logo
news image

ভারতে পাচারকালে ৮শ বস্তা ছোলাবুট আটক

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি
আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বিদেশ থেকে ভর্তুকি দিয়ে আমদানী করে দেশের বাজারের জন্য আনা ছোলা রাঙামাটির সীমান্ত পথে পার্শ¦বর্তী দেশ ভারতে পাচার করছে একটি অসাধু চক্র। গত কয়েক বছর ধরে এই চক্রটি সংশ্লিষ্ট্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বরকল উপজেলাধীন হরিণা সীমান্তের ওপারের চোরাকারবারিদের সাথে আতাঁত করে রাঙামাটি থেকে নদীপথে হরিণা হয়ে ভারতে পাচার করছে মোটর সদৃশ্য ছোলা বুট। বিষয়টি নজরে আসার পর বরকল সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি বরকল বিজিবি জোন কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাপক তৎপরতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাঙামাটি থেকে পাচার হতে যাওয়া অন্তত ৮শ বস্তা ছোলা আটক করা হয়েছে। পৃথক দুটি স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব ছোলাবুট আটক করা হয়েছে বলে বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। জব্দকৃত এসব ছোলার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৪ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
বরকল বিজিবি জোনের কমান্ডার লে: কর্ণেল ফরহাদ হারুন চৌধুরী জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিণা যাওয়ার পথে দুইটি বড় আকারে ইঞ্জিন চালিত বোট আটক করে সেগুলোর ভেতরে ৮শ বস্তা ছোলা বুট পাওয়া গেলে আমরা সেগুলো জব্দ করেছি। বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ মফজল আহামদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমি শুনেছি বিজিবি কর্তৃক এগুলো আটক করা হয়েছে, সেগুলো আমাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এদিকে বরকলের সুবলং চেকপোষ্টেও একই চক্রের আরো কিছু ছোলার বস্তা আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, আবু আহাম্মদ, খোকন, মোমিন ও বাবুল নামের হরিণার চার ব্যবসায়ি এসব মালামাল রাঙামাটি থেকে কিনে নিয়ে বোটের মাধ্যমে পাঠাচ্ছিলো। এসব পণ্য হরিণা নিয়ে রাতে অন্ধকারে ভারতে পাচার করে দেয় অন্য আরেকটি চক্র। ঐ চক্রের নেতৃত্ব দেয় বরকলে বাঙ্গালী সংগঠনের নামে চাঁদা উত্তোলনকারি জনৈক ছিদ্দিক বেপারী ও মনসুর নামের দু’জন ব্যবসায়ি। প্রতিটি বস্তা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে নদী দিয়ে ভারতীয় সীমান্তে পৌছে দেওয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট্যহারে টাকা নিয়ে থাকেন তারা। এছাড়াও একজন উপজাতীয় ব্যবসায়ির মাধ্যমেও এ ধরনের অবৈধ মালামাল পাচার করে স্থানীয় বেশকয়েকজন ব্যবসায়ি। বিষয়টি জানতে ছিদ্দিক বেপারীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্ঠা করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়িদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্ঠা চালায়। পরে তারা প্রতিবেদককে জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে গিয়ে বোট ও লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা এসব ছোলাবুট মজুদ করে রাখতেই নিয়ে যাচ্ছিলাম। হরিণার মতো একটি জায়গায় সামান্য কয়জন বাসিন্দার জন্য এতোগুলো ছোলা মজুদ কেন? এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে ব্যবসায়ি আবু আহাম্মদ জানান, আমরা জানি এগুলো উপজাতীয়রা তাদের শুয়োরকে খাওয়ায় তাই আমরা নিয়ে যাচ্ছিলাম।
জানাগেছে, হরিণার ব্যবসায়িদের মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ি পার্শ্ববর্তি সীমান্তের ওপারের চোরাকারবারিদের সাথে আঁতাত করে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র পাচার করে আসছে। রাঙামাটি থেকে পানির ফিল্টার, সোলার প্যানেল, বেটারি, মোবাইল সরঞ্জাম, রসুনসহ নানা ধরনের সামগ্রী হরিণার সীমান্তে ব্যবসার নামকরে এবং ধর্ম প্রচারকের ছদ্মবেশে ভারতে পাচার করছে একটি চক্র। দূর্গমাঞ্চল নৌ-পথ এবং পর্যাপ্ত পরিমানে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট্যদের এই অপতৎপরতা রোধ করতে হিমশীম খেতে হচ্ছে। তারপরেও স্বল্প সংখ্যক ইকুইপমেন্টের মাধ্যমে বরকল সীমান্তে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু বিলিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বিজিবির সদস্যরা। তারই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে  বুধবার পাচারকালীন অন্তত ৮শ বস্তা ছোলা আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরকল বিজিবি জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল ফরহাদ হারুন চৌধুরী। তিনি জানান, আমরা সীমান্তে কোনো প্রকার অপতৎপরতা চালাতে দিবো না। সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top