logo
news image

ক্লিন সাস্ট মুভমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাবি।।
ক্লাস শেষে সবুজ ক্যাম্পাসের আলো-বাতাস গায়ে মেখে হাঁটেন তিনি। কথা বলেন প্রকৃতির সঙ্গে। রাজ্যের সৃজনশীল ভাবনা তার মাথায় প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খায়। এই ভাবুক মানুষটি একদিন দেখলেন ক্যাম্পাসের পথ-ঘাট ময়লায় একাকার! সবুজ ক্যাম্পাস ময়লায় কেমন যেন বিষিয়ে উঠছে! ২০১৮ সালের কথা। নীরবে হেঁটে চলা এই মানুষটি একটা মুভমেন্টের কথা ভাবলেন। ময়লা পরিস্কারের মুভমেন্ট। একই বছরের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে নিজের প্রিয় ছাত্র আবিদ, শামীম, রিপন, নিপা, আশরাফুল, সাইফুল, সাব্বির, সাবরিনা, সাঈদ ও জিল্লুরদের ডেকে আড্ডায় বসেন। বলেন ক্লিন সাস্ট মুভমেন্ট অভিযানের কথা। ছাত্ররা এক কথায় রাজি। তারপর শুরু করেন যাত্রা। অধ্যাপক মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর বলেন, 'প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসে আসে, সার্টিফিকেট অর্জন করে। আবার কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের ইতি টানে। এই ছাত্রদের সবাই ক্যাম্পাসের আলো-বাতাস এবং সবুজ পরিবেশে বেড়ে ওঠা সুমিষ্ট ফলবৃক্ষের মতো। কিন্তু যে ক্যাম্পাসের অবদানে তারা সুমিষ্ট হয়ে ওঠে সেই ক্যাম্পাস নিয়ে আমরা কতটা ভাবি?'
এমন ভাবনা থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর ক্যাম্পাস পরিস্কারে নামেন প্রিয় কিছু ছাত্রছাত্রী নিয়ে। এখন অনেক শিক্ষার্থীই এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে চান। অথচ একসময় ক্যাম্পাস পরিস্কারের জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ঝাড়ূও ছিল না। অধ্যাপক মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর বলেন, 'শুরুতে নিজেরা টাকা দিয়ে কিছু ঝাড়ূ কিনে নিই। এরপর সপ্তায়- শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস পরিস্কার করি। এভাবেই আমাদের ক্লিন সাস্ট মুভমেন্ট অভিযান চলতে থাকে। একদিন ভাবি, যদি ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন থাকত তবে সবাই ময়লা ডাস্টবিনে ফেলত। এই চিন্তা থেকে প্রথমে দুটি ডাস্টবিন সংগ্রহ করি। পরে প্রায় আরও ৪০টি ডাস্টবিন ও প্লাস্টিকের ঝুড়ি ইংরেজি বিভাগের আমার কিছু সাবেক ছাত্রছাত্রী কিনে দেয়। এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কিছুদিন আগে ১০০টি ডাস্টবিন কিনে দেন। খাবারের দোকানগুলোয় প্লাস্টিকের ঝুড়ি দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে এই কাজ অনেকেই আড়চোখে দেখত আবার কেউ কেউ নিরুৎসাহিতও করত। কিন্তু এখন অনেকেই এসে যুক্ত হচ্ছে এর সঙ্গে। শাবির শিক্ষকরা সবসময়ই আমাদের উৎসাহিত করেছেন। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও এখন যুক্ত হচ্ছেন এর সঙ্গে।'
গড়ে তুলেছেন লাইব্রেরি
বই অবসরের সঙ্গী- এই ভাবনা থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে নিজ অর্থায়নে গড়ে তোলেন লাইব্রেরি। বর্তমানে লাইব্রেরিতে আছে প্রায় এক হাজার ৪৫০টি বই। প্রতি শুক্র ও শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে লাইব্রেরি। এ ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ার পাশাপাশি হলে বা বাসায়ও নেওয়া যায় বই। তবে এর জন্য সদস্য হতে হয়। বর্তমানে এমন পড়ূয়া সদস্য আছে ৮৬০ জন। এই লাইব্রেরিতে শাবির শিক্ষক ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং ইয়াসমিন হক বই উপহার দিয়েছেন। পুরনো শিক্ষার্থীরাও সমৃদ্ধ করছেন লাইব্রেরির বইয়ের সংগ্রহ।
অধ্যাপক আলমগীর শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। দেশের পাশাপাশি কলকাতা থেকেও প্রকাশিত হয়েছে তার বই। প্রিয় এই শিক্ষক স্বপ্ন দেখেন, একদিন পরিস্কার, সবুজ-শ্যামল ও শিক্ষার আলোয় শাবির পাশাপাশি বাংলাদেশও উদ্ভাসিত হবে।।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top