logo
news image

সংসদ সদস্য মমতাজ উদ্দিনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

আবুল কালাম আজাদ।।
আজ শনিবার (৬ জুন ২০২০), শহীদ জননেতা মমতাজ উদ্দীনের ১৭তম  শাহাদাৎ বার্ষিকী। শহীদ মমতাজ উদ্দীনের মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ( ঢাকা, রাজশাহী, নাটোর) বিভিন্ন ক্ষেত্রে (সিআইডি, পুলিশ, জুডিশিয়াল) বহু ঘাত প্রতিঘাত, অত্যাচার এমন কি জীবনের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়েছে বহুবার। তেমন একটা ঘটনা, একদিন নাটোর কোর্ট শেষ করে বাড়ি ফিরবো। এমন সময় নাটোরের একজন পুলিশ অফিসার আমার কাছে এসে বললেন আগামীকাল আপনাদের মমতাজ উদ্দীন হত্যা মামলার নারাজির শুনানি আছে। আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। তিনি বললেন, আপনি আগামীকাল কোর্টে আসবেন না। একদিনের জন্য পোষ্টিং হয়ে ঢাকা থেকে নতুন একজন বিচারক এসেছেন, উনি আপনার মমলার নারাজি নামঞ্জুর করে চলে যাবেন। আপনার আগামীকাল কোর্টে আসা জীবনের ঝুঁকি হবে, প্রতি রাস্তায় আপনাকে মার যখম এমন কি খুন করা হতে পারে। আপনার একজন হিতাকাঙ্খী হিসাবে আপনাকে এই গোপন তথ্যটুকু বললাম। এইটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। নাটোর থেকে বাড়ি চলে আসলাম। কিভাবে কোর্টে যাবো, এই ভেবে খুব দুঃশ্চিন্তা-ই হচ্ছিলো। রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমার সিনিয়র এ্যাডভোকেট শ্রদ্ধেয় আওয়াম ীলীগ নেতা ইউসুফ ভাই ফোন করে বললেন, কালকে কোর্টে আসার আগে যেভাবে-ই হোক, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও এই মামালার ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান‌ (মমতাজ ভায়ের বন্ধু মানুষ), তার বাসায় যাবে তার সাথে দেখা করবে। যেভাবেই হোক তার সাথে কথা বলবে। আমি পরের দিন ভোর পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটার দিকে শুধু তিতাসের আম্মাকে বলে, পল্লব, তুষার অনেক ছোট তাদেরও কিছু না বলে রাস্তায় আমায় কেউ চিনতে না পারে সেই জন্য আমার মটরসাইকেল পরিবর্তন করে, হেলমেট পরে , রেইনকোর্ট পরে, নাটোরে মুজিবুর রহমানের বাসায় পৌছলাম। যাকে বিএনপি জামায়াত সরকার মমতাজ উদ্দিনের মামলাটি শেষ করে দেওয়ার জন্য এনেছিলো। উনি আমার সব কথা শুনে বললেন, আমি সার্কিট হাউজে না থেকে বোনের বাসায় থাকছি। মমতাজ ভাইয়ের মামলার বিষয়ে শুনে তার বোন বললেন, মমতাজ ভাই অনেক ভালো মানুষ। তিনি বহুবার আমাদের বাসায় এসেছেন খাইছেন, থেকেছেন। এই কথা শুনে তিনি আমাকে বললেন, আপনি কোর্টে যাবেন এবং নারাজি শুনানি করবেন না এই মর্মে একটা দরখাস্ত দেবেন। আপনার প্রতিপক্ষ হয়তো এইটা শুনতে চাইবে না, চিল্লাচিল্লি করবে কিন্তু এর মধ্যেই আমি আপনার পক্ষে একটা আদেশ দিয়ে দেবে। তারপর আমার প্রমশন হোক আর ডিমশন হোক আমি এখান থেকে চলে যাবো। আমার মনে পড়ে সেদিন কোর্টে সিংড়ার শাহাজাহান ভাইয়ের ছোট ভাই এ্যাডভোকেট শামসুল হক আমাদের পক্ষে প্রচন্ড ভূমিকা রাখেছিলো। আমাদের হানিফ ভাই, শাহজাহান ভাই, এ্যাডভোকেট আনিসুর, মিজানসহ বিশ থেকে পঁচিশ জন উকিল শুনানীতে অংশগ্রহণ করলাম। চারিদিকে ডিবি, পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো। বিএনপি জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রচন্ড বাঁধার সম্মুখীন হলাম, তারা খুব চিল্লাচিল্লি করছিলো। পরিস্থিতি এমন যে আমরা কথা বললেই গ্রেফতার করবে। বিচারক কোন কথা বললেন না। তিনি মাথা নিচু করে আদেশ লিখে গেলেন। তিনি কোর্ট থেকে নামার পূর্বে আমার দরখাস্তকে গ্রহন করলেন এবং মমলাকে এই অবস্থায় রেখে গাড়িতে করে জয়পুরহাটে চলে গেলেন। আমরা সেদিন বিএনপি, জামাতের অনেক তোপের মুখে কিন্তু কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আমরা সকল আইনজীবীরা নাটোর কোর্ট থেকে বের হয়ে আসলাম। শহীদ মমতাজ উদ্দীনের এই মমলা পরিচালিত করতে গিয়ে বহু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। বহুবার জীবন, মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়েছে।
আজকের এই দিনে এই কথা টুকু মনে পড়ে..
জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু।
পরিচিতি:
নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর মিল্কিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জনপ্রিয় নেতা মমতাজ উদ্দিন। পিতা বিয়াকুল প্রামানিক, মাতা আবেজান বেওয়া। বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য ছিলেন। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ (১৯৮৬-১৯৮৮) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মমতাজ উদ্দিন (লালপুর) রিকসা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মমতাজ উদ্দিন ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি নাটোর জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ফজলুর রহমান পটলের নিকট পরাজিত হন।
২০০৩ সালের ৬ জুন মমতাজ উদ্দিন মৃত্যু করেন। ওই দিন রাত ১০টার সময় নাটোরের গোপালপুর-আব্দুলপুর সড়কের দাঁইড়পাড়া নামক স্থানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।


* আবুল কালাম আজাদ: এ্যাডভোকেট, সাবেক সংসদ সদস্য, ৫৮ নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এবং শহীদ মমতাজ উদ্দিনের ছোট ভাই।

সাম্প্রতিক মন্তব্য