logo
news image

লালপুরে বিকাশ প্রতিনিধির টাকা ছিনতাই নাটক উদঘাটন করো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নাটোরের লালপুরে ছিনতাইয়ের নাটক করতে গিয়ে ফেঁসে গেল বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের ডিএসও সুমন আলী ও তার মামাতো ভাই হাসান। তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধারের পর নাটোরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রামের সার্কেল এসপি হারুন আর রশিদ, জেলা গোয়েন্দারা অফিসার সৈকত হাসান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিকর্ণ কুমার চৌধুরী, সহকারী পুলিশ অফিসার আমিনুর ইসলাম, মাহমুদ, মতিন,  রুহুল আমিন।
প্রেস ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আকরামুল হোসেন এক লিখিত বক্তব্যে জানান যে, গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোরের লালপু থানা পুলিশ লালপুর থানাধীন চংধুপইল ইউনিয়নের চংধুপইল হতে গোপালপুর যাওয়ার পথে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের প্রতিনিধি মোঃ সুমন আলী (২৬), পিতা- মোঃ আফাজ উদ্দিন, সাং- জোয়াড়ী, থানা- বড়াইগ্রাম, জেলা- নাটোর এর নিকট হতে অস্ত্র দেখিয়ে ৪ (চার) জন ছিনতাইকারী তার কাছে থাকা ৫,৮০,০০০/- টাকা এবং তার নিজের ও প্রতিষ্ঠানের ২টি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় মর্মে সংবাদ পায়। সংবাদ পেয়ে নাটোর জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশের কয়েকটি টিম সশস্ত্র ছিনতাইকারীদের আটক এবং লুন্ঠিত টাকা ও মোবাইল উদ্ধারের নিমিত্তে অভিযানে নামে।
বিকাশ ডিসট্রিবিউটর মোঃ মিজানুর রহমান@ বাবু (৩৮), পিতা- মোঃ শামসুল ইসলাম, সাং- তেবাড়ীয়া, থানা ও জেলা- নাটোর সন্ধ্যায় লালপুর থানায় হাজির হয়ে জানায় যে, তার বিক্রয় প্রতিনিধি মোঃ সুমন আলী (২৬), পিতা- মোঃ আফাজ উদ্দিন, সাং- জোয়াড়ী, থানা- বড়াইগ্রাম, জেলা- নাটোর ১৮/০৯/২০১৯খ্রিঃ সকাল আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় নাটোর সরদস্থ তার কার্যালয় হতে ৬,০০,০০০/- টাকা উত্তোলন করে ৫,৮০,০০০/- টাকা একটি ব্যাগে এবং অবশিষ্ট ২০,০০০/- টাকা তার প্যান্টের পকেটে নিয়ে লালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করে। পথিমধ্যে ২ জন এজেন্টের নিক ৮,০০০/- টাকা লেনদেন করে আনুমানিক দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় চংধুপইল ইউনিয়নের চিরঞ্জীব মমতাজ স্মরণ সৌধ এর নিকট পৌছালে ২টি পালসার মোটারসাইকেল মোট ৩ জন তার পথরোধ করে। তার মধ্যে ১ জন তাকে পিস্তুলের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ এবং ২টি মোবাইল কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে উক্ত ছিনতাইকারী কথিত ভিকটিম মোঃ সুমন আলীর মোটরসাইকেলের পেছনে উঠে বসে এবং তাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে গোপালপু নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের দিকে যেতে বাধ্য করে। গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে পৌছার পূর্বেই তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামতে বাধ্য করে। সেখানে পূর্ব হতে আরো একজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিল। ছিনতাইকারীর উক্ত স্থানে কথিত ভিকটিম মোঃ সুমন আলীকে রেখে তাদের মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ আকরামুল হোসেন বর্তমানে দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মোতাবেক লালপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ফোর্স ঘটনার মূল রহস্য উৎঘাটনের কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে তদন্তকারী অফিসার জানতে পারেন যে, উল্লেখিত স্থানে বর্ণিত সময়ে কোন ছিনতইয়ের ঘটনা ঘটেনি। ব্যাপক তদন্তে জানা যায় কথিত ভিকটিম সুমন আলী ঘটনার পূর্বের রাতে ছিনতাই এর নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করে এবং তার মামাতো ভাই হাসান (২৫), পিতা- ইউনুস আলী, সাং- জোয়ারী মিস্ত্রিপাড়া, থানা- বড়াইগ্রাম, জেলা- নাটোর কে গত ১৮/০৯/২০১৯ খ্রিঃ আব্দুলপুরে  থাকার জন্য বলে রাখে। তার পরিকল্পনা মোতাবেক হাসান (২৫) আব্দুলপুরে অবস্থান করে। কথিত ভিকটিম সুমন আলী ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ১১.০০ ঘটিকায় আব্দুপুরে আসে এবং হাসানের নিকট ৫,৮০,০০০/- টাকা তুলে দেয় এবং উক্ত টাকাগুলি লুকিয়ে রাখার জন্য বলে।
পরবর্তীতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ডিস্টিবিউশন হাউজের ডিএসও আসামী মোঃ সুমন আলী স্বীকার করে যে, টাকা গুলো সে নিজেই আত্বসাৎ করার উদ্দেশ্যে মোঃ হাসান, পিতা- ইউনুস, সাং- জোয়াড়ী, থানা- বড়াইগ্রাম, জেলা- নাটোর এর নিকট লুকিয়ে রেখেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বড়াইগ্রাম সার্কেল এর নেতৃত্বে একটি দল বড়াইগ্রাম থানাধীন জোয়ারী ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর পুত্র হাসন (২৫), এর ঘরে অভিযান চালিয়ে অদ্য সকাল ০৭.০০ ঘটিকায় ৫,৮০,০০০/- টাকা উদ্ধারসহ আসামী হাসানকে (২৫) আটক করে।
বর্ণিত ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top