকে হাসপাতালে আনা হয়। সেদিন রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিনজন মারা গেলে তাদেরসহ অন্যান্যদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। নিহত কিশোর পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা যশোর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী তেরজন। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন কর্মকর্তাসহ সাত বন্দীকে শ্যেন এ্যারেষ্ট দেখানো হয়েছে। পরিচালকসহ পাঁচজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২০ আগষ্ট পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামীরা কারাগারে থাকায় তদন্ত কমিটি তাদের বক্তব্য নিতে পারেননি।
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর উদ্দেশ্য হলো- “শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী আইনের সাথে সংঘর্ষে জড়িত বা সংস্পর্শে আসা শিশু বা অভিভাবক কর্তৃক প্রেরিত শিশুদের উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে একীভূত করার লক্ষ্যে শিশু (কিশোর/কিশোরী) উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালিত করা... স্বীকৃত পদ্ধতিতে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও অভিভাবক কর্তৃক প্রেরিত শিশুদের কেইস ওয়ার্ক, গাইডেন্স, কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, ভরণপোষণ, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসিত/ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”
শিশু আইন-২০১৩ অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযোগে আটক শিশুরা যাতে সাধারণ কারাগারে বড়দের সংস্পর্শে এসে বড় অপরাধী না হয়ে পড়ে, সে জন্য তাদের আলাদা রেখে সংশোধন করার জন্যই এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়।
এজন্য কেন্দ্রগুলোতে যেসব সেবা প্রচলিত থাকার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো- বিভিন্ন থানায়/কারাগারে আটকৃতদের শিশুদের প্রবেশন অফিসার কর্তৃক শিশু আইন অনুযায়ী বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করা। সেজন্য- “বিভিন্ন কারাগারে আটক শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তর; শিশু আদালত কর্তৃক প্রেরিত শিশুকে গ্রহণ; রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রদান; ভরণপোষন, শিক্ষা, বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান; শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক উৎকর্ষতা সাধন; কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়ন; পরিচয়হীন শিশুর আত্মীয়-স্বজনকে খুজে বের করা; সমাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা;” এবং নিয়মিত ফলো আপ করা।
উপরিউক্ত সেবাগুলোর অর্থ হলো একজন বিপথগামী শিশু-কিশোরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে পরিবার ও সমাজে খাপ খাইয়ে চলতে শক্তি যোগান দেয়া। এজন্য “সমাজসেবা অধিদফতরের প্রতিষ্ঠান শাখা শিশু (কিশোর/কিশোরী) উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহ পরিচালনা করে। পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক সদর দপ্তর পর্যায়ে এবং মাঠপর্যায়ে ৩ জন তত্ত্বাবধায়ক শিশু (কিশোর/ কিশোরী) উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট। জেলা পর্যায়ের ৩টি জন উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক মাঠ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান তদারকি এবং মাঠ পর্যায় ও সদর দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকেন। মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি শিশু (কিশোর/ কিশোরী) উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট শিশু (কিশোর/কিশোরী) উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক উক্ত কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করেন।” এজন্য অনুসরণকৃত সংশ্লিষ্ট আইন বিধি হলো- শিশু আইন ২০১৩ এবং প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিনেন্স ১৯৬০।
মোদ্দাকথা, পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। এই দর্শন এখানে অনুসরণ করা হয়ে থাকে। এগুলো খারাপ, বিপথগামী কোমলমতি শিশু-কিশোরদেরকে মোটিভেশনের মাধ্যমে সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য তৈরী করা হয়েছে। এখানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের চাকুরী কোন সাধারণ চাকুরী নয়। এগুলো উচ্চমার্গের মানবসেবাদানের  জন্য নিবেদিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কেন্দ্রগুলো এখন যে তাদের স্বকীয়তা হারিয়ে সাইনবোর্ডসর্বস্ব সাধারণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। তার করুণ পরিণতি আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করে আসছি।
বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা যারা এসকল প্রতিষ্ঠনে টানা ৬০ দিবসের মাঠকর্মে অংশ নিয়েছে তারা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছে। নীতি নির্ধারকগণ সেগুলো কখনোই আমলে নেননি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কথা সমাজ উন্নয়ন নীতিতে থাকলেও সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বরাবরই উপেক্ষা করা হয়। তাই তারা উদাসীন থাকে। এখানকার সেবাদানকারীদের নিয়োগ কখনোই যথাযথ সাইকোলজিক্যাল টেষ্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয় না।
জানা গেছে- কেন্দ্রগুলোতে লেখাপড়ার বালাই নেই। শরীরচর্চ্চা নিয়মিত হয় না। আদব-কায়দা শেখানোর দক্ষ কারিগর নেই। উল্টো তারা বেয়াদবি রপ্ত করে। তা না হলে একটি শিশু বা কিশোর কেন একাই ২০০ জনের চুল কেটে হাত ব্যথার জন্য গার্ডের চুল কাটতে অনীহা প্রকাশ করবে? তাছাড়া প্রচারিত সংবাদ দৃষ্টে মনে হচ্ছে চুল কাটতে অপারগতা প্রকাশের ঘটনা থেকে তিনজনের করুণ মৃত্যু সংঘটিত হবার মত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এতজনের চুল কাটানোর মাধ্যমে কি একজন কিশোর অপরাধীকে সংশোধন করনো যায়? তাহলে এই কাজ করার জন্য একজন গার্ড কেন একজন কিশোরকে চাপ দেবে বা গালাগালি করবে? এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য তো সেটা নয়। মাদকদ্রব্য সেবন করে কিশোররা গার্ডকে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এত প্রশিক্ষিত পাহারাদার থাকতে মাদকদ্রব্য কীভাবে কেন্দ্রের ভেতরে আসে? তাদের সহযোগিতা ব্যতিত সেখানে কখনই মাদকদ্রব্য ঢুকতে পারে না। একজন পুলিশ কর্মকর্তার উদ্বৃতি দিয়ে বিবিসি বাংলা (আগষ্ট ১৪, ২০২০) জানিয়েছে, “কেন্দ্রটির ভেতরে থাকা-খাওয়াসহ অভ্যন্তরীণ আরও নানা বিষয়ে অব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর আগে থেকেই অসন্তুষ্টি ছিল এই কিশোরদের।” বিবিসি আরো জানায় তিনি বলেছেন, “এটা একটা কারাগার। এখানে কোন হত্যা মানে কাস্টডিয়াল ডেথ।” একটি শিশু-কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধনী প্রতিষ্ঠান যদি কারাগার হয়ে থাকে তাহলে সেই কারাগারে মাদকদ্রব্য ঢুকে কোন পথে, মাদকের ব্যবহারই বা হয় কোন নিয়মে?
এছাড়া, চিকিৎসার অপ্রতুলতা, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, টয়লেট পরিষ্কার করানো, খাবার কম দেয়া, মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা, যৌন নিপীড়ন করা ইত্যাদি কেন্দ্রগুলোর ভেতর যেন বাঁধাধরা ঘটনা। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কোনাবাড়ীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবাসী মনিরা বেগম আত্মহত্যা করে। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি টঙ্গী কেন্দ্রের ভেতরে নিজেদের শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে ২০ কিশোর। হাসপাতালে তারা জানায়, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নির্যাতন ও ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার প্রতিবাদে তারা এ ঘটনা ঘটায়। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ এই কেন্দ্রে টেকনাফের নয়াপাড়া এলাকার এক কিশোরকে বলাৎকার করে চার নিবাসী (সমকাল নভেম্বর ১৮, ২০১৭)। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের এক শিশু বলেছিল, এখানে ভাতে বাজে গন্ধ, ভাতের মধ্যে কি কোন ওষুধ দেয় হয়? শিশু আলামিনের মা বলেছিল- তার ছেলে জানিয়েছে এখানে সারা সপ্তাহ ডাল ভর্তা খাওয়ানো হয়, একদিন মুর্গী দেয়া হয়। নিম্নমানের খাবার খেয়ে অনেকের পেটের অসুখ হয়। একটি বিত্তশালী ঘরের শিশুকে যদি সবার সামনে টয়লেট পরিষ্কার না করার জন্য তিরস্কার করা হয় তাহলে সেটাতে তার আত্মমর্যাদার হানি ঘটতে পারে। অপরাধের সংশোধন না হয়ে তার ভেতরে ক্ষোভ ও ঘৃণা জন্ম নিয়ে উল্টো প্রতিক্রিয়া পারে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা ও গাফিলতি এসকল শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিত্য সমস্যা। যার ফলে একজন গার্ড খুব সহজেই শিশু-কিশোরদেরকে নির্যাতনমূলক কাজের অর্ডার করতে পারে। ওদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মাদকদ্রব্যে ব্যবহারের অভিযোগ করতে সাহস করতে পারে। সেখানে মাদকদ্রব্য খুঁজে পেলে প্রথমেই তার নিজের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এজন্য সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়। অথচ, সেই কি-না মাদক ব্যবহারের জন্য অন্যকে অভিযোগ করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে সেখানে কী ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
দিনে দিনে এসব নাজুক অবস্থা হত্যাকান্ডের মত ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফেলেছে। এ অবস্থা দেখে মানুষ কেন্দ্রগুলোর ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত মাদক ব্যবসা ও ফায়ারওয়ালহীন ইন্টারনেটের বদৌলতে সারা দেশে শিশু-কিশোরদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছে সহজলভ্য পর্ণোগ্রাফি ও যৌনতা সম্বলিত নানা এ্যপস্। অন্যদিকে প্রতারণা, হিরোইজম ও হীন রাজনীতির নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে সন্ত্রাস। রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারীদের লাগামহীন ঘুষ-দুর্নীতির ফলে সামাজিক নিয়ন্ত্রণহীনতায় যুব-কিশোর গ্যাং কালচার মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে। পাশাপাশি শিশু-কিশোর উন্নয়ন বা সংশোধন কেন্দ্রগুলো যথার্থ সেবা না দিয়ে মৃত্যুকূপ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এজন্য দায়ী কে? তাহলে কি আমাদের দেশে শিশু-কিশোর অপরাধীদের কোন যথার্থ সংশোধন ব্যবস্থা থাকবে না?

* প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top