logo
news image

রাঙামাটিতে ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতার-অস্ত্রগুলি উদ্ধার

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি।  ।  
পার্বত্য চট্টগ্রামে অব্যাহত সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে সোমবার (২৬ নভেম্বর) রাঙামাটির দু’উপজেলা থেকে ৩ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবির। জেলার কাউখালী ও বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে এই তিন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র-গুলি, মোটর সাইকেলসহ সামরিক সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর একজন উর্দ্বতন কর্মকর্তা। আটককৃতরা সকলেই হত্যা, বিস্ফোরকসহ চাঁদাবাজির মামলার আসামী বলে জানাগেছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবির জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি স্যারের নির্দেশে রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। তারই অংশ হিসেবে গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ধারাবাহিকভাকে অবৈধ অস্ত্রধারীসহ পলাতক আসামীদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার জেলার কাউখালী উপজেলা থেকে দুই জন ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থেকে একজনকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়েছে।
নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ এর পরিচালক সমরেশ চাকমা তার সহযোগিদের নিয়ে কাউখালী কলেজ এলাকায় গোপন বৈঠক করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনা ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ইউপিডিএফ এর প্রভাবশালী নেতা সমরেশ চাকমাসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছিলো জানিয়ে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনজুর আলম বলেন, আমরা পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ অপরএকজনকে ছেড়ে দিই। ওসি জানিয়েছেন, আমরা ইউপিডিএফ নেতা সমরেশ ও ম্যানশন চাকমাকে গ্রেফতার করেছি। কাউখালীর বড় নাভাঙ্গা এলাকার যতিন চাকমার সন্তান সমরেশ চাকমা। অপর আটককৃত ম্যানশন চাকমা (২২),কলাবুনিয়া গ্রামের শশিভুষন চাকমার ছেলে বলে জানাগেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ইউপিডিএফ নেতা সমরেশ চাকমা ২০১৪ সালে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার বিষ্ফোরক মামলা (নং২৬৩/১৪)’র ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি, যাহার মামলা নং ১৪, তাং ২২/০৯/২০১৪। অপরদিকে ম্যানশন চাকমা কাউখালী থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার আসামী বলে জানিয়েছেন ওসি মনজুর আলম। আটককৃতদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও চট্টমেট্টো হ ১৪-৪১৫১ নম্বর যুক্ত একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।
অপরদিকে, জেলার বাঘাইছড়িতে সোয়া দুইলাখ টাকাসহ অস্ত্র-গুলি ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যৌথবাহিনীর হাতে আটক হয়েছে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ’র চাঁদা কালেক্টর সন্ত্রাসী রিমেল চাকমা।
সোমবার ভোররাতে বাঘাইছড়ি উপজেলার করল্যাছড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে এই সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ১টি দেশীয় পিস্তল, ২টি পিস্তলের কার্তুজ, ১টি চাকু, ১টি ম্যানিব্যাক, ১ জোড়া ইউনিফর্ম, ২টি সাইডব্যাক, ৪টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই ও নগদ ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা।
আটককৃত  রিমেল চাকমা (১৮) (পিতাঃ সন্তুমনি চাকমা, গ্রামঃ ঝগড়াবিল, পোঃ বাঘাইহাট, থানাঃ বাঘাইছড়ি, জেলাঃ রাঙামাটি)' ইউপিডিএফ (মূল)এর একজন চাঁদা সংগ্রহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত এলাকায় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর একজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, ইউপিডিএফ(মূল)দলের কিছু সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারী উক্ত স্থানে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডারের নেতৃত্বে সোমবার ভোরে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানিয়েছেন, রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থেকে জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধনের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নেই আমাদের। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র পাহাড়ে চলমান অভিযান আরো জোরদার করা হবে এমন মন্তব্য করে পুলিশ সুপার বলেন, পাহাড়ের মানুষের জীনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে যা যা করনীয় তার সবটুকুই করা হবে এবং এতে কে কোন দলের বা গোষ্ঠীর সেটা বিবেচনায় আনা হবে না।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top