logo
news image

শাবি সমাজকর্ম বিভাগ-এর রজত জয়ন্তী ৫ ও ৬ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বব্যিালয়, সিলেট-এর সমাজকর্ম বিভাগ ইতোমধ্যে ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। ‘স্মৃতির বাঁধনে-বাঁধিব আবার’ শ্লোগানে এ গৌরবময় মাইলফলকটি স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ৫-৬ মার্চ ২০২০ বৃহস্পতি ও শুক্রবার ‘রজত জয়ন্তী’ উদযাপিত হতে যাচ্ছে।
রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম। গেষ্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন, উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়; প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকার, সাবেক উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া; প্রফেসর ড. প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার, উপাচার্য, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা; প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, ট্রেজাজার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, বরিশাল।
সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ১৯৮৭ সালে হলেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। মাত্র ১৩ জন শিক্ষক, ২০৫ জন শিক্ষার্থী এবং পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও অর্থনীতি তিনটি বিভাগ নিয়ে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন ৭ টি অনুষদ, ২৭ টি বিভাগ, বেশ কয়েকটি ইনস্টিটিউট ও কেন্দ্র সম্প্রসারিত হয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ৪৮৭ এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯ হাজার ২৬২ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও ৮ টি মেডিকেল কলেজের ২৭৪৪ জন শিক্ষার্থী সংযুক্ত রয়েছে।
১৯৯৩ সালে শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক (প্রয়াত) প্রফেসর হাবিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে প্রফেসর তুলসী কুমার দাস ও প্রফেসর মো. ফখরুল ইসলামকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে সমাজকর্ম বিভাগ। ১৯৯৩-১৯৯৪ শিক্ষা বর্ষে প্রথম ব্যাচে ৪৮জন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করে ৪২ জন। ১৯৯৪ সালের ২৭ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয় সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম ব্যাচের প্রথম ক্লাস। সমাজকর্ম বিভাগে বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা- ২০জন এবং শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩’শ জন । ১৯৯৪ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় সমাজকর্ম সমিতি। যা আমাদের এক সুতোয় বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। হৃদয়ের বন্ধন আরও জাগ্রত করতে ২১ অক্টোবর ২০১১ খ্রি. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের প্রথম এলামনাই এসোসিয়েশন হিসেবে সমাজকর্ম এলামনাই এসোসিয়েশন অত্মপ্রকাশ করে। যা একটি গতিশীল সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
শাবি ক্যাম্পাসে সমাজকর্ম বিভাগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নতুন ক্যাম্পাসে সৃষ্টি আর আদর্শের পথিকৃত সমাজকর্ম বিভাগ। শাকসু’র মহিলা সম্পাদক ও নাট্য সম্পাদক, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, শিকড়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সাস্ট ডিবেটিং ক্লাবের আহবায়ক, চোখ ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় ডি এন্ড সি ক্লাব টিম ক্যাপ্টেন, শাহপরাণ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নির্বাচিত ও মনোনীত প্রতিনিধি ছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও অহনা, রোটারেক্ট ক্লাব, সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ট্যুরিস্ট ক্লাব, রোভার স্কাউটস-এর সদস্য পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল, হ্যান্ডবল, বাস্কেট বল, ক্রিকেট টিমসহ সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া নৈপূন্যে দখল দারিত্ব ছিল অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের পদচারণা ছিল নক্ষত্রের মতো। সমাজকর্ম এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ভারত সফরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফরের এক নজীর সৃষ্টি করে। বর্তমানেও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অতীত ঐতিহ্য বজায় রাখবে। সফল পদচারণায় মুখরিত করবে ক্যাম্পাস, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
১৯৯৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭০ জন সমাজকর্মে স্নাতক ও স্ন্নাতকোত্তর ডিগ্রী পেয়েছেন। তারা সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োজিত রয়েছে। প্রায় ৩০ জন স্নাতক সরকারী কলেজগুলিতে অনুষদ সদস্য হিসাবে নিযুক্ত আছেন। পেশাদার সমাজকর্মী হিসেবে ৯ জন কাজ করছেন। পুলিশ ক্যাডারে চাকরিতে আছেন ৩ জন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক ৮৯ জন ব্যাংকার রয়েছেন। প্রায় ১৪৭ জন সরকারী চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছেন। বেশির ভাগ প্রাক্তন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পরে বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন। এ ছাড়াও কর্মসংস্থানের আর একটি উৎস বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে শিক্ষকতা করছেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য