logo
news image

লালপুরে উজানের ঢল দিশেহারা চর এলাকার কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
উজান থেকে নেমে আসা পদ্মার পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে নাটোরের লালপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের চর এলাকার ১২শ’ পরিবার। হঠাৎ করেই পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার নওসারা সুলতানপুর, দিয়াড়শঙ্করপুর, চাকলা বিনোদপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর, বাকনাই, বন্দোবস্তগোবিন্দপুর ও লালপুর চরের প্রায় ১৬৭ বিঘা জমিতে চাষকরা শীতকালীন আগাম সবজি ক্ষেতসহ প্রায় এক হাজার একর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চর এলাকার কৃষকরা।
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে পদ্মানদীর পানি বৃদ্ধিতে জেগে উঠা ৭টি চরের মোট ২২.২৫ হেক্টর জমিতে আগম চাষ করা মূলা, পুইশাক, লালশাক, বেগুন, লাউ ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এছাড়াও চরের প্রায় ৫৫০ হেক্টক আখ ক্ষেতে পানি প্রবেশ করেছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) নদী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের আকস্মিক পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পদ্মায় জেগে উঠা ৭টি চরে আগাম সবজি ক্ষেতগুলি তলিয়ে গেছে এছাড়াও আখ ক্ষেত গুলিতেও প্রবেশ করেছে পানি। এছাড়াও পদ্মা চরের বেশ কিছু বাড়ি ঘরেও পানি উঠেছে।
বিলমাড়িয়া এলাকার চাষী জুয়েল আলী বলেন, ‘পদ্মার পানিতে তার ৪ বিঘা জমির মূলা তালিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।’ ঐ এলাকার মূলা চাষী রফিকুল ও সেকেন্দার বলেন, ‘ অনেক টাকা খরচ করে তার ৪ বিঘা জমিতে আগম মূলা চাষ করেছিলাম, পদ্মার পানিতে সব নষ্ট হয়েগেছে এখন পরিবার নিয়ে বিপদে আছি।’
নওসারা সুলতানপুরের কৃষক আবজাল জানান, ‘পদ্মার পনি তার ২৭ বিঘা আখের জমিতে ঢুকেছে, পানি দ্রুত নেমে না গেলে সুগার মিলে আখ দেওয়া যাবেনা।’
বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘এখানকার ৫-৭ টি চরে আবাদ করেই এই এলাকার মানুষেরা তাদের জীবনজিবিকা নির্বাহ করে থাকে। পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে জমিগুলি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।’
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চর এলাকার কৃষকরা এবছর আগাম শীতকালীন ফসল চাষ করায় গত ৫-৭দিনে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে প্রায় ২২.২৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত তলিয়ে সবজি নষ্ট হয়েছে। তবে কিছু আখ ক্ষেতে পানি ডুকলেও পানি নেমে গেলে তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এছাড়াও পানি নেমে যাওয়ার পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সঠিকভাবে বলা যাবে বলে তিনি জানান।’
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আল আসাদ জানান, ‘ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার কারনে এবং উজানে অতিবৃষ্টিতে হঠাৎ করেই পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১৭ দশমিক ৮৪ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদসীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ৩ নভেম্বর পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে।’
লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, ‘পদ্মার আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে চর এলাকার ২২.২৫ হেক্টর জমির শীতকালিন সবজি ক্ষতি হয়েছে। সব সময় খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আশ্রয় কেন্দ্র খুলে তাদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহযোগিতার জন্য চেষ্টা করছি।’
তিনি আরো জানান, উপজেলার বিলমারিয়া, লালপুর ও ঈশ্বরদি ইউনিয়নে বেশ কিছু চর এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে বিলমারিয়া ইউনিয়নে ৬শ’,লালপুর ইউনিয়নে ৪শ’ এবং ঈশ্বরদি ইউনিয়নের চর এলাকায় প্রায় ২শ’ পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের লোকজন চর এলাকায় বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করার পাশাপাশি জমিতে আখ, তুলা, মূলা, পুঁইশাক, কলা, বেগুন, সিম, লাউ, পটল, পেয়ারা পেঁয়াজ কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করেন।
সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা ঢল পদ্মা নদী দিয়ে এসব নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করত শুরু করে। এতে ফসল ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বাড়ি-ঘরের চারদিক,উঠান ইত্যাদি ডুবে গেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শরিফুন্নেছা জানান, জেলা প্রশাসন থেকে দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাবারসহ অন্যান্য সহযোগিতা পাঠানো হবে।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top