logo
news image

গাছ আর ফুল বিক্রির টাকায় চলে সংসার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিংড়া (নাটোর)।  ।  
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তীব্র ঠান্ডা, কুয়াশা, প্রখর রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে গাছ আর ফুল বিক্রি করেই চলছে আল আমিনের জীবন সংসার। নিজস্ব কোন জমি নাই। অন্যের ২৫ কাঠা জমি ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছে শেরকোল শিবতলা বহুমুখী নার্সারী। আল আমিনের বাড়ি উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের হাড়োবাড়িয়ায়।
আল আমিনের নার্সারীতে ফলজ আম, কাঁঠাল, আমলকি, পেয়ারা, জলপাই, আমড়া, বেদেনা, লিচু, কমলা, মালটা, লেবু, বনজ মেহগনি, আকাশমনি, ঔষধী আমলকি, ঘৃতকাঞ্চন,তরুক চন্ডাল, সাদা ও লাল লজ্জাবতী সহ ৩৫/৪০ ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছ আছে। নার্সারী থেকে আল আমিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিয়ে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গোলাপ, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, বেলি, বকুল, কামিনী, রঙ্গন, শিউলী, চামেলী, বড় গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা ফুল সরবরাহ করে থাকেন। নিত্যদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নার্সারী থেকে গাছ আর ফুল তুলে ভ্যানে বোঝাই করার পর ভ্যানযোগেই সিংড়া উপজেলা সদরে আসেন আল আমিন। তারপর গাছগুলো ভ্যান থেকে নামিয়ে গোল-ই-আফরোজ সরকারি অনার্স কলেজ এলাকায় একটি দোকানের সামনে অস্থায়ী দোকান দিয়ে সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বিক্রি করেন। দিন শেষে অবিক্রিত গাছগুলো নার্সারীতে সযত্নে রেখে দেন। মূলতঃ গাছ বিক্রি করেই চলে আল আমিনের সংসার। গাছ বিক্রি ছাড়া আল আমিনের অন্য কোন পেশা নাই। আল আমিনের ছোট্ট সংসারে রয়েছে এক সন্তান, তার নাম সাকিব (১০)। সাকিব শেরকোল হাড়োবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
ফুল গাছ ক্রেতা খোকন জানান, বাড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো আমার শখ। প্রায় সময়ই এখান থেকে গাছ কিনে থাকি।
গাছ ও ফুল বিক্রেতা আল আমিন জানায়, ‘১২-১৩ বছর আগে ঢাকায় ৬শ থেকে ৭শ টাকা বেতনে বিভিন্ন নার্সারীতে সহযোগির কাজ করেছি।
এরপর সিংড়ায় এসে শেরকোলে দুই জমি মিলে ২৫ কাঠা জায়গার উপর নার্সারী গড়ে তুলেছি। ১৫ কাঠা জমি ৪০ বছরের জন্য ৬০ হাজার টাকায় বন্দক নিয়েছি। অপর ১০ কাঠা জমিতে ১ বছরে ৫ হাজার টাকা করে জমির মালিককে দিতে হয়। নার্সারীতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার প্রায় ৪০ প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছ আছে। গাছ ও ফুল বিক্রি বর্ষা ও শীতের সময় বাড়ে। গাছ ও ফুল বিক্রি করে প্রতিমাসে প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা আয় হয়। এই আয়েই চলে সংসার। প্রথমত লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে কোন ব্যাংকে লোন নাই। সব লোন পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে। ছেলের লেখাপড়া ও সংসার খরচ গাছ ও ফুল বিক্রি থেকেই হয়। যা আয় তাই ব্যয়।’

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top