logo
news image

নয়াপল্টনে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।  ।  
রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। বুধবার (১৪ নভেম্বর) বেলা পৌনে একটার দিকে এই সংঘর্ষ বাধে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা পুলিশের একটি পিকআপসহ দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। সেখানে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, হঠাৎ করে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। এরপরই বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল। পুলিশ রাস্তায় তাঁদের দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। বেলা পৌনে একটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বড় একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-৮ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন। ওই সময় কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর মিছিল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ প্যালেট বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। তবে বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থক এত বেশি ছিলেন যে পুলিশ সেখান থেকে পিছু হটে।
একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। তাঁরা রাস্তায় চলাচল করা অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে সংঘর্ষ চলছিল।
সংঘর্ষের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আশপাশের এলাকার সড়কে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশের জলকামান ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়।প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের মতে,  অনেকে গুলিতে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) দায়ী করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের সকল দুষ্কর্মের দায়িত্ব নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’
বুধবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর এই আক্রমণের জন্য দায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এম নুরুল হুদা এবং ইসির সচিব। তাঁদের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে তাঁরা আকস্মিক আক্রমণ চালিয়েছে পুলিশকে দিয়ে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই আজকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের রক্তাক্ত করার জন্য দায়ী। '
বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে রিজভী বলেন, আমরা ভেবেছি, সরকার ষড়যন্ত্রের পথ অবলম্বন না করে হয়তো শান্তিতে মানুষকে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের সুযোগ দেবে। কিন্তু গত দুই দিনে বিএনপির কার্যালয়ে ভিড় দেখে সরকার সহ্য করতে পারেনি। এই কারণে আজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। তবে এই ভিড় ছিল শান্তি, স্বস্তির ও সুশৃঙ্খল। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কারও মাথায়, কারও পায়ে, কারও কোমরে ও কারও পেটে গুলি লেগেছে বলেও দাবি করেন রিজভী।
গাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে হেলমেটধারী, আজকেও দেখবেন হেলমেটধারীদের তৎপরতা। এরা কারা? এরাই হচ্ছে, এজেন্ট। এই এজেন্টদের দিয়েই সেই ব্লেমগেম। নিজেরা আগুন লাগিয়ে বিরোধী দলের ওপরে দোষ চাপানো হচ্ছে।’
পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে দলটির ৫০ জনের অধিক নেতা-কর্মী আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও দাবি করেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মুনির হোসেন ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে পুলিশের গাড়িতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা করছেন। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ‘পরিকল্পিত’।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী ও যাঁরা গাড়ি পুড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন দেশ একটি সুন্দর নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন যখন তফসিল ঘোষণা করেছে, দেশের মানুষ যখন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে; সেই সময় এ ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এই হামলা ধূম্রজাল সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের একটা অপচেষ্টা। পুলিশের ওপর হঠাৎ আক্রমণ আমাদের সেটাই মনে করিয়ে দেয়।’ পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো এবং ১৬ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা-কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন। পুলিশের একটি গাড়ি প্রায় পুড়িয়ে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখবে আওয়ামী লীগ।
বুধবার বেলা তিনটায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এই উসকানি কারা দিল? নির্বাচন পেছানোর জন্য বিএনপি এই উসকানি শুরু করে দিল? তারা কি জানান দিল যে ২০০১, ২০১৪ যেটা করেছে, সেটাই করবে। তিনি বলেন, আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায়। আজ পুলিশের ওপর সাঁড়াশি হামলা করে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া নেতারা স্বরূপ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের অন্তত দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হন কয়েকজন।
পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার কিছু পরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছেন। বিএনপির আক্রমণের পাল্টা আক্রমণ না করার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ ধরনের অরাজকতা, নাশকতা প্রকাশ্য দিবালোকে করেছেন। এই দুরভিসন্ধির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী, তা দেখতে-শুনতে চায় আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন জনগণের অনেক প্রত্যাশার নির্বাচন। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। যদি নির্বাচন বানচাল করার বা নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত করা হয়, তাহলে জনগণই এই চক্রান্ত প্রতিহত করবে। তিনি আরও বলেন, কানাডার আদালত দুবার বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে রায় দিয়েছেন। বিএনপি সন্ত্রাসী দল, নাশকতার দল, বোমা সন্ত্রাসের দল, এই দল নির্বাচন চায় না।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল ইসলামের মিথ্যাচার আজ প্রকাশিত। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা করেছে, এ কথা বলে ফখরুল ইসলাম আজও মিথ্যাচার করেছেন। এত মিথ্যাচারের বেসাতি ফখরুল ইসলাম কেন করলেন?



কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top