logo
news image

না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাংবাদিক এনামুল হক খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় দুই মাস পর না-ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রথম আলোর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি এনামুল হক ওরফে খোকন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার (৯ জানুয়ারি) সকাল পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এনামুল হক (৫৮)।
এনামুলের মেজ ছেলে শিবলী নোমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাঁর বাবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাঁকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর রাতে তাঁর বাবার অবস্থার উন্নতি হয়। কিন্তু বুধবার সকালে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
মৃত্যুকালে এনামুল তাঁর মা, স্ত্রী, তিন ছেলে, এক ভাই ও পাঁচ বোন রেখে গেছেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে এনামুলের প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর গ্রাম শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এনামুল হক খোকন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি এলাকার বাসিন্দা। তিনি দৈনিক প্রথম আলোর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া জেলা দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এনামুলের মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যসহ সিরাজগঞ্জ জেলার সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব, সিরাজগঞ্জ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৭ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে মো.এনামুল হক খোকন সিরাজগঞ্জ থেকে তার পেশাগত দায়িত্ব শেষে গ্রামের বাড়ি (শাহজাদপুরের তালগাছি) ফেরার সময় বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে উল্লাপাড়ার পূর্বদেলুয়া বাজার এলাকায় এক পথচারিকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি মটরসাইকেল থেকে সড়কের উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি মটরসাইকেলে পূর্বদেলুয়া বাজার অতিক্রম করার সময় রিপন আলী নামের এক নির্মাণ শ্রমিক আকস্মিক দ্রুতগতিতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন।  তাকে বাঁচাতে গিয়ে এই সাংবাদিক মোটরসাইকেল ব্রেক করেন।
কিন্তু কাছাকাছি হওয়ায় সাইকেলটি পথচারির শরীরের উপর দিয়ে উঠে যায়।  এনামূল হক সাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তার উপরে পড়েন।  যদিও তার মাথায় হেলমেট ছিল।  তারপরও গুরুতর আহন হন তিনি।  একই সঙ্গে আহত হন নির্মাণ শ্রমিক রিপন আলী।  তিনি ঢাকার বাসিন্দা এবং পূর্বদেলুয়ায় নির্মাণাধীন সড়ক সেতুর কাজে নিয়োজিত।
রিপনকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় দোকানদার রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক এনামুল হক খোকনকে প্রথমে উল্লাপাড়া ২০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।  পরে তার অবস্থা আশংকা জনক মনে হলে তার আত্নীয় স্বজনদের নিয়ে রাতেই এনায়েতপুর খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার পরার্মশ দিলে রাতেই রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।
শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ২৮ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকায় তাঁর ছেলের বাসায় নেওয়া হয়।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top