logo
news image

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
ফারাক্কা বাঁধের সব কয়টি লক গেট খুলে দেওয়ার কারনে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকেই লালপুর ও বাঘা পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে থাকে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কারনে লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া, দুড়দুড়িয়া, লালপুর ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের সমস্ত ফসল তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাড়ি-ঘরে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি বিভাগ ২২হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি নষ্ট হওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এছাড়া বাঘা উপজেলার চক রাজারপুর ও গড়গড়ি ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ সকল এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হচ্ছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপাত্ত সংগ্রহকারী এনামুল হক জানান,  বিহার ও উত্তর প্রদেশের বন্যার পানি আসতে থাকায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে।আজ  মঙ্গলবার সকাল ৬ টায় পদ্মায় পানির উচ্চতা ছিলো ১৮ দশমিক ৪ মিটার। অর্থ্যাৎ বিপদসীমার মাত্র ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৯০ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।
উত্তরবঙ্গের ভারী শিল্প  নর্থবেঙ্গল চিনিকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৮ নভেম্বর সুগার মিলটি চিনি উৎপাদনে যাবে। এই মিলের বেশির ভাগ আখের চাহিদা মেটানো হয় পদ্মার চর থেকে। কিন্তু মিল শুরুর আগ মুহুতে চরে থাকা ৪২ একর জমির আখ তলিয়ে গেছে। এতে করে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানিন দ্যুতি জানান, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়ার কারনে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিলমারিয়া, লালপুর এবং ঈশ্বরদী এই তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের কাছে ত্রান চেয়ে চিঠি দিয়েছি।
নাটোর উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, লালপুরের পদ্মা নদীর পানি চারঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা বরাবর অবস্থান করছে। প্রতিনিয়ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে আগামী ৩ অক্টোবর বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, পদ্মায় পানি বাড়লেও শহরে এখনো তা ঢুকবে না। শহরের সাথে সংযুক্ত সুইচগেটগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা, চারঘাট ও লালপুরের চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতির আশংকা আছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুকে জানিয়েছেন, এসব পানিবন্দী মানুষকে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top