logo
news image

বাগাতিপাড়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধীতা নিয়েও এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে খাদিজা

মো. মঞ্জুরুল আলম মাসুম, বাগাতিপাড়া (নাটোর)।
এক পা নেই, আরেক পা‘ও স্বাভাবিক নয়। বাম হাতের চারটি আঙ্গুল নেই, আর ডান হাতের কব্জীর কিছু অংশ সরু, আঙ্গুলগুলোও অচল।  তবুও কৃত্ত্বিম পায়ে চলা-ফেরা, আর সেই অস্বাভাবিক কব্জীর হাত নিয়েই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে খাদিজা আক্তার রিমা। জীবনের যুদ্ধসম পথ চলায় প্রাথমিক ও জুনিয়র পরীক্ষার গন্ডি পেরিয়েছে, এবার মাধ্যমিকের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চায় সে।
নাটোর সদরের কদমতলি বাজারের তেঘরিয়ার লূৎফর রহমান ও হাসি খাতুন দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে খাদিজা আক্তার। আর ছোট ছেলে রোহান চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তবে ছোট বেলা থেকেই খাদিজা তার নানা আশকান প্রামানিকের বাড়িতে থেকেই পড়া-লেখা চালিয়ে যাচ্ছে। নানার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড়ের জামতলা মোড়ে। সে উপজেলার ফাগুয়াড় দিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাগাতিপাড়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫ নম্বর কক্ষে শনিবার প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে কথা হয় তার সাথে। সে জানায়, সে প্রতিবন্ধী হওয়ায় মামী মেরিনা আক্তারের সাথে কেন্দ্রে আসে। কৃত্তিম পায়ে চলাফেরা আর অস্বাভাবিক হাতে লিখতে অসুবিধা হয়। তবুও এগিয়ে যেতে চায় সে। বড় হয়ে সমাজের সেবা মূলক পেশায় নিজেকে আত্ম নিয়োগ করতে চায় খাদিজা।  
তার সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা মামী মেরিনা আক্তার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল খাদিজা’র। প্রতিদিন ঝড়বৃষ্টি, রোদ, কাদাপানি উপেক্ষা করে কৃত্তিম পায়ে ভর দিয়ে নিয়মিত স্কুলে যেত সে। তার এ ইচ্ছার কারনেই নিজের বাড়িতে রেখে তাকে সহযোগিতা করছি।’
ফাগুয়াড় দিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, খাদিজা আক্তার রিমা বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রী। তার পড়ালেখার প্রতি আগ্রহের কথা চিন্তা করে তাকে আমরা বিনা টাকায় ফরম পূরণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। সে পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাবে বলে আমরা খুব আশাবাদী।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top