logo
news image

ঈশ্বরদীতে ছেলেধরা সন্দেহে ২জনকে গণপিটুনি

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
ঈশ্বরদীতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছেলেধরা সন্দেহে ২ জনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর ওয়াবদা গেটের সামনে মোহাম্মদ লোকমান আলি (৪৮) কে এবং সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই ইউনিয়নের মানিকনগরে মানসিক প্রতিবন্ধী নারী মিনারা(৪০)কে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী।
আহত লোকমান আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দানিয়ালগাছি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে। জানা যায়, স্থানীয় লোকজন অপরিচিত এবং সাথে পোটলা দেখে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লোকমানকে উদ্ধার করে। গণপিটুনিতে লোকমান মারাত্বক জখম হয়েছেন।
 ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, বিষয়টি জানার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মূলত লোকমান দিনমজুর। তার কথা বলার সময় ভাষাগত কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়। মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ঘটনাটি বড় করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
অপরদিকে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৪০ বছর বয়সী মিনারা নামের এক নারী মানিকনগর গ্রামের পূর্বপাড়ায় জনৈক আক্কেল প্রামাণিকের বাড়িতে ঢুকে অসংলগ্ন আচরণ করে। মানসিক ভারসাম্যহীন মিনারা বাড়ির গৃহিনীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে গলাকেটে নেবে বলে হুমকি দেয়। এতে আক্কেল প্রামাণিকের স্ত্রী ভীত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু  করলে  আশেপাশের লোকজন এসে ধরে পিটুনি দেয়। এসময় তার একটি পলিথিন ব্যাগ হতে বিভিন্ন ধরনের  শুকনো খাবার, একটি চাকু  পাওয়া যায়। চাকু দেখে লোকজন তাকে  গলাকাটার জন্য ছেলেধরা বলে ধারণা করে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ সমাবেত হয় এবং ঈশ্বরদীর সর্বত্র ঘটনা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে।
থানার এসআই শাহীন জানান, ধৃত নারী আসলে মানসিক রোগী। সে পাবনা সদর উপজেলার হেমাইতপুর ইউনিয়নের চরভাঙ্গাবাড়িয়া ঘোষপুর গ্রামের মৃত রওশন শেখের মেয়ে মিনারা। পলিথিনের ব্যাগে পাবনা মানসিক হাসপাতালের প্রেসক্রিপশন ও পাগলের চিকিৎসার যাবতীয় ঔষুধও পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য