logo
news image

শাবি’র সমাজকর্ম বিভাগের রজত জয়ন্তী উৎসব অনুিষ্ঠত

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাবি।।
‘স্মৃতির বাঁধনে বাঁধিব আবার’ স্লোগানকে সামনে রেখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের ২৫ বছর পূর্তিতে দুইদিনব্যাপী রজত জয়ন্তী উৎসব অনুিষ্ঠত হয়েছে।
এ উপলক্ষে উৎসবের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এর সামনে থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রজত জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফয়সাল আহম্মদের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জালাল উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম, শাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাবেক অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী, সমাজকর্ম অ্যালামনাই এর সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামিম খান প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল। অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শাবি সমাজকর্ম বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানের পুত্রবধু শাহ্পার রশিদ, অনুষ্ঠানের প্লাটিনাম পৃষ্ঠপোষক উইস কয়েনের চিফ এক্সিকিউটিভ জান্নাতুন তাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও সুশাসনে এই বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে জঙ্গিবাদ, র‌্যাগিং ও মাদকের কোনো স্থান নেই। আমরা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছি, যা সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভালো করার কারণে বেশ কিছুদিন আগে শাবির ক্যাম্পাস শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল ক্যাম্পাস ঘোষিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে চলমান প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে অবকাঠামোগত দিক থেকে এটি হবে বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়। গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষার কথা আমরাই প্রথম বলেছিলাম। আজ তা বাস্তবায়িত হওয়ার পথে। এটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে যাবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) থেকে আমার শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়েছিল। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম হাবিবুর রহমানের প্রতি। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় সমাজকর্ম বিভাগ একটি ভালো অবস্থানে গিয়েছে। এই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে, যা ভাবলে একজন শিক্ষক হিসেবে নিজের গর্ব হয়।
মুজিব শতবর্ষের ঐতিহাসিক স্মরণে সাস্ট ডিক্লারেশন-২০২০ ঘোষণা করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ। ‘বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনাল সোশ্যাল ওয়ার্কার’ এসোসিয়েশন গঠনের ঘোষণা দেন সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ফয়সাল আহম্মদ।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবার-পরিজনসহ প্রায় সাড়ে ৭শ জন এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই দুই দিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উন্মুক্ত কনসার্ট, স্মৃতিচারণ, মতবিনিময়, গালা ডিনার ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ১৯৮৭ সালে হলেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। মাত্র ১৩ জন শিক্ষক, ২০৫ জন শিক্ষার্থী এবং পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও অর্থনীতি তিনটি বিভাগ নিয়ে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন ৭ টি অনুষদ, ২৭ টি বিভাগ, বেশ কয়েকটি ইনস্টিটিউট ও কেন্দ্র সম্প্রসারিত হয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ৪৮৭ এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯ হাজার ২৬২ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও ৮ টি মেডিকেল কলেজের ২৭৪৪ জন শিক্ষার্থী সংযুক্ত রয়েছে।
১৯৯৩ সালে শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক (প্রয়াত) প্রফেসর হাবিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে প্রফেসর তুলসী কুমার দাস ও প্রফেসর মো. ফখরুল ইসলামকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে সমাজকর্ম বিভাগ। ১৯৯৩-১৯৯৪ শিক্ষা বর্ষে প্রথম ব্যাচে ৪৮জন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে ৪২ জন। ১৯৯৪ সালের ২৭ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয় সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম ব্যাচের প্রথম ক্লাস। সমাজকর্ম বিভাগে বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা- ২০জন এবং শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩’শ জন । ১৯৯৪ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় সমাজকর্ম সমিতি। যা আমাদের এক সুতোয় বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। হৃদয়ের বন্ধন আরও জাগ্রত করতে ২১ অক্টোবর ২০১১ খ্রি. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের প্রথম এলামনাই এসোসিয়েশন হিসেবে সমাজকর্ম এলামনাই এসোসিয়েশন অত্মপ্রকাশ করে। যা একটি গতিশীল সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
শাবি ক্যাম্পাসে সমাজকর্ম বিভাগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নতুন ক্যাম্পাসে সৃষ্টি আর আদর্শের পথিকৃত সমাজকর্ম বিভাগ। শাকসু’র মহিলা সম্পাদক ও নাট্য সম্পাদক, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, শিকড়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সাস্ট ডিবেটিং ক্লাবের আহবায়ক, চোখ ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় ডি এন্ড সি ক্লাব টিম ক্যাপ্টেন, শাহপরাণ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নির্বাচিত ও মনোনীত প্রতিনিধি ছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও অহনা, রোটারেক্ট ক্লাব, সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ট্যুরিস্ট ক্লাব, রোভার স্কাউটস-এর সদস্য পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল, হ্যান্ডবল, বাস্কেট বল, ক্রিকেট টিমসহ সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া নৈপূন্যে দখল দারিত্ব ছিল অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের পদচারণা ছিল নক্ষত্রের মতো। সমাজকর্ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ভারত সফরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফরের এক নজীর সৃষ্টি করে। বর্তমানেও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অতীত ঐতিহ্য বজায় রাখবে। সফল পদচারণায় মুখরিত করবে ক্যাম্পাস, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
১৯৯৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭০ জন সমাজকর্মে স্নাতক ও স্ন্নাতকোত্তর ডিগ্রী পেয়েছেন। তারা সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োজিত রয়েছে। প্রায় ৩০ জন স্নাতক সরকারী কলেজগুলিতে অনুষদ সদস্য হিসাবে নিযুক্ত আছেন। পেশাদার সমাজকর্মী হিসেবে ৯ জন কাজ করছেন। পুলিশ ক্যাডারে চাকরিতে আছেন ৩ জন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক ৮৯ জন ব্যাংকার রয়েছেন। প্রায় ১৪৭ জন সরকারী চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছেন। বেশির ভাগ প্রাক্তন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পরে বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন। এ ছাড়াও কর্মসংস্থানের আর একটি উৎস বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে শিক্ষকতা করছেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য