logo
news image

লালপুরে তিন কারখানায় এক লক্ষ ৮০হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নাটোরের লালপুরে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানা। এসব ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানায় মাঝে মধ্যেই অভিযান চালায় র‌্যাব, পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। বড় ধরনের জরিমানাও করা হয়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। প্রতিনিয়ত ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের ভেজাল গুড় তৈরীর তিনটি কারখানায় একযোগে অভিযান চালায় র‌্যাব-৫। এসময় বিপুল পরিমানে ভেজাল গুড়, গুড় তৈরীর বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থসহ তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উম্মুল বানীন দ্যুতি এর ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে আদালত তিন কারখানা মালিককে মোট এক লাক্ষ ৮০ হাজার টাকা জরিমান করেন।
র‌্যাব-৫ সিপিসি-২, নাটোর কোম্পানী কমান্ডার এএসপি রাজিবুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের ভেজাল গুড় তৈরীর তিনটি কারখানায় একযোগে অভিযান চালান তারা। এসময় সাত হাজার ৫০০ কেজি ভেজাল গুড়, ১৫ কেজি ফিটকারী,এক কেজি ডালডা, পাঁচ কেজি হাইড্রোজ, এক কেজি চুন, দুই লিটার ক্ষতিকারক রং সহ তিন জনকে আটক করেন। আটককৃতরা হলো ওই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে আবু হাসান (২৫), শরিয়তের ছেলে সাগর (২৭) ও মৃত আজবারের ছেলে মিজানুর রহমান। পরে তাদের ওই ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে আদালত আবু হাসানকে এক লক্ষ টাকা, সাগরকে পঞ্চাশ হাজার একং মিজানুর রহমানকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমান করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লালপুরের এক গুড় ব্যবসায়ী জানান, ভেজাল গুড়ের কারখানার কারনে তাদের ব্যবসা লাটে উঠতে বসেছে, ভালো গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় সেটা কেউ নিতে চায়না, অপরদিকে ভেজাল গুড়ের দাম কম ও রং ভালো হওয়ায় মহাজনদের নজর সেটার দিকেই বেশি। তিনি আরো জানান,উপজেলায় কমপক্ষে ছোট বড় প্রায় অর্ধশত ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানা আছে বলে ধারনা করা হয়। আর এসব কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৩০-৫০ লক্ষ টাকার ভেজাল গুড় তৈরী করা হয়। এসব কারখানা মালিকদের বাড়ি বিশেষ ভাবে তৈরী। চারিদিকে পাঁচি বিশিষ্ট এবং বাহির থেকে কোন কিছু বোঝা যায়না। এসব বাড়িতে দিন রাত চলে গুড় তৈরী। আবার কোন কোন বাড়িতে গোপন ঘর আছে। আর এসব ঘরে মজুদ করা হয় হাজার হাজার মন ভেজাল গুড়। অপর এক ব্যাবসায়ী জানান, এ ব্যাবসায় এতো পরিমানে লাভ যে,  লাখ লাখ টাকা জরিমানা করলেও কারখানা মালিকদের খুব একটা ক্ষাতি নেই, তাই বন্ধ হচ্ছেনা ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানা। ভেজাল গুড় তৈরীর কারখানা বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, নিয়োমিত অভিজান চলছে তুবও কেন যানি বন্ধ হচ্ছেনা এসব কারখানা, তবে আগামীতে অভিযান আরো জোরদার করা হবে এবং কিভাবে এসব কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যায় তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য