logo
news image

আজিম-জান্নাতুল বাবা খুন হওয়ার পর মাকেও হারালো

নিজস্ব প্রতিবেদক, লালপুর (নাটোর)।  । 
নাটোরের লালপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে স্বামী কমিশনার জামিরুল ইসলাম হওয়ার খুনের শোক সইতে না পেরে ব্রেইন ষ্ট্রোকে মারা গেছেন স্ত্রী আছিয়া খাতুন।  বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোর ৪টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। আছিয়া খাতুন গোপালপুর পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর জামিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং বিরোপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।  এই মৃত্যুতে তাদের সন্তান আজিম-জান্নাতুল বাবা খুন হওয়ার পর মাকেও হারালো। 
আছিয়ার স্বামীর বড় ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, জামিরুলের (আছিয়ার স্বামী) মৃত্যুর দিন থেকে আছিয়া এক টানা আহাজারী করছিল। ২৩ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে তার ব্রেইন ষ্ট্রোক হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজশাহী সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় তার মৃত্যু হয়। দুপুর আড়াইটায় জানাজা শেষে বিরোপাড়া গোরস্থানে স্বামীর পাশেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিরোপাড়া তার নিজ বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। তার হত্যার ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাজার ঘাটে যেখানে সেখানে সবার মুখে একই কথা হাসি খুশী এই মানুষটিকে কোন অপরাধে খুন হতে হলো। এর পর আবার স্ত্রীর মৃত্যুর  বিষয়টি আরও শোকাহত করে তুলেছে এলাকায়।
জামিরুলের পিতা-মাতা বেঁচে আছেন। নিহতদের ছেলে আব্দুল আজিম শিক্ষা (১৩) স্থানীয় ফুলবাড়ি মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র এবং মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া বিদ্যার বয়স ৩ বছর।
১৩ বছর বয়সের আব্দুল আজিম বাবা মা হারানোর শেকে পাথর হয়ে গেছে যেন। সে এখন আর কারো সঙ্গে কথা বলছে না। আবার বুক ফাটা কান্নাও করছে না। তার তিন বছর বয়সের ছোট বোন জান্নাতুল মাওয়া তো বুঝতেই পারছে না আসলে তার কি ক্ষতি হয়েছে! সে কখনো ভাইয়ের মুখ, আবার কখনো দাদা-দাদী, চাচা-ফুফুদের আহাজারী দেখছে অবাক হয়ে।
সোমবার (২১ জানুয়ারি) আড়াইটায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে বাবার জানাজা পড়িয়েছিলো শিশু আব্দুল আজিম নিজেই। দুই দিন পরে আবার বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) একই সময়ে একই স্থানে মায়ের জানাজাও পড়াতে হলো তাকে।
কাউন্সিলর জামিরুল হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ২০ জনকে আসামি করে লালপুর থানায় মামলা করেছেন। এদের মধ্যে গোপালপুর পৌর এলাকার মধুবাড়ী মহল্লার আব্দুল খালেক ড্রাইভারের ছেলে সোহাগ (৩৪), শিবপুর মহল্লার সবুর খাঁ এর ছেলে রিজভী (২০), একই মহল্লার কামরুল হোসেনের ছেলে রায়হান ইসলাম (২৮) এবং বৈদ্যনাথপুর মধ্যপাড়া মহল্লার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রবিউল ইসলাম রান্টুকে (৪০) গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, স্বামীর খুন হওয়ার পরে স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি বড় মর্মান্তিক। এ নিয়ে এলাকায় যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে, তার জন্য  এলাকায়  পুলিশ মোতায়েন রাখাা হয়েছে।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top