logo
news image

নাটোরে ১৫৭টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
নাটোর জেলায় চার কোটি ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহহীণদের জন্যে ১৫৭টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৩ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসুচীর আওতায় নির্মিত এসব বাসগৃহ একযোগে উদ্বোধন করবেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত অর্থে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ১৫৭টি বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলায় ২৪টি করে, বড়াইগ্রাম ও লালপুর উপজেলায় ২৩টি করে এবং নাটোর সদর, নলডাঙ্গা ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ২১টি করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান নির্মাণের ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘গৃহহীণদের গৃহদান’ কর্মসূচীর অগ্রাধিকার প্রদান, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকার যে সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামান্য জমি বা ভিটা আছে; কিন্তু টেকসই ঘর নেই তাদের জন্যে দুই শতাংশ জমির উপর রান্নঘর ও টয়লেটসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা টিনশেড গৃহ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করে। এরপর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, একজন শিক্ষক, একজন গন্যমান্য ব্যক্তি ও আনসার সদস্য সহযোগে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি গৃহ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে।
গৃহ পেয়ে উচ্ছ্বসিত নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের বারুহাট গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা সোহাগী খাতুন প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। অন্য উপকারভোগী একই উপজেলার লক্ষীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চৌরী গ্রামের কৃষি দিনমজুর শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে জরাজীর্ণ খেড়ের ঘরে থাকতাম,বৃষ্টির দিনে মেঝেতে পানি পড়তো। কিন্তু ঘর করার সামর্থ্য ছিলনা।
লক্ষীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চৌরী গ্রাম এলাকার ইউপি সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ লাল মিয়া জানান, এক নম্বর ইটে কাজ করা হয়েছে, উপরে রঙিন ঢেউটিন দেয়া হয়েছে এবং দরজা-জানলাতে দেয়া হয়েছে মেহগিনি কাঠ।
নির্মিত এ সব গৃহে ভবিষ্যতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সোলার প্যানেল সংযোজনের সুবিধা রাখা হয়েছে বলে জানান নাটোর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মোঃ ওমর খৈয়াম।
নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আকতার বানু বলেন, নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গৃহগুলো দুর্যোগ সহনীয় ও টেকসই করে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি অর্থ বছরে জেলার সাতটি উপজেলায় ১৮৯টি গৃহ নির্মাণের লক্ষ্যে পাঁচ কোটি ৬৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফুন্নেছা বলেন, আগামী ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে এসব বাসগৃহ উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top