logo
news image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-একটি সম্পর্কের বাঁধন

আহমাদ ইউসুফ।  ।  
২০০৬ সালে ঐতিহ্যবাহী শালবনের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। প্রতিষ্ঠার পর পেরিয়ে গেছে এক যুগ। সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে ক্যাম্পাস এর পরিধি, কাঠামোগত উন্নয়ন, বিভাগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ছয় হাজার শিক্ষার্থীর আনাগোনায় মুখর থাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে উঠা বাবুই চত্বর, জিয়া চত্বর, মুক্ত মঞ্চসহ সব জায়গায়ই মুখর থাকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনায়। ক্লাস শেষে কিংবা ক্লাসের ফাঁকে চত্বরগুলো মুখর হয় গিটারের টুংটাং শব্দে আর গানে। কখনোবা চায়ের চুমুকে মুখরিত আড্ডা চলে ভিসির টঙ দোকানে। কিংবা শহীদ মিনারে থাকে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা।
আবার কখনো মুক্ত মঞ্চে চলে মুক্ত চিন্তার গভীর প্রকাশ। কিংবা বিভাগের ছাদে গ্রুপ স্টাডি। এসব নিয়েই একটি পরিবার। যার নাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি একটি সম্পর্কের বাঁধন, একটি পরিবারের সুন্দর বসবাস।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি, প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাস ত্যাগ, শিক্ষার্থীদের বাড়ি যাওয়া, ধর্মীয় উৎসবে প্রিয় পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ে ক্যাম্পাস যেন একেবারেই ফাঁকা। থেকে যায় শিক্ষার্থীদের পদচিহ্ন।
এ সময়ে হঠাৎ এ ক্যাম্পাসকে অচেনা লাগবে যে কারোরই। যেখানে বাবুই চত্বরের দোলনাতে দোল খাওয়ার জন্য বন্ধুদের প্রতিযোগিতা চলে হরহামেশাই, সেখানে থেমে থাকা একাকী দোলনা দেখে প্রিয় এ ক্যাম্পাসকে অচেনাই মনে হয়।
নাড়ীর টানে দত্ত হল, বঙ্গবন্ধু হল, নজরুল হল, ফয়জুন্নেছা হল সহ আবাসিক সব শিক্ষার্থীরাই ইতোমধ্যে ছুটে গেছে নিজ পরিবারের কাছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ক্যাফেটেরিয়া, মুক্ত মঞ্চ, প্রত্যেকটি বিভাগের শূন্য ক্লাসরুম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য এক রূপের বহিঃপ্রকাশ।
চেনা ক্যাম্পাসকেই যেন অচেনা রূপে দেখা। ক্যাম্পাস গেট থেকে তাকালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দরজা পর্যন্ত সবই খালি। কোথাও কেউ নেই। আছে শুধু গেটের দারোয়ান, আর দু'একজন পাহারাদার। তাদের কাছেও চিরচেনা এই ক্যাম্পাস এখন অজানা অচেনা।
হঠাৎ দেখলে মনে হবে ক্যাম্পাস যেন আকুতি করে তার পথচারীদের করুণ সুরে ডাকছে। যেন বলছে, এসো! আবার আমায় মুখরিত করে তোল। আমাকে তোমরাই মাতিয়ে রাখো! আমার সমস্ত কিছু তোমাদের জন্যই করেছি। এই মায়াকান্নায় জড়িয়ে যাবে আপনার হৃদয়।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top