logo
news image

বাগাতিপাড়ায় বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিস স্থাপন নিয়ে দুই পক্ষের টানাটানি

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধিঃ
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে বাগাতিপাড়া উপজেলায় সাবজোনাল অফিস স্ব-স্ব এলাকায় স্থাপন নিয়ে দুই পক্ষের টানাটানি শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। পালন করছেন মানব বন্ধন-বিক্ষোভের মত কর্মসূচী। বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্ত্বর ও তমালতলা এলাকাবাসী নিজ নিজ এলাকায় এই সাবজোনাল অফিস স্থাপনের দাবিতে নিজেদের পক্ষে গ্রাহকদের গণসাক্ষর গ্রহন করে তা বিদ্যুৎ অফিসসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিয়েছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ নিয়ে গণশুনানীও গ্রহন করা হয়েছে। এদিকে তিন দিনের মধ্যে নিজেদের এলাকায় সাবজোনাল অফিস স্থাপনের ঘোষনার আলটিমেটাম দিয়েছে তমালতলাবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তমালতলার চার মাথা মোড়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালনকালে তারা এ আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুশিয়ারি দিয়েছেন। তমালতলা এলাকায় সাবজোনাল অফিস স্থাপনের পক্ষে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক জামিলুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুল হাকিম, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান দোলন, অধ্যক্ষ মামুন অর রশীদ, প্রধান শিক্ষক কাইছার ওয়াদুদ বাবর, বাজার কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন প্রমুখ। মানব বন্ধনে সাধারন মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।
বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগাতিপাড়া উপজেলায় সাবজোনাল অফিস স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। এ সমিতির আওতায় বর্তমানে এ উপজেলার প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন। এসব গ্রাহকদের গ্রাম থেকে নাটোর শহরের ফুলবাড়ি এলাকার কার্যালয় থেকে সেবা গ্রহণ করতে হয়। এসব এলাকার গ্রাহকদের সেবা গ্রহন সহজীকরণের লক্ষ্যে সমিতি এ উপজেলায় সাবজোনাল অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ওই সাবজোনাল অফিস বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্ত্বর ও তমালতলা এলাকায় স্থাপনের দাবি জানান স্ব-স্ব এলাকাবাসী। এ নিয়ে কয়েকমাস পূর্বে থেকেই গণ সাক্ষর গ্রহন করে তা বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেন উভয় পক্ষ। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত গড়ালে উভয় পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল একটি গণশুনানী গ্রহন করেন। এদিকে ওই শুনানীর দিনে বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্ত্বর এলাকায় সাবজোনাল অফিস স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন।
তমালতলা এলাকার পক্ষে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে অধ্যক্ষ মামুন অর রশীদ ও আফরোজ্জামান নিপুন বলেন, সম্প্রতি তমালতলায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণের সাব-স্টেশন স্থাপিত হয়েছে। এ উপজেলায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর গ্রাহকদের ৭৫ ভাগই তমালতলাকে কেন্দ্র করে আশে-পাশের ইউনিয়ন ও গ্রামের গ্রাহক রয়েছেন। এ এলাকায় ভোটার সংখ্যাও অনেক বেশি। তাছাড়া তমালতলায় ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও সরকারের গ্রামকে শহরে রূপান্তর এবং সেবা সাধারন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাদের এলাকায় বিদ্যুতের এই উপ-আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি তুলেছেন।
অন্য দিকে বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্ত্বর এলাকার পক্ষে আন্দোলনকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩০ বছর থেকে যেহেতু উপজেলা চত্ত্বরে একটি অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই অভিযোগ কেন্দ্রটিই সম্প্রসারিত হয়ে সাবজোনাল অফিস হবে, সেহেতু একটি অনুমোদিত অফিস তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে দিতে তারা চাননা। এছাড়াও তিনি বলেন, উপজেলা চত্ত্বরে বিদ্যুতের এই অফিসটি স্থাপিত হলে সরকারের অন্যান্য সকল দপ্তরের সাথে একই স্থানে বিদ্যুতের সেবাও পাবে গ্রাহকরা। অন্যদিকে ব্যাংকিং সুবিধা ও অগ্নি দূর্ঘটনারোধে নিকটবর্তী দূরত্ব থেকে ফায়ার সার্ভিস সেবা পাওয়া যাবে।  তাছাড়াও এই সাবজোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের লেখা-পড়ার জন্য নিকটবর্তী সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য সেবার জন্য নিকটবর্তী স্থানে হাসপাতালের সুবিধা পাবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, সম্প্রতি সাবজোনাল অফিস নিয়ে দুই এলাকাবাসীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ স্যারের পরামর্শে একটি গণ শুনানী করা হয়েছে। শিগগিরিই ওই গনশুনানীর প্রতিবেদন তিনি উর্দ্ধোতন বরাবর প্রেরণ করবেন।
এ ব্যাপারে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই এলাকাবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতামত প্রেরণ করা হলে বিষয়টি বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।

সাম্প্রতিক মন্তব্য