logo
news image

নাটোর পবিস-২ এর গ্রাহকদের দূর্যোগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত দিতে মাঠে গেরিলারা

আব্দুল কাদের সজল, বড়াইগ্রাম নাটোর
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় অবস্থতি নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ আলোর ফেরিওয়ালার পর এবার মাঠে নেমেছে আলোর গেরিলা। কোভিড-১৯’র বিশ্ব বিপর্যয়ের মধ্যে দেশের গ্রামীণ জনপদে নিবরচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহে তাদের এই উদ্যোগ। এর আগে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) দেশের সকল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলোর গেরিলা গঠণের নির্দেশ প্রদান করে। সেই মোতাবেক সমিতির সকল শ্রেণি পেশার প্রায় চার লাখ গ্রাহকে স্বস্তিতে রাখতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহক স¤প্রসারণে এর আগে আলোর ফেরিওয়ালা মাঠে নামিয়েছিল আরইবি। আবেদনের মাত্র পাঁচ মিনিটে বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে সারাদেশে সুনাম কুড়িয়েছিল । আর এবার বিতরণ ব্যবস্থা গ্রাহক বান্ধব করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপপ্রবাহে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুত বিভ্রাটের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার ঝড় বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন থাকে। উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও বিতরণে এই চিত্র সকলকে হতাশ করে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিতরণ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রামে গাছপালার মধ্য দিয়ে লাইন নির্মাণের পাশাপাশি মানুষের বাড়ি ঘরের ওপর দিয়েও লাইন রয়েছে। একবার ঝড় হলে এসব লাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বিদ্যুত সরবরাহ করলে ভয়ঙ্কর বিপদ ঘটতে পারে। সঙ্গত কারণে লাইন সারানো এবং পর্যবেক্ষণে কিছুটা সময় লেগে যায়। তবে এতে গ্রাহকের ভোগান্তি হয়। তাই শুধু দিনের বেলায় নয় ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে আলোর গেরিলারা । এতে মানুষের বিদ্যুত বিভ্রাট নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা যায়, আরইবিবির নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার মাঠে নেমেছে আলোর গেরিলা দল। এই সমিতির সদর দপ্তরে ৪টি, যোনাল অফিস চারটিতে তিনটি করে ১২টি এবং দশটি অভিযোগ কেন্দ্রে ১টি করে মোট ২৬টি গেরিলা দল গঠন করে অভিযান শুরু হয়েছে । আরইবির নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি গেরিলা দলে মূল/বিকল্প ইউনিট প্রধান একজন, লাইনম্যান দুইজন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (সুপার ভাইজার/ ফোরম্যান/ লাইনম্যান) দুইজন, নিয়মিত/প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্রামের ইলেকট্রিশিয়ান দুইজন। এই পাঁচজনের বাইরে প্রয়োজন অনুসারে বাইরের শ্রমিক নেয়া যেতে পারে। প্রত্যেকটি ইউনিটে একের অধিক গেরিলা দল গঠন করতে হবে। একটি গেরিলা দল বিদ্যুত বিভ্রাটের খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে রওনা দেবে একই সাথে অন্য একটি দল প্রস্তুত থাকবে। এরবাইরে অন্যান্য গেরিলা দল এমনভাবে প্রস্তুত থাকবে যাতে ১৫ মিনিটের মধ্যেই তারা প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে পারে। এই দলগুলো ১২ ঘন্টার শিফটিং সিস্টেমে ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব চালন করবেন। প্রতিটি শিফটে একবার করে সমিতির ব্যয়ে খাবার দুপুর /রাতের খাবার সরবরাহ এবং রমজান মাসে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহিরি সরবরাহ করা হবে।
সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোমীনুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে আবির্ভূত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশেও বিস্তৃত হচ্ছে। এ বিস্তৃতি প্রতিরোধের জন্য সাধারণ ছুটি এবং চলাচল ও গমনাগমনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ এলাকা লক-ডাউন ঘোষিত হয়েছে। এতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থী এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছেন। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল/চিকিৎসা কেন্দ্র, আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া, সেচ মৌসুমও চলছে। উপরন্তু, গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা দিনে দিনে বৃদ্ধির পাশাপাশি ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। গ্রীষ্ম মৌসুমের স্বাভাবিক ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে আগামী ২৪/২৫ এপ্রিল থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিবদের চিকিৎসা সেবা দেয়া আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিবর্গের অবস্থান আরামদায়ক করা, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেচ কার্যক্রম নির্বিঘেœ পরিচালনা করা, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এবং গ্রীষ্মের এ দিনে রোযাদারদের সিয়াম সাধনা আরামদায়ক করতে আরইবির নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top