logo
news image

১০ জানুয়ারির আগেই সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।  ।  
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ারের প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর তা আর কখনো দেখা যায় নি। এ নির্বাচনের রায়ে ’৭০ ও ’৫৪ সালের মত গণজোয়ারের প্রতিফলন ঘটেছে।’
সেতুমন্ত্রী মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ আমি অবাক হয়েছি যে বিএনপির মতো একটি বড় দলের সাংগঠনিক কোন কাঠামো নেই। তারা সাংগঠনিকভাবে যে কতটা দূর্বল তা এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।’
তিনি বলেন, এ জন্য বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরাও এজেন্ট দিতে পারেন নি। নির্বাচনে তাদের ভোটের এমন ফলাফল হয়েছে।
কাদের বলেন, বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ নিজের কেন্দ্রে তার ভোট দিতে যান নি। তার বাড়ী থেকে মাত্র ৭০ গজের মধ্যে ভোট কেন্দ্র। যদিও তিনি তার কেন্দ্রে জয় লাভ করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীরা কোথাও তাদের পোষ্টার-ব্যানার লাগান নি। তারা নির্বাচনে পরাজয়ের আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। বাস্তবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার মত তাদের কোন প্রস্তুতি ছিল না। তাই এ নির্বাচনে তাদের পরাজয় ছিল অবধারিত।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাদের ভুলের জন্যই নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছে। মনোনয়ন বানিজ্য, এজন্ট দিতে না পারা ও নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ না দেয়া এ ভরাডুবির প্রধান কারণ। তারা নির্বাচনের নামে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা নাটক করেছেন।
জাতীয়পার্টির সঙ্গে ঐক্যমতের সরকার হবে না তারা বিরোধীদল হিসেবে থাকবে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকার গঠনের সময় বিষয়টি দেখবেন। জাতীয়পার্টির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের শপথ না নেয়া ও তাদের আন্দোলন কর্মসূচীর বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলনের মত অবজেকটিভ কন্ডিশন দেশে নেই। আর আন্দোলনে অংশ নেয়ার মত সাবজেকটিভ প্রিপারেশনও তাদের নেই। আন্দোলনের সকল সূত্র তাদের বিপক্ষে।
তিনি বলেন, বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাদের এত হতাশ ও বিমর্ষ দেখাচ্ছিল যে মনে হয় যেন তারা নির্বাচনের ভরাডুবিতে ভেঙ্গে পড়েছে। এ অবস্থায় তাদের কর্মীরা কিভাবে আন্দোলন করতে আশাবাদী হবে?
কাদের বলেন, আন্দোলন করতে হলে চেতনার দরকার হয়, আর তার সঙ্গে থাকতে হয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি। তার কোনটিই বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেই। এ ধরনের সামর্থ্য থাকলে তারা নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে অন্তত একটি মিছিল হলেও করত। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরও তারা কোন ধরনের আন্দোলন করতে পারেন নি।
তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ভাঙ্গাহাট নিয়ে আন্দোলনের সক্ষমতা অর্জন করবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সামনে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
কবে নাগাদ নতুন সরকার গঠিত হতে পারে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগেই সংসদ সদস্যগণ ও নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবেন।
নতুন বছরে আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন বছরের অঙ্গীকার হচ্ছে এ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের যে, ভুল-ভ্রান্তি ও সাংগঠনিক দূর্বলতা বুঝতে পেরেছি তা কাটিয়ে উঠা।
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখানের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা আশা করি তারা জনগনের রায়কে অসম্মান করবেন না। কারণ যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সব সময় গণতন্ত্রী বিরোধী ভূমিকা পালন করবে তা দেশের মানুষ যেমন মেনে নেবে না, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য নেতারও তা মেনে নেবেন না। আর তারা (বিএনপি) গণতন্ত্র থেকে পিছিয়ে পড়লে দেশ পিছিয়ে যাবে।
নেতা-কর্মীদের প্রতি দলের কি আহবান থাকবে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ধৈর্য্য ধরে বিজয়কে ধরে রাখতে হবে। কেউ যাতে কোন ধরনের বাড়াবাড়ি না করে ও প্রতিপক্ষের ওপর কোন ধরনের প্রতিহিংসামূলক কোন কিছু না করে সে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ সময় তিনি ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কর্মসূচী ঘোষনা করে বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ দিন সকাল সাতটায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। একই দিন বিকেল তিনটায় ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য