logo
news image

মোগল স্থাপত্য: লালপুরের বাওড়া ও নাবিরপাড়া শাহী মসজিদ

হাফিজ আহমেদ
[সারমর্ম: বঙ্গীয় স্থাপত্য মুসলিম শাসকদের চিন্তা আকাঙ্ক্ষা ও রুচি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। তুর্কি, আফগান এবং মোগল শাসকগণ সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্থাপত্যের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন। বাংলার মুঘল স্থাপত্য, বিশেষত মসজিদ স্থাপত্য ছিল আগ্রার, ফতেপুর-সিক্রি এবং দিল্লির উচ্চ ভারতীয় রাজকীয় মুঘল স্থাপত্যের একটি প্রাদেশিক সংস্করণ। বাংলার মসজিদ স্থাপত্যগুলো কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় সরকার, জমিদার এবং ধণাঢ্যদের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল। এটি লক্ষণীয় যে, এসব মসজিদগুলো কমবেশি ১৭ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে শুরু করে এবং বিভিন্ন ধরণের নির্মিত হয়। এর মধ্যে এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার এবং তিন গম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদ সর্বাধিক লক্ষ্য করা যায়। আয়তাকার তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ মুঘল শাসনামলে বাংলাদেশে সর্বাধিক জনপ্রিয় ছিল এবং এগুলো অন্যান্য ধরণের তুলনায় সংখ্যায় বৃহত্তর। এটি মূলত দুই প্রকারের- (ক) সমাকৃতির তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ এবং (খ) বৃহদাকার মধ্য গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। এই গবেষণায় বাওড়া মসজিদ এবং নবীরপাড়া শাহী মসজিদের স্থাপত্যশৈলী এবং অন্যান্য বিশেষত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে যা বাংলার তিন গম্বুজবিশিষ্ট শৈলীর বিভিন্ন ধরনের মুঘল মসজিদের সামঞ্জস্যপূর্ণ।]
ভূমিকা: খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী কর্তৃক বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে এ দেশে মুসলিম-শাসন যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়, তেমনি সংস্কৃতির বৃহত্তর পরিমণ্ডলে স্থাপত্য শিল্পের ইতিহাসে মুসলিম স্থাপত্যের সূচনা হয়। খলজি মালিকদের অধীনে ১২৯৮ খ্রিস্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত যেসব স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল তার কোনো নিদর্শনই বর্তমানে নেই। ১২৯৮ খ্রিস্টাব্দে ত্রিবেণীতে (১) জাফর খান গাজীর নির্মিত মসজিদটি বহু সংস্কারের মাঝে এখনো বিদ্যমান রয়েছে। সুলতানি আমলেবাংলায় মুসলিম স্থাপত্য নির্মাণের যে ধারা সূচনা হয়েছিল, ইলিয়াস শাহী আমলে (১৩৪২-১৪১৫ খ্রি.) তা চরম শিখরে উন্নীত হয় এবং হোসেন শাহী আমলে (১৪৯৩-১৫৩৮ খ্রি.)আরও গতি সঞ্চারিত হয়ে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে; এমনকি আসাম ও বিহারেও। (২) রাজমহলের যুদ্ধে (১৫৭৬ খ্রি.) দাউদ খান কররানির পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। মোগল শাসনামলে ঢাকাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য মসজিদ নির্মিত হয়। মোগল-আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর দেয়াল সুলতানি আমলের মসজিদের চেয়ে অনেক কম প্রশস্ত। অলঙ্করণগত দিক থেকেও বেশ পার্থক্য দেখা যায়। (৩) পুরাতন রাজশাহী জেলা ভ্রমণ করলে মোগল- আমলে নির্মিত অসংখ্য মসজিদ দেখা যায়। এসব মসজিদের মধ্যে নাটোর জেলার অর্ন্তগত বাওড়া (৪) ও নাবিরপাড়া (৫) শাহী মসজিদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আলোচ্য প্রবন্ধে মসজিদ দুইটির স্থাপত্যশৈলী, নির্মাণকাল এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার প্রচেষ্টা রয়েছে।
বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদ স্থাপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শাসক শ্রেণীর ধর্মীয় মানসিকতার সাথে সাথে তাদের রাজনৈতিক কারণও নিহিত ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী ও অমুসলিমদের কাছে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও বাহুবল প্রদর্শন করতে বাংলার শাসকগোষ্ঠী ও তাদের অনুগত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ মসজিদ-মাজার নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের ধর্মীয় ইমারতের নির্মাণ উপকরণ মসজিদে ব্যবহার এবং কোনো কোনো সময় তা অক্ষত রেখে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়েছে। খলিফা আল ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫ খ্রি.) দামেস্কে খ্রিস্টানদের নিকট থেকে গীর্জার জায়গা ক্রয় করে এবং সেখানে অবস্থিত প্রাচীন দেবমন্দিরের চারটি মিনার অক্ষত রেখে ‘দামেস্ক মসজিদ’ নির্মাণ করেন। (৬) বাংলার মসজিদ স্থাপত্যেও মন্দিরের ব্যবহৃত নির্মাণ উপাদানের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। উদাহরণ স্বরূপ নওগাঁ জেলার মাহীসন্তোষ মসজিদের কথা বলা যেতে পারে। মসজিদটির কেন্দ্রীয় মিহরাবের পশ্চাতে দেবদেবীর চিত্র থেকে ধারণা করা হয় যে, এই নির্মাণ উপকরণটি মন্দির থেকে নেয়া হয়েছে। মিহরাবটি বর্তমানে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ স্থাপত্য ও শিল্পকলার বিকাশে শাসকগোষ্ঠী ধর্মীয় সংকীর্ণতার বেড়াজালকে ছিন্ন করে উদারতার পরিচয় দেন।
মোগল-শাসনামলে প্রশাসনিক সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাকে ১৯ টি সরকার এবং প্রতিটি সরকারকে আবার কতিপয় পরগনায় বিভক্ত করেন। এসব সরকার ও পরগনার প্রশাসকবৃন্দ নিজ নিজ এলাকায় শাসনকার্য পরিচালনার পাশাপাশি বহুসংখ্যক মসজিদ স্থাপত্য নির্মাণ করেন। এরূপ দুটি স্থাপত্যকীর্তি হলো বাওড়াও নাবিরপাড়া শাহী মসজিদ। মোগল আমলে মসজিদ নির্মাণে প্রাদেশিক শাসনকর্তা এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিরা কেন্দ্রীয় শাসকদের গৃহীত নির্মাণ কৌশল অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থের অভাবে প্রান্তিক অঞ্চলের ইমারতগুলো রাজধানী বা শহরে নির্মিত ইমারতগুলোর মতো জাঁকজমকপূর্ণ হয়নি। তবে গ্রামাঞ্চলের এই ইমারতগুলোর সৌন্দর্যও একেবারে সাদামাটা নয়। বাওড়া ও নাবিরপাড়া শাহী মসজিদের ক্ষেত্রেও মোগল স্থাপত্যশৈলীর  প্রতিফলন বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
বাওড়া মসজিদ
অবস্থান: লালপুর উপজেলা (গোপালপুর) পরিষদ থেকে ২.৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নর্থ-বেঙ্গল সুগার মিলের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের পাশে বাওড়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি অবস্থিত। ভূমিজরিপ অনুযায়ী বাওড়া মৌজায় (৭) (মৌজা নং-১৬১) এর অবস্থান বলে  মসজিদটি ‘বাওড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত। মসজিদটির মোট ভূমি-সীমানা ১৩৮ শতাংশ। (৮) এর পূর্বদিকে একটি পুকুর রয়েছে, পুকুরের পশ্চিমতীরে একটি শান বাঁধানো ঘাট ছিল (বর্তমানে নেই), যা ওযুখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া মসজিটির পশ্চিমে মেহগনি গাছের বাগান ও উত্তরে অনুরূপ আরেকটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ এবং দক্ষিণে বাঁধানো একটি কবর রয়েছে। কবরটির নামফলক থেকে জানা যায় যে, এটি আব্দুল গণি মিয়ার কন্যা পিয়ারি খাতুনের। পিয়ারি খাতুন ১৯২৮ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩৭ সালেমাত্র নয় বছর বয়সে গোপালপুরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরে তাকে এই মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সমাহিত করা হয়। শত বছরের পুরাতন এ মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে যারা মসজিদটি দেখতে আসেন, সবার কাছেই মসজিদটি যেমন দর্শনীয়, তেমন আকর্ষণীয়।
নির্মাণ-উপকরণ: তিন গম্বুজবিশিষ্ট ইটের তৈরি এ মসজিদটি স্থাপত্যশিল্প ও শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। চুন-সুরকি দিয়ে ছোট পাতলা ইটের গাঁথনি বেশ চমৎকার। ইটের গাঁথনিতে জোড়ক মসলা হিসেবে চুন-সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। গাঁথনির পরিপাট্য দেখে মনে হয় কোনো নিপুণ শিল্পীর নিখুঁত কার্য। মসজিদের গম্বুজের শীর্ষদণ্ডে লোহার ব্যবহার লক্ষণীয়। এর প্রকৃত স্থপতি বা প্রকৌশলীর নাম জানা যায় না, তবে পরিকল্পিত নক্শা দক্ষ স্থপতি কর্তৃক যে করা হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভূমি-নকশা ও গঠন: মসজিদটি আয়তাকার। এর বহির্দেয়ালের পরিমাপ উত্তর-দক্ষিণে ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি, পূর্ব-পশ্চিমে ১৩ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ১১ ফুট ৬ ইঞ্চি। মসজিদটির প্রতি দেয়ালের পুরুত্ব ৩ ফুট। মসজিদের  চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ রয়েছে। বুরুজগুলো কার্নিশ ছেড়ে উত্থিত হয়ে ছত্রি দ্বারা সমাপ্ত। ছাদ থেকে প্রতিটি ছত্রির উচ্চতা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। প্রতিটি ছত্রির শীর্ষ পদ্মকলি সজ্জিত।
মসজিদের নামাজ গৃহের অভ্যন্তরীণ পরিমিতি উত্তর-দক্ষিণে ২৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ও পূর্ব-পশ্চিমে ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি। দুটি বৃহদাকৃতির খিলান দ্বারা এক আইল বিশিষ্ট নামাজ গৃহটি তিনটি আয়তাকার ‘বে’-তে বিভক্ত এবং ‘বে’ গুলোর পরিমিতি ৭ বর্গফুট। প্রতিটি ‘বে’ অষ্টভুজাকৃতির পিপার উপর একটি করে গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। গম্বুজের ভেতরের অংশের ব্যাস ৮ ফুট। প্রতিটি গম্বুজ কৌণিকভাবে সজ্জিত ইটের বাংলা পান্দানতিফ পদ্ধতিতে নির্মিত।
নামাজ গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য পূর্ব দেয়ালে তিনটি অর্ধ-বৃত্তাকার খিলান বিশিষ্ট প্রবেশ পথ বিদ্যমান। কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথটি পার্শ্ববর্তী প্রবেশপথ অপেক্ষা সামান্য বড় ও সম্মুখভাগে উদ্গত করে নির্মিত। মধ্যবর্তী প্রবেশ পথের উভয় পার্শ্বে একটি করে অষ্টভুজাকৃতির আলঙ্কারিক সরু বুরুজ স্থাপিত। এসব বুরুজ ছাদ কিনারা থেকে উত্থিত ও ছত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত। খিলান বিশিষ্ট এ প্রবেশ পথগুলো আবার আয়তাকার কাঠামোর মধ্যে সন্নিবেশিত এবং তিনটি স্তরে সজ্জিত। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালেও এ ধরনের দুটি প্রবেশ পথ ছিল। সেগুলোকে পরবর্তীকালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে দৃশ্যমান। নামাজ গৃহের অভ্যন্তর ভাগে কেবলা-দেয়ালে প্রবেশপথ বরাবর স্বল্প-গভীরতা বিশিষ্ট তিনটি অর্ধ-বৃত্তাকার মিহরাব বিদ্যমান এবং মিহরাবগুলো আয়তকার ফ্রেম দ্বারা বেষ্টিত। এরূপ অর্ধ-বৃত্তাকার মিহরাব রংপুর জেলার বারিয়া মসজিদে লক্ষ্য করা যায়। (৯) মিহরাবের ভেতরে পলেস্তরার আস্তরণ ছাড়া আর কোনো অলংকরণ পরিলক্ষিত হয় না। মিহরাবটির পশ্চাৎ দিকে কিছুটা উদ্গত এবং এর উভয় পার্শ্বে গোলায়িত আলঙ্কারিক সরু বুরুজ রয়েছে। যা এখনো বিদ্যমান। সাধারণত বাংলার মসজিদ স্থাপত্যে সম্মুখ দেয়ালে যতটি প্রবেশপথ থাকে, কেবলা দেয়ালে ঠিক ততোটি মিহরাব পরিলক্ষিত হয়। এই মসজিদে তার কোনোব্যতিক্রম হয়নি। মসজিদটির কার্নিস সমান্তরাল। বর্তমানে ভূমি থেকে কার্নিসের উচ্চতা ১১ ফুট ৬ ইঞ্চি।
জুম্মার দিনে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে মসজিদ সংলগ্ন পূর্বদিকে নতুনভাবে একতলা ভবন নির্মাণ করে নামাজগৃহকে বর্ধিত করা হয় ২০১০ সালে। এর ফলে মসজিদটির আদি ও অনুপম স্থাপত্য-সৌন্দর্য অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ধিত নামাজগৃহের পরিমিতি উত্তর-দক্ষিণে ৫০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ২৩ ফুট ।
অলংকরণ: মসজিদটির অলঙ্করণে কিছু বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। ভেতর ও বাহিরের দেয়াল সম্পূর্ণটাই পলেস্তরায় আচ্ছাদিত। মসজিদের অভ্যন্তরে উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে তিনটি করে এবং কেবলা-দেয়ালে চারটি, সর্বমোট  দশটি স্বল্পগভীর বিশিষ্ট ক্ষুদ্রাকৃতির কুলঙ্গি রয়েছে। ধর্মীয় গ্রন্থাদি রাখা অথবা রাতে অন্ধকার নিবারণের জন্য প্রদীপ বা মোমবাতি রাখার জন্য সম্ভবত এ ধরনের কুলঙ্গি নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবের দুই পার্শ্বে পলেস্তরার সাহায্যে সুঁচালো খিলানের অবয়ব লক্ষণীয়। গম্বুজের ভেতরের অংশে অষ্টভুজাকৃতির পিপা ইট দ্বারা ভরাট করে পলেস্তরার সাহায্যে অর্ধবৃত্তকার খিলানের রূপদানকরা হয়েছে। খিলানের নিম্নাংশে অর্ধবৃত্তাকার স্তম্ভের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
মসজিদের বহির্ভাগের অলংকরণে বেশকিছু নতুনত্ব পরিলক্ষিত হয়। কেবলা-দেয়ালের অষ্টভুজাকৃতির বুরুজের ঊর্ধ্বাংশে খোপনকশা ব্যবহার করা হয়েছে। কার্নিশে পত্রনকশা (অনেকটা সর্পফণার মতো) স্থাপনাটির সৌন্দর্য বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে। ছাদের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের ছাদ পাঁচিলে ১৭ টি করে পত্রনকশা রয়েছে। পূর্বদিকে নামাজ গৃহ বৃদ্ধি করায় ছাদ পাঁচিলের পত্রনকশাগুলো বিলীন হয়ে গেছে। কার্নিশের নিচে নকশা বিহীন একটি টানা পাড়নকশা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। গম্বুজের বহির্ভাগে অষ্টভুজাকৃতির পিপাতেও পত্রনকশার সংযোজন এর অলঙ্করণে নতুন মাত্রা দান করেছে। পিপার প্রতিটি ভুজে ৭টি করে পত্রনকশা পরিলক্ষিত হয়। প্রতিটি পত্রনকশা/ সর্পফণার ন্যায় পদ্মপাপড়ির মাঝে লতা-পাতা, পুষ্পকলি, ফুলের টব ইত্যাদি এর সৌন্দর্যকে বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে। বড় গম্বুজের শীর্ষবিন্দু পদ্ম-পাপড়ি ও কলস সংবলিত শীর্ষদণ্ডে শোভিত। কলসগুলো ভেঙ্গে যাওয়ায় তা আর দৃশ্যমান নেই। ছত্রিগম্বুজগুলো আটটি গোলায়িত স্তম্ভ ও চারটি উন্মুক্ত অর্ধবৃত্তাকার খিলানের  উপরে স্থাপিত এবং প্রতিটি খিলানের উপরিভাগ পলেস্তরায় আবৃত ঈষৎ বক্রাকার কার্নিশে অলঙ্কৃত; যা বাংলার কুড়ে ঘরের কার্নিশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর পশ্চিম-দেয়ালের দুটি ছত্রিগম্বুজ শিরালো নকশায় সজ্জিত; যা ছত্রি গম্বুজের  আকৃতির নতুনমাত্রা সংযোজিত করেছে। কোণস্থিত অষ্টভুজাকৃতি বুরুজগুলোর তলদেশ ঘটি ভিত্তিমূল সংবলিত এবং কার্নিশের নিম্নাংশে দুই স্তরে খোপনকশা এর আঙ্গিক অলঙ্করণে বৈচিত্র্য আনয়ন করেছে।
নির্মাণ কাল: মসজিদটি কখন নির্মিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে কোনো শিলালিপি বা অন্য কোনো নির্ভুল তথ্য অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়নি। নির্মাণকাল সম্পর্কে মসজিদের পাশে বসবাসকারী ষাটোর্ধ মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘এই মসজিদটি কে কখন নির্মাণ করেছেন, সে সম্পর্কে আমার বাবা ও দাদা কেউই কিছুই বলে যেতে পারেন নি।’ (১০) তবে মসজিদের নির্মাণ-কৌশল, উপকরণ ও বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনা করলে মসজিদটির সম্ভাব্য নির্মাণকাল সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে। যেমন: দুটি খিলান দ্বারা বিভক্ত, এক আইল বিশিষ্ট নামাজ গৃহ, পলেস্তরার ব্যবহার, প্যানেল নকশা, সমতল কার্নিস, তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, গম্বুজের শীর্ষবিন্দুতে ব্যবহৃত পদ্মনকশা ও কলসের ব্যবহার, অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ এবং বুরুজে ছত্রী গম্বুজের ব্যবহার প্রভৃতি বিচার-বিশ্লেষণে অনুমান করা যায় যে, মসজিদটি  মোগল আমলের শেষের দিকে অর্থাৎ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ সময়ে অথবা উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত।
নাবিরপাড়া শাহী মসজিদ
অবস্থান: নাবিরপাড়া শাহী মসজিদ লালপুর উপজেলা (গোপালপুর) পরিষদ থেকে ১৩ কিলো মিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশন থেকে ৩.৫ কিলো মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে নাবিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (১৯৪৫ খ্রি.) দক্ষিণে অবস্থিত। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি সামান্য কিছু সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ফলে মসজিদটি বর্তমানে সুরক্ষিত অবস্থায় দণ্ডায়মান। হাল আমলে এ মসজিদের সম্মুখদিকে অর্থাৎ পূর্বদিকে বর্ধিত করা হয়েছে।
নির্মাণ-উপকরণ: নাবিরপাড়া শাহী মসজিদটি মোগল স্থাপত্যশিল্পের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মসজিদের দেয়াল নির্মাণে প্রধান উপকরণ হিসেবে পোড়ানো ইট এবং গাঁথনিতে জোড়ক মসলা হিসেবে চুন-সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। ইমারতটির গাত্রালঙ্করণে পলেস্তরা এবং গম্বুজের শীর্ষে কলসের ব্যবহার লক্ষণীয়।
ভূমি-নকশা ও গঠনশৈলী: এক আইল বিশিষ্ট ছোট পরিসরের আয়তাকার মসজিদটির কোণস্থিত বুরুজসহ বহির্দেয়ালের পরিমাপ উত্তর-দক্ষিণে ২৮ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে ১১ ফুট। এর চতুর্দেয়ালগুলো ২ ফুট চওড়া। মসজিদের  চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ রয়েছে। বুরুজগুলো কার্নিশ ছেড়ে উত্থিত হয়ে ছত্রি দ্বারা সমাপ্ত। মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য পূর্ব দেয়ালে অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। প্রতিটি প্রবেশ পথের দৈর্ঘ্য ২ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে অর্ধবৃত্তাকার খিলান ও জালিনকশাযুক্ত দুটি জানালা ছিল, যার মধ্য দিয়ে আলো-বাতাস প্রবেশ করতো। জালিনকশাগুলো নষ্ট হওয়ার কারণে সেখানে লোহার গ্রিলযুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতির দুটি জানালা স্থাপন করা হয়েছে।১১ পূর্বদিকের প্রবেশপথ বরাবর কিবলা দেয়ালে সমআকৃতির তিনটি অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব সন্নিবেশিত ও পিছন দিকে উদগত করে নির্মিত। প্রতিটি মিহরাবের দৈর্ঘ্য ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি, উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং কিবলা দেয়ালে এর গভীরতা ১০ ইঞ্চি।
মসজিদের নামাজ গৃহের অভ্যন্তরীণ পরিমিতি উত্তর-দক্ষিণে ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি ও পূর্ব-পশ্চিমে ৭ ফুট। এক আইল বিশিষ্ট নামাজ গৃহটি তিনটি বর্গাকার ‘বে’-তে বিভক্ত এবং ‘বে’ গুলোর পরিমিতি ৭ বর্গফুট। নামাজ গৃহের আচ্ছাদন হিসেবে  প্রতিটি ‘বে’-এর উপর অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ সন্নিবেশিত এবং গম্বুজগুলো আবার অষ্টভুজাকৃতির  পিপার উপর  স্থাপিত। এ পিপার ভার দুটি আড়াআড়ি বহুখাঁজ বিশিষ্ট খিলান, প্রবেশপথ ও মিহরাবের খিলানের উপর প্রতিষ্ঠিত। একেকটি গম্বুজের ভেতরের অংশের ব্যাস ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি । গম্বুজের নিম্নের ফাঁকা স্থানগুলো কৌণিকভাবে সজ্জিত ইটের বাংলা পান্দানতিফ (চবহফবহঃরাব) পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হয়েছে।
জুম্মার দিনে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে মসজিদ সংলগ্ন পূর্বদিকে নতুনভাবে একতলা ভবন নির্মাণ করে নামাজগৃহকে বর্ধিত করা হয় ২০১১ সালে। এর ফলে মসজিদটির আদি ও অনুপম স্থাপত্য-সৌন্দর্য অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্ধিত নামাজ গৃহের পরিমিতি উত্তর-দক্ষিণে ৩৭ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ২৫ ফুট।
অলংকরণ: মসজিদটির ভেতর ও বাহিরের দেয়াল সম্পূর্ণটাই পলেস্তরায় আচ্ছাদিত। মসজিদের মিহরাব, খিলান, গম্বুজ, ছাদ-পাঁচিল বিশেষভাবে অলংকৃত। নামাজ গৃহে দুটি চতুষ্কোণ স্তম্ভের উপরে বহুখাঁজ বিশিষ্ট খিলান স্থাপিত এবং খিলানের নিম্নাংশে পলেস্তরার পত্র ও পুষ্প নকশায় সজ্জিত। মিহরাব তিনটি অর্ধবৃত্তাকার ও সমআকৃতির এবং আয়তাকার ফ্রেম দ্বারা আবদ্ধ। প্রতিটি মিহরাবের নিম্নাংশ হতে ৭ টি রেখা ঊর্ধ্বাংশের একটি বিন্দুতে মিলিত হয়ে এক অপূর্ব নকশার সৃষ্টি করেছে। মিহরাবগুলোর উভয় পার্শ্বে গোলায়িত সরু স্তম্ভ রয়েছে এবং স্তম্ভগুলোর ঘটি আকৃতির ভিত্তিভূমি সৌন্দর্য বর্ধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। কেন্দ্রীয় মিহরাব ও প্রবেশ পথের দুই পার্শ্বে দুটি করে স্তম্ভ ছাদ থেকে উত্থিত এবং ক্ষুদ্র নিরেট গম্বুজে সমাপ্ত। কেন্দ্রীয় মিহরাবের পশ্চাৎ দেয়ালে একটি সানসেড লক্ষণীয়। নামাজ গৃহের উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ২ টি করে ৪ টি এবং পূর্ব দেয়ালে প্রবেশপথের বাম পার্শ্বে ৩ টি, সর্বমোট ৭ টি কুলঙ্গি রয়েছে। মসজিদে ধর্মীয় গ্রন্থাদি রাখা অথবা রাতে অন্ধকার নিবারণের জন্য প্রদীপ বা মোমবাতি রাখার জন্য সম্ভবত এ ধরনের কুলঙ্গি নির্মাণ করা হয়েছে। গম্বুজের ভেতরের অংশে অষ্টভুজাকৃতির পিপা ইট দ্বারা ভরাট করে পলেস্তরার সাহায্যে অর্ধবৃত্তকার খিলানের রূপ দান করা হয়েছে ।
মসজিদের বহির্ভাগের অলঙ্করণে নান্দনিকতা লক্ষণীয়। কিবলা-দেয়ালে বড় আকৃতির কয়েকটি খোপনকশা (চধহবষ ফবংরমহ) ব্যবহার করা হয়েছে। গম্বুজের অষ্টভুজ পিপার উর্ধ্বাংশ মার্লন এবং নিম্নাংশ জ্যামিতিক নকশায় সজ্জিত। গম্বুজে পদ্মপাঁপড়ির উপরিভাগে কলস ও শীর্ষদণ্ডে পদ্মকুঁড়ি শোভা বর্ধন করেছে। শীর্ষদণ্ডের কলস ও পদ্মকুঁড়ি  বর্তমানে নেই। সমান্তরাল ছাদপাঁচিল বদ্ধ মার্লন নকশায় শোভিত এবং ছাদ-পাঁচিলের নিম্নাংশ পাড় ও জ্যামিতিক নকশা এর সৌন্দর্যকে বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে।
নির্মাণ কাল: মসজিদটি কখন নির্মিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে কোনো শিলালিপি বা অন্যকোনো নির্ভুল তথ্য অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়নি। নির্মাণকাল সম্পর্কে মসজিদের সেক্রেটারি মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘এই মসজিদটি কে কখন নির্মাণ করেছেন, সে সম্পর্কে আমার বাবা ও এই এলাকার শতবর্ষী ব্যক্তি হাবিল প্রামানিকও (মৃত) কোনো তথ্য দিতে পারেন নি।’১২ তবে মসজিদের নির্মাণ-কৌশল, উপকরণ ও বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনা করলে মসজিদটির সম্ভাব্য নির্মাণকাল সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সাধারণ আলোচনা: সুলতানি আমলে নির্মিত বাংলার মসজিদগুলোকে ভূমিনকশা ও গঠন শৈলীর উপর ভিত্তি করে কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়, যথা: (ক) বর্গাকার এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (খ) তিন বা বহুগম্বুজ বিশিষ্ট  আয়তাকার মসজিদ, (গ) শীর্ষ চূড়াবিহীন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (ঘ) প্রশস্ত কেন্দ্রীয় অংশসহ (ঘধাব) বহুগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (ঙ) বারান্দাযুক্ত মসজিদ, (চ) প্রাচীর ঘেরা খোলা চত্বর বিশিষ্ট মসজিদ, (ছ) খোলা চত্বর বিহীন মসজিদ।
বাংলায় মোগল শাসনামলে মসজিদ স্থাপত্যে তিনগম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদ নির্মাণের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। মোগল আমলের আয়তাকার মসজিদগুলোকে ভূমি নকশা ও গঠন শৈলীর উপর ভিত্তি করে কয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়, যথা: (১) ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (২) পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (৩) তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (৪) কেন্দ্রিয় গম্বুজ ও অর্ধগম্বুজ ভল্টে আচ্ছাদিত মসজিদ, (৫) কেন্দ্রীয় গম্বুজ ও চৌচালা ভল্টে আচ্ছাদিত মসজিদ, (৬) সমতল ছাদ বিশিষ্ট এবং (৭) বাংলো প্রকৃতির মসজিদ।১৩ আবার আয়তাকারতিন বা ততোধিক গম্বুজ বিশিষ্ট মোগল মসজিদগুলোকে নিম্নলিখিত পর্যায়ে বিভক্ত করা যেতে পারে।১৪ যেমন: (ক) সমাকৃতির তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (খ) বৃহদাকৃতির কেন্দ্রীয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, (গ) বিভিন্ন আকৃতির ভল্ট পরিবেষ্টিত বৃহদাকৃতির মধ্য গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ ও (ঘ) গম্বুজ বিশিষ্ট বারান্দাযুক্ত মসজিদ।
উপরেল্লিখিত শ্রেণি বিভাগ থেকে দেখা যায় যে, আলোচ্য মসজিদদ্বয় দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সুচারুভাবে বিশ্লেষণ করলে, আলোচ্য মসজিদদ্বয়ের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এগুলোর মধ্যে এক আইল ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ছোট পরিসরের আয়তাকার মসজিদ, দুটি খিলান দ্বারা নামাজ গৃহকে তিনটি ‘বে’-তে বিভক্তিকরণ, অষ্টভুজাকৃতি পিপার উপর গম্বুজ স্থাপন, বাংলা পান্দানতিফের ব্যবহার, দেয়ালে পলেস্তারার আচ্ছাদন, সমতল কার্নিস, বদ্ধ মার্লন নকশা ও ছত্রির ব্যবহার প্রভৃতি।
উল্লেখ্য, ভারতীয় মোগল-স্থাপত্যের অন্যতম বিশেষত্ব হলো তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ১৫ নির্মাণ; যার এক কক্ষ বিশিষ্ট নামাজ গৃহ তিনটি ‘বে’-তে বিভক্ত এবং প্রতিটি ‘বে’ আবার একটি করে গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। রিওয়াক বা রিওয়াক বিহীন তিন গম্বুজ রীতির মোগল-আদর্শ নকশার মসজিদের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দিল্লী দুর্গের অভ্যন্তর স্থপতি মসজিদ (১৬৬২ খ্রি.) ও দিল্লীস্থ সুনেহরী মসজিদের নামোল্লেখ করা যেতে পারে।১৬ মোগল আমলে নির্মিত বাংলায় এরূপ বৈশিষ্ট্যের মসজিদগুলোর মধ্যে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে আরিফাই মসজিদ (১৬৬২ খ্রি.)১৭, রংপুর জেলার দরিয়াপুর মসজিদ (১৭১৭-১৮ খ্রি.), কাজীপাড়া মসজিদ (অষ্টাদশ শতাব্দী)১৮, মিঠাপুকুর মসজিদ (১৮১০ খ্রি.)১৯, বারিয়া মসজিদ (অষ্টাদশ শতাব্দী)২০, গাইবান্ধা জেলার ফুলহার মসজিদ (অষ্টাদশ শতাব্দী)২১, বগুড়া জেলার মাঝোপাড়া মসজিদ (অষ্টাদশ শতাব্দী)২২, দিনাজপুর জেলার হলিগনা ঈদগাহমসজিদ, সেনরা মসজিদ (অষ্টাদশ শতাব্দী)২৩ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মোগল মসজিদ স্থাপত্যের গম্বুজগুলো অষ্টভুজাকৃতির পিপার উপর স্থাপিত, যেমন: শাহ নিয়ামত উল্লাহ ওয়ালির মসজিদ, লালবাগ দুর্গ মসজিদ২৪, পরি বিবির মাজার, করতলব খান মসজিদ২৫ অন্যতম। বাওড়া মসজিদ ও নাবিরপাড়া শাহী মসজিদের গম্বুজ তিনটি অষ্টভুজাকৃতির পিপার উপর গম্বুজ স্থাপিত, গম্বুজের পিপা ও ছাদপাঁচিলের তলদেশ সারিবদ্ধকারে রচিত বদ্ধ মার্লন (গধৎষড়হ) বা পত্রনকশাঁর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের পত্র নকশার অলংকরণের ব্যবহার মোগল-আমলের তৈরি রাজশাহী জেলার বাগধানী মসজিদ (১৭৯১খ্রি.), মাড়িয়া মসজিদ (অষ্টাদশ শতাব্দী)২৬, রইপাড়া মসজিদ (ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে) এবং রংপুর জেলার বারিয়া মসজিদে (অষ্টাদশ শতব্দী)২৭ লক্ষ করা যায়।
বাংলার মুসলিম স্থাপত্যে সম্ভবত একলাখী সমাধিতে (১৪৩৩)২৮ সর্বপ্রথম অষ্টভুজাকৃতির বুরুজের ব্যবহার দেখা যায়। মোগল-আমলে নির্মিত ইমারত সমূহে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ সংযোজন করা হয়েছে এবং বুরুজগুলো ছাদ কিনারার উপর পর্যন্ত উত্থিত ও শীর্ষদণ্ড ক্ষুদ্র গম্বুজ বা কিউপোলায় আবৃত। উল্লেখ্য যে, উসমানীয় তুর্কী স্থাপত্যে সুউচ্চ মিনার আকৃতির কোণস্থিত বুরুজের ব্যবহার দেখা যায়। উদাহরণ স্বরূপ ইলদ্রিনের ইউসি সেরিফলি জামি মসজিদ (১৪৩৫ খ্রি.) ও সেলিমিয়া জামি মসজিদের (১৪৬৯-৭০ খ্রি.) কথা বলা যায়।২৯ মোগল স্থাপত্যে কোণস্থিত বুরুজের উপর ছত্রির ব্যবহার লক্ষণীয়। কোণস্থিত বুরুজের শিরোভাগে এ ধরনের ছত্রির সংযোজন বাংলার স্থাপত্যে কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং এটি হিন্দু স্থাপত্য রীতি থেকে উৎসারিত।৩০ ইন্দো-মুসলিম স্থাপত্যে এ ধরনের ছত্রির ব্যবহার প্রথম পরিদৃষ্ট হয় সৈয়দ ও লোদী স্থাপত্যে, যার অন্যতম নিদর্শন মোবারক শাহ সৈয়দের সমাধি (পঞ্চদশ শতাব্দি)৩১ বিদ্যমান এই মসজিদদ্বয়ের চারকোণায় সংযোজিত অষ্টভুজাকৃতির বুরুজগুলো ছাদ কিনারার উপর পর্যন্ত উত্থিত এবং ছত্রি বা কিউপোলাতে সমাপ্ত। বলা বাহুল্য বাংলার মোগল-আমলে নির্মিত অন্যান্য মসজিদ ইমারতেও অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ ও ছত্রি বা কিউপোলার সংযোজন ঘটেছে। যেমন-রাজশাহী জেলার বাগধানী মসজিদ (১৭৯১খ্রি.), মাড়িয়া মসজিদ (অষ্টাদশ শতাব্দী), রইপাড়া মসজিদ (ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
মোগল আমলে এ দেশের ইমারতগুলোতে সুলতানি আমলের পোড়ামাটির ফলকনকশা (ঞবৎৎধপড়ঃঃধ)  অলঙ্করণের স্থলে পলেস্তরার (চরষধংঃবৎ) অলঙ্কণের সূত্রপাত হয়। এ সময় নির্মিত অধিকাংশ ইমারত-গাত্রে পলেস্তরার কর্তনের (ঈঁঃ-চরষধংঃবৎ) মাধ্যমে ফুল-ফল, লতা-পাতা এবং আয়তাকার ও বর্গাকার সারির খোপ নকশার বহুল ব্যবহার দেখা যায়।৩২ বাওড়া মসজিদের ভেতর ও বহির্দেয়াল পলেস্তরায় আচ্ছাদিত এবং কার্নিশের নিম্নাংশে দুই স্তরে খোপনকশা এবং নাবিরপাড়া মসজিদেও খিলানে পলেস্তরা কর্তনের মাধ্যমে পত্র-পুষ্প নকশার ব্যবহার লক্ষণীয়। টাঙ্গাইলের আতিয়া মসজিদ, ঢাকার লালবাগ দূর্গ মসজিদ, খান মুহাম্মদ মৃধার মসজিদ প্রভৃতি ইমারতের গাত্রালঙ্করণে খোপনকশা পরিলক্ষিত হয়। এরূপ বর্গকার ও আয়তাকার খোপনকশার উৎস হিসেবে বাংলার সেই সুপরিচিত কুঁড়ে ঘরের দেয়াল হিসেবে ব্যবহৃত বেড়ার কথা উল্লেখ করা যায়। বেড়া নির্মাণে এবং এর সৌন্দর্য বর্ধনে পাতা, খড়, পাটকাঠি কিংবা বাঁশের কঞ্চির উপরে বাঁশের বাতাগুলোকে বর্গাকার কিংবা আয়তাকার, উলম্ব কিংবা অনুভূমিকভাবে সাজিয়ে শক্ত করে বাঁধলে যে খোপনকশার উদ্ভব হয়, তারই অনুকরণে ইমারত গাত্রে পলেস্তারার উপর মুসলিম স্থপতিগণ খোপনকশার সৃষ্টি করেছেন বলে অনুমিত হয়।
ড. এম.এ. বারী৩৩ এর তথ্যানুসারে বাওড়া মসজিদটি একই উপজেলার (লালপুর উপজেলা) নাবিরপাড়া মসজিদের নকল কপি বলে মনে হয়।৩৪ কিন্তু মসজিদ দুটির নির্মাণ ও অলঙ্করণগত দিক থেকে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন- বাওড়া মসজিদে চতুর্কেন্দ্রিক খিলান আর নাবিরপাড়া শাহী মসজিদে খাঁজ খিলানের ব্যবহার দেখা যায়, বাওড়া মসজিদের মিহরাবগুলো স্বল্প গভীর বিশিষ্ট অন্যদিকে নাবিরপাড়া শাহী মসজিদের মিহরাবগুলো অর্ধবৃত্তাকার ও অবতল এবং পশ্চাৎ দেয়ালে সানসেট যুক্ত করা হয়েছে; বাওড়া মসজিদের নামাজ গৃহের দেয়ালে  ১০ টি কিন্তু নাবিরপাড়া শাহী মসজিদে ৪ টি কুলঙ্গি রয়েছে; বাওড়া মসজিদের বহির্দেয়ালের দৈর্ঘ্য ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি অন্যদিকে নাবিরপাড়া মসজিদের দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট; বাওড়া মসজিদের কার্নিশের নিম্নাংশে দুই স্তরে খোপনকশা কিন্তু নাবিরপাড়া মসজিদের কার্নিশের নিম্নাংশে বরফি নকশার ব্যাবহৃত হয়েছে ইত্যাদি। তারপরও মসজিদ দুটির মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। যেমনÑ দুটি মসজিদেই অষ্টভুজ বুরুজ ব্যবহৃত হয়েছে এবং বুরুজগুলো কার্ণিশ থেকে উত্থিত ও ছত্রি দ্বারা সমাপ্ত, উভয় মসজিদেই পিপার উপর গম্বুজ স্থাপিত এবং পিপার বর্হিভাগে পত্রনকশা ব্যবহৃত হয়েছে; উভয় মসজিদেই অর্ধবৃত্তাকার প্রবেশ পথ বিদ্যমান। মসজিদ দুটির মধ্যে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈশাদৃশ্য বেশি হলেও দূর থেকে মসজিদ দুটি অনেকটা দেখতে একই রকম মনে হয়। এতে বোঝা যায় যে, মসজিদ দুটি একই সময়ে নির্মিত হয়েছে।
মুঘল পরবর্তী সময়ে মুঘল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের অনুকরণে নির্মিত মসজিদগুলো যেমন: দুলাই চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদ (১৮০২ খ্রি.)৩৫, সাদুল্লাপুর জামে মসজিদ (১৮০৯ খ্রি.)৩৬, মিঠাপুকুর মসজিদ(১৮১০ খ্রি.), রাজশাহীর রইপাড়া মসজিদ (ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে), রাজশাহীর দূর্গাপুরের কিসমত মাড়িয়া মসজিদ (ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে)৩৭ প্রভৃতি মসজিদের গঠনশৈলী ও অলঙ্করণের দিক থেকে বাওড়া ও নাবিরপাড়া শাহী মসজিদদ্বয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, বাওড়া ও নাবিরপাড়া শাহী মসজিদটি বাংলার মোগল-স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে নির্মিত বহুসংখ্যক মোগল মসজিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্য থাকায় অনুমিত হয় যে, উভয় মসজিদ ঊনিশ শতকের প্রথমে নির্মীত ধর্মীয় ইমারত। মসজিদদ্বয় বহুকাল যাবৎ অযত্নে ও লোকচক্ষুর অন্তরালে পতিত রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বাওড়া ও নাবিরপাড়া শাহী মসজিদটি স্থানীয় জনগণ কর্র্তৃক সংস্কার সাধন করে প্রতিদিন নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছে। সুতরাং, আলোচিত মসজিদ দুটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাংলার স্থাপত্য কলার ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা যায়। আর এখানেই মসজিদদ্বযের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিহিত।

* হাফিজ আহমেদ: সহকারী অধ্যাপক, ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্য সূত্র:
১. ত্রিবেণী, ভারতের পশ্মিবঙ্গ রাজ্যের হুগলী জেলার বাঁশবাড়িয়া পৌরসভার উত্তর অংশে অবস্থিত একটি ছোট শহর। এটি হিন্দুদের জন্য একটি পুরানো পবিত্র স্থান। তিনটি নদী, গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী এর সঙ্গমস্থলের জন্য ত্রিবেণী ইতিহাসে বিখ্যাত।
২. Ahmad Hasan Dani, Muslim Architecture in Bengal (Dacca: Asiatic Society of Pakistan, 1961), P. 117.
৩. আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ (ঢাকা: দিব্যপ্রকাশ, ২০১১), পৃ. ৩৯।       
৪. বাওড়া, আজিমনগর-আব্দুলপুর রেললাইনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রাম। গ্রামটির পূর্বে নর্থ-বেঙ্গল সুগার মিল, পশ্চিমে নেঙ্গপাড়্,া উত্তরে
নারায়নপুর,দক্ষিণে সিরাজিপুর গ্রাম অবস্থিত।
৫. নাবিরপাড়া, চং ধুপইল ইউনিয়নের অভ্যন্তরে আব্দুলপুর রলওয়ে জংশন থেকে ৩.৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রাম।
৬. এ. বি. এম. হোসেন, আরব স্থাপত্য (ঢাকা: খান ব্রাদার্স এ্যাণ্ড কোম্পানি, ১৯৯৯), পৃ.৬৭-৭২।
৭. আর এস রেকর্ড অনুসারে হাল খতিয়ান নং-১, দাগ নং যথাক্রমে ২০০০ (জমির পরিমাণ-১০ শতাংশ), ২০০২ (৫৪ শতাংশ) ও ২০১৮(৭৪ শতাংশ)।
৮. তথ্য দাতা: এস এম মিনহাজুল ইসলাম, সহকারী কর্মকর্তা, চং ধূপইল ইউনিয়ন ভূমি অফিস, লালপুর, নাটোর, (তারিখ: ২৮ আগস্ট ২০১৮)।
৯. এ.টি.এম. রফিকুল ইসলাম, “ঘোড়াঘাট: ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব” এম.ফিল.অভিসর্ন্দভ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০২, পৃ. ১২১।
১০. সাক্ষাৎকার: মো. আব্দুস সামাদ, পিতা: মৃত শামসুল ইসলাম, বয়স: ৬৫ বছর, গ্রাম: বাওড়া, ডাক: গোপালপুর, লালপুর, নাটোর। সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ: ১১ জুন ২০১৮।
১১. সাক্ষাৎকার: মো. আব্দুস সালাম (মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি), পিতা: মৃত ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিক, বয়স: ৫৭ বছর, গ্রাম: নাবিরপাড়া, ডাক: আব্দুললপুর, লালপুর, নাটোর। সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮।
১২. সাক্ষাৎকার: মো. আব্দুস সালাম (মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি), পিতা: মৃত ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিক, বয়স: ৫৭ বছর, গ্রাম: নাবিরপাড়া, ডাক: আব্দুললপুর, লালপুর, নাটোর। সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮।
১৩. M. A. Bari, Mughal Mosques Types in Bangladesh: Origin and Development, an unpublished Ph. D. Thesis, Institute of Bangladesh studies, Rajshahi University, 1989, pp. 103-04
১৪. Sultan Ahmed, ÒTwo unpublished Mughal Mosque in Rangpur DistrictÓ, Bangladesh Lalitakala, Dhaka, Vol. 2, 1984, p. 49
১৫. তিন গম্বুজ বিশিষ্ট আবৃত মসজিদ ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম লোদী আমলে নির্মিত হতে দেখা যায়, যার অন্যতম উদাহরণ হলো দিল্লির রড় গুম্বাদ মসজিদ (১৪৯৪ খ্রি.) ও মথ-কি-মসজিদ  ষোড়শ শতক)। পরবর্তীতে সুরী আমলে উক্ত রীতি যথেষ্ঠ জনপ্রিয়তা লাভ করে, যার উদাহরণ হিসেবে রোটাসগড় মসজিদের (১৫৪৩ খ্রি.) কথা বলা যায়। দেখুন- S. Grover, The Architecture of India: Islamic (727-1707),  ( New Delhi: Vikas Publishing house, 1981), pp.145-147.
১৬. P. Brown, Indian Architecture,Islamic Period ( Bombay: Taraporevela Sons & Co.Ltd., 1975), p. 112
১৭. আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ (ঢাকা: দিব্যপ্রকাশ, ২০১১), পৃ. ৬১৬।
১৮. M. A. Bari, Mughal Mosques Types in Bangladesh: Orin and Development, an unpublished Ph. D. Thesis, Institute of Bangladesh studies, Rajshahi University, 1989, pp. 164-165
১৯. Ibid, p. 165
২০. সিরাজুল ইসলাম (সম্পা.),বাংলাপিডিয়া খণ্ড -৯ম (ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০১৩), পৃ. ২৫৮।
২১. এ. টি.এম.রফিকুল ইসলাম, “ফুলহার ও কামদিয়া মসজিদের স্থাপত্যশৈলী: একটি পর্যালোচনা”, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, ঢাকা, সংখ্যা ৪র্থ, এপ্রিল-জুন, ২০১১, পৃ. ৮-১৪৫-১৪৬।
২২. এ. টি.এম.রফিকুল ইসলাম, “মাঝোপাড়া মসজিদ: একটি অপ্রকাশিত প্রত্নসম্পদ”, ইনস্টিটিউটঅব বাংলাদেশ স্টাডিজ জার্নাল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সংখ্যা ২০, ১৪১৯, পৃ. ৮-৯।
২৩. এ. টি.এম.রফিকুল ইসলাম, “বাংলার দুটি অনালোচিত মোগল মসজিদ”, ইনস্টিটিউটঅব বাংলাদেশ স্টাডিজ জার্নাল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সংখ্যা ১৬, ১৪১৫, পৃ. ৮-১৩।
২৪. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান,“ঢাকার মোগল স্থাপত্য শৈলী”, নতুন এক মাত্রা (শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির কাগজ), ঢাকা, জুলাই-আগস্ট, ২০১৬, পৃ. ৫১।
২৫. সিরাজুল ইসলাম (সম্পা.),বাংলাপিডিয়া খণ্ড -২য়, (ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০১৩), পৃ. ৩৩৯।
২৬. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান,“ উত্তরবঙ্গের প্রত্ন-ঐতিহ্য আধুনিক যুগ ১”, নতুন এক মাত্রা (শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির কাগজ), ঢাকা, নভেম্বর-ডিসেম্বর, ২০১৭, পৃ. ৭৪।
২৭. সিরাজুল ইসলাম (সম্পা.), বাংলাপিডিয়া খণ্ড -৯ম (ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০১৩), পৃ. ২৫৮।
২৮. সিরাজুল ইসলাম (সম্পা.), বাংলাপিডিয়া খণ্ড -২য় (ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি,২০১৩), পৃ. ২০৫।
২৯. G. Goodwin, A History of Ottoman Architecture (London: Thames & Hudson, 1971), p. 101.
৩০. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান,“বাংলার মসজিদ স্থাপত্যের উৎস সন্ধান”, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পত্রিকা, ঢাকা, ষড়বিংশ খণ্ড, শ্রীষ্ম  সংথ্যা, ১৪১৫, পৃ. ২৪।
৩১. এম. মোখলেছুর রহমান, সুলতানি আমলে মুসলিম স্থাপত্যের বিকাশ, প্রেস প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তর(রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পঠ্যপুস্তক প্রকাশনা বোর্ড, ১৯৯৬), পৃ. ১৬৮।
৩২. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান,“বাংলার মুসলিম স্থাপত্যে দেশজ উপাদান”, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ, রাজশাহী, সংখ্যা-৩৩, পার্ট-এ, ২০০৫, পৃ. ৫৬।
৩৩. অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪. M. A. Bari, Mughal Mosques Types in Bangladesh: Origin and Development, an unpublished Ph. D. Thesis, Institute of Bangladesh studies, Rajshahi University, 1989, p. 80.
৩৫. আয়শা বেগম, পাবনার ঐতিহাসিক ইমারত (ঢাকা: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, ২০০২), পৃ. ৫৯-৬১।
৩৬. তদেব
৩৭. M. A. Bari, ‘‘An outline history of the MughalMosque-plan in Bangladesh’’, Journal of Bengal art, Vol-4, Dhaka, 1999, pp. 317.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top