logo
news image

অর্জুনপাড়ার গল্প

সাদ আহমেদ।  ।  
অর্জুনপাড়া মৌজা এককালে নাটোর অঞ্চলের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল।অত্যন্ত মফস্বল এলাকা হবার দুর্ভাগ্যে আজ সে সব ইতিহাস কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে।এসব ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিষয়ে অর্জুনপাড়া গ্রামের দু’জন বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তির আলাপচারিতা অনুসন্ধিতসু পাঠক ও গবেষক মহলের উপাদান হিসেবে কাজে লাগবে বলে প্রতাশা করছি।
এই গ্রামের মোঃ মকছেদ আলী খাঁ, পিতার নাম মহররম খাঁ। সঠিক বয়স জানা নাই। আনুমানিক ৯৬ বছর।লেখা-পড়া সামান্যই করেছেন।তবে তার বিয়ে হয়েছিল ১৩৬০ বঙ্গাব্দে কোনো তারিখের সোমবার তা মনে আছে।এই বয়সেও পরিশ্রম করেন প্রচুর।পরিপুর্ণ সুস্থ এবং স্মৃতি শক্তির প্রখরতা আছে। একই গ্রামের তার থেকে দুই বছরের কম বয়সের সলিম উদ্দিন প্রামানিক বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। স্মৃতি শক্তি অনেক কমে গেছে।এই দুই বয়োজেষ্ঠ্য ব্যক্তিগণের নানা স্মৃতিচারণ সাপ্তাহিক শহীদ সাগর’র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
মকছেদ খাঁ এবং সলিম উদ্দিন প্রামানিক আলাপের মাঝে একটি প্রাচীন প্রথা ও অনুশাসন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন। সে সময় অত্র এলাকায় কোনো বিরোধ নিস্পত্তি ও শালিস পরিচালিত হতো বিলশলিয়া গ্রামের ফয়েজ মোল্লা (১৮৬১-১৯৬৬) ও সাবেক চেয়ারম্যান রাহাত মৃধার পিতা উজির মৃধা প্রমুখের নেতৃত্বে। একবার অর্জুন অর্জুনপাড়ায় এ রকম বিচার কার্য পরিচালনা করেন ফয়েজ মোল্লা, তার সহযোগী শরাফত হাজী এবং রফাত মোল্লা। সে সময় অর্জুনপাড়ার হারান খাঁর (পুত্র-গফুর খাঁ) প্রথম স্ত্রী মারা গেলে সেকালের সামাজিক প্রথা অনুসারে তিনি ৩ মাস ১৩ দিন পুর্ণ হতে মাত্র ১ দিন বাঁকী থাকতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর বিরোধী পক্ষরা এই প্রধানগণকে ঘোড়ার গাড়িতে করে শালিসে নিয়ে আসেন। পরে তারা সামাজিক প্রথা লঙ্ঘন করার দায়ে হারান খাঁ’র বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত দেন।এই দুই বয়োজেষ্ঠ্যগন জানান, ফয়েজ মোল্লা, উজির মৃধা ও মহরম খাঁসহ ততকালীন বয়োজেষ্ঠ্যদের নিকট বিভিন্ন সময় তারা শুনেছেন যে, তারা তাদের বাল্যকালে অর্থাৎ উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে অর্জুনপাড়া ‘সান পুকুর’র, ‘মহল পুকুর’ ও ‘খিড়কী দোয়ার পুকুর’ সংলগ্ন প্রাচীন স্থাপনার দেয়ালের ধ্বংশাবশেষ দেখেছেন। বৃটিশ যুগের শেষের দিকে লালপু্র ও আশে পাশের অঞ্চলগুলি থেকে মানুষ এসে ব্যপকহারে দেয়ালের ইট খুলে বিভিন্ন জানবাহনে নিয়ে যেতে দেখেছেন। তাতে অনুমান করা যায়, এসব অঞ্চলের স্থাপনাগুলি অনেক প্রাচীন আমলের।
সম্ভ্রান্ত পরিবার ও ব্যক্তিদের ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি থাকতো। তারা সমাজে খুব সমাদর পেতেন। এমন একটা ঘটনা মকছেদ খাঁ’র জীবনেও এসেছে। একবার মকছেদ খাঁ নিজে, তার বাড়ির কাজের ছেলে বাথান বাড়ির বছের এবং একই গ্রামের রুমু খাঁ (পিতা- বসু খাঁ) মাদারের গান শোনার জন্য অর্জুনপাড়ার ঘোড়া পুকুর থেকে ঘোড়া নিয়ে হবিদপুর (হাবিবপুর) গেলে সেখনকার আয়োজকরা এদের ঘোড়াসহ দেখে খুব প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত মানুষ ভেবে চেয়ারে বসার ব্যবস্থা করেছিল এবং খুব সমাদর করেছিল। বিষয়টি ভাবনায় এলে এখনও তার হাঁসি পায়।
কলেরা রোগ এককালে যেমন ছিল মহামারি, তেমন ছিল যমদূতের মতো আতঙ্ক।আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত।ছোঁয়াছে বিধায় এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে কেউ ভিড়তো না। ফলে অবহেলার ও চিকিতসাহীনতায় তার মৃত্যু হতো।একবার এলাকায় মহামারি আকারে কলেরা রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হয়েছিল।এই রোগে শত শত লোক মারা গিয়েছিল।মকছেদ খাঁ ও সলিম উদ্দিন প্রামানিকের মতানুসারে, প্রাণ ভয়ে ভুইপাড়া বা ভুঁইয়াপাড়া থেকে বহু হিন্দু পরিবার পালিয়ে নান্দ, লালপুর, ব্রাক্ষণগ্রাম, আরামবাড়ীয়া, নাটোরসহ বিভিন্ন গ্রামে চলে গিয়ে বসতি স্থাপন করে। এ সময় অর্জুনপাড়া গ্রামের মহরম খাঁ’র ছেলে আজের খাঁ কলেরায় আক্রান্ত হয়। লালপুর থেকে ডাক্তার ভবেশ এসে চিকিতসা দেয় ও স্যালাইন করে। এতে আজের খাঁ সুস্থ্য হয়ে উঠে। কাদের মণ্ডলের স্ত্রী সাজেমনকে বড়বড়িয়া গ্রাম থেকে কবিরাজ এসে ঝাড় ফুক দেয়। কবিরাজ এলাকা থেকে কলেরা চিরতবে তাড়িয়ে দিতে এক বিশাল পরিকল্পনা করে।তবে তার মতে, কলেরা চলে যাবে ঠিকই, যাবার বেলায় দুই জনকে নিয়েই বিদায় হবে।কলেরা তাড়ানোর পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই মতে বিলশলিয়া গ্রামের দাঁইড় এলাকায় গরুর শুকনা ঘুটি (শুকনা গবর জালানি কজে ব্যবহৃত হয়) এক স্থানে একডালি স্তুপ করে রাখে। আবার বর্তমান অর্জুন পাড়ার দক্ষিণে ভুইপাড়া এলাকায় আরেকডালি স্তুপ রাখে।সন্ধ্যার আজানের সঙ্গে সঙ্গে ঘুটিগুলিতে আগুন জালাতে হবে। তাহলেই কলেরা পালিয়ে যাবে। কথা মত আগুন জালানো হয়েছিল। কিন্তু ডাক্তারের চিকিতসা নেয়া আজের খাঁ বেঁচে গেলেও সাজেমন মারা যায়। তখন কবিরাজ ঘটনার ব্যাক্ষা দেয় এভাবে, কলেরা পালিয়ে গেছে কিন্তু যাবার বেলায় একজনকে নিয়ে গেছে। অনুরুপভাব বিলশলিয়ার দাঁঈড় এলাকায় এখন শুধু মাঠ হলেও আগে ওখানে বসত বাড়ি ছিল। একই সময় কলেরা রোগের আবির্ভাব দেখা দেয়ায় দাঁঈড়ের মানুষ প্রাণ ভয়ে বসত বাড়ি ছেড়ে মাঠ শেষে উত্তর পাড়ায় বসতি স্থাপন করে। আজকে আমরা বিলিশলিয়া বলতে এই পাড়াকেই জানি।
মকছেদ খাঁ’রা পিতা মহররম খাঁ মাধবপুর জমিদারীতে খাজনা দিতেন। তিনি মাধবপুর জমিদারের প্রজা ছিলেন। মাধবপুর জমিদার ছিলেন জুগল বাবু, কড়ি বাবু এবং সেন বাবু। মকছেদ খাঁ’র মনে পড়ে, তার পিতা মহরম খাঁ ৩ বিঘা জমিতে খাজনা দিয়েছেন ৫ আনি। মাধবপুরে জমিদার ছিলেন চার আনির জমিদার। মাধবপুরের জমিদারের নিয়োগকৃত নায়েব জজ্ঞেশ্বর মহরম খাঁ সরকারের বাড়িতে ঘোড়ায় চড়ে খাজনা নিতে আসতেন। নায়েবের বাড়ি ঝলমলিয়ায়। মহরম খাঁ বৃটিশ সরকারের সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন বলে তার সম্মানজনক উপাধি ছিল ‘সরকার’। বংশে খাঁ পদবী থাকা স্বত্তেও লোকে মহরম সরকার বলে সম্বোধন করতেন। কিন্তু সলিম উদ্দিন প্রামানিকের পিতা হাইবত প্রামানিক ছিলেন পুঠিয়ার পাঁচ আনি জমিদারের প্রজা। আর তাদের জমিদারের কাচারী ছিল আড়বাব। আর তার চাচা মারফত প্রামানিক ছিলেন বিলমাড়ীয়া সাহেবের পিয়াদা। তার মনে পড়ে, চাচা মারফত প্রামানিক সব সময় হাতে লাল লাঠি নিয়ে ঘুরতেন। মানুষ তাকে ভয়ে সমীহ করতেন। গড়ের ভিটা গ্রামের বয়োজেষ্ঠ্য মরহুম নাজির সরদারের পুত্র আব্দুর রহমান (৯৩)-এর মতে, সে সময় আড়বাব কাচারীর নায়েব ছিল গালিমপু-এর বিদু রায়।তারাও আরবাব কাচারীতে পুঠিয়ার পাঁচ আনি জমিদারের খাজনা বিদু রায়ের নিকট জমা দিতেন।তার মতে, তখন বিলমাড়ীয়ার ‘সাহেব’র প্রজার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা কয়েকজন।
আলাপচারিতায় উঠে আসে নীলকর আন্দোলনের কথা।বিলমাড়ীয়ার নীলকুঠির বড় সাহেবের দায়িত্বে ছিলেন নিকাল সাহেব। লম্বা ও ফর্সা গড়নের সমেশ্বর ছৌধুরী একজন বাঙ্গালি নীল চাষ বিদ্রোহী ছিলেন। বিপ্লবী সমেশ্বর একদিন সভা ডাকলেন বিলমাড়িয়া নিকাল সাহেবের বাড়ির সংশ্লিষ্ঠ নীল কুঠির ফিল্ডে। সমেশ্বর চৌধুরী বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক জড়ো করেছিলেন বিলমাড়ীয়া সাহাবের মাঠে। হাজারো জনতায় ফিল্ড পরিপুর্ণ হয়ে গিয়েছিল।মকছেদ খাঁও সেদিন উপস্টহিত ছিলেন ফিল্ডে।তার বক্তব্য অনুযায়ী, তখন সে ১২-১৪ বছরের কিশোর।নিকাল সাহেবের বাড়ি ছিল ফিল্ডের পুকুর সংলগ্ন। নিকান সাগেব প্রায় তার মেম’র সাথে উক্ত পুকুরে গোসল করতেন। মনে হয় তারা সাঁতার জানতেন না। কারণ তারা কলার গাছের ভেলা ভাসিয়ে পুকুরে সাঁতার দিতেন। সভার দিন নিকান সাহেব ছিলেন তার বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে। তার বিল্ডিং বাড়ির চার পাশেই বারান্দা ছিল।সমেশ্বর চৌধুরীর মাইক ছিল পশ্চিম দিকে। জনসভায় বিপ্লবী সমেশ্বর চৌধুরী নিকাল সাহেবকে কড়া হুশিয়ারী দিয়েছিলেন। এক সময় ক্ষিপ্ত হয়ে তর্জনি উঠিয়ে বাংলায় গালি বলে উঠেন, ঐ নিকাল সাহেব। নিকাল, তোর দালানের ইট একটি-একটি করে খুলে নিবো হারামজাদা। প্রত্যেকটি ইট খুলে নিয়ে তোকে খেদায়ে দিবো। পরে নিকাল সাহেব অবস্থা বেগতিক দেখে কুঠি ছেড়ে চলে যান ঠিকই, তবে যাবার পুর্ব মূহুর্তে তার ব্যক্তিগত ঘোড়া যেন অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য সে নিজে ঘোরাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং ঘোড়ার সম পরিমান মাটি গর্ত করে পুঁতে রেখে যান। কিন্তু সলিমুদ্দিন প্রামানিক নীলকুঠির সাহেবের নাম ভুলে গেছেন। তবে তার মতে, সাহেবের ঘোড়া ও কুকুরকে সাধারণ মানুষের পক্ষে পোষা সম্ভব হবে না মনে করে তিনি তার সাধের ঘোড়া ও কুকুরকে গুলি করে হত্যা করে পুতে রেখে যান। কুঠির সাহেব বিদায়ের প্রাক্কালে মাটির নীচে টাকা পুঁতে রাখেন এবং সে স্থলে একটি তাল গাছ রোপন করে যান।
জনশ্রুতি আছে যে, অর্জুনপাড়া মৌজায় ১০১টি পুকুর আছে এবং এ পুকুরগুলো অতি প্রাচীন যুগের। শিশু থেকে বয়োঃবৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেরই একই বিশ্বাস। রাজা-বা শাসকরা তাদের এবং তাদের কর্মচারী ও সংশ্লিস্ট পেশাভিত্তিক মানুষদের জন্য আলাদা আলাদা পুকুর খনন করেছিলেন। মকছেদ খাঁ তার স্মৃতিতে অনেকগুলি পুকুরের নাম স্মরণ করতে পেরেছেন যা তিনি শৈশব কাল থেকেই বাবা-দাদা গ্রামের প্রচলিত লোক কথা মারফত জেনেছেন। মকছের খাঁ’র স্মরণে আসা পুকুর এবং স্থানীয় বিশ্বাস ও জনশ্রুতি অনুযায়ী কতিপয় পুকুরের বর্ণনা করা হলো।
১। ধোপা পুকুর- পুকুর কেটে পানি উঠছিল না। পুকুরের পাশ দিয়ে এক ধোপার বিয়ে যাচ্ছিল। ফলে পুকুরের লোকজনের বিশ্বাস ছিল যে, এই ধোপা যদি পুকুরের এক কোদাল মাটি কেটে দেয়, তাহলে অভিশাপ কেটে যাবে এবং পুকুরে পানি উঠবে। এরপর ধোপা এক কোদাল মাটি কাটায় পানি উঠেছিল। সেই থেকে পুকুরের নাম হয় ধোপার পুকুর। ২। মহল পুকুর- এখানে যে মহল বাড়ি ছিল, তার অন্তপুরের পুরুষ ও মহিলাদের ব্যক্তিগত কাজে এই পুকুর কাটা হয়। কারণ রাজমহলের অভ্যন্তরীন নারীরা বাহিরে বের হতো না। এখানে শুধু তারাই গোসল ও অন্যান্য কাজ কর্ম করতে পারতো। এই পুকুরের পাশেই ছিল মহল বাড়ি এবং মহল বাড়ি ও পুকুর উচ্চ বেস্টনী দিয়ে ঘেরা ছিল। ৩। সানের পুকুর- পুকুরের দুই দিকে সান বাধা হয়েছিল। এজন্য এর নাম হয়েছিল সানের পুকুর। সেই সানের চিহ্ন এখনও কিছু দেখা যায়।রাজবাড়ির পাশেই ছিল কালী বাড়ি।এখানে হাল আমলের অনেকেই মন্দিরে পুঁজা পার্বন হতে দেখেছেন। ৪। খিড়কি দোয়ার- মহল পুকুর, খিড়কি দোয়ার এবং সানের এই ত্রিমুখী পুকুর সংলগ্ন স্থানেই ছিল রাজবাড়ির স্থাপনা। এখনও মাটিতে ইটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কৃষকের লাঙ্গলে প্রায়ই ইটের টুকরো দেখা যায়।৫। দাসী পুকুর- মহল সংশ্লিষ্ট দাস-দাসীদের ব্যবহারের জন্য এই পুকুর খনন করা হয়েছিল। ৬। বৌ পুকুর/বৌ মারা- স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস মতে, সদ্য বিবাহিতা কোনো বৌ’কে হত্যা করা হয়েছিল এই পুকুরে। তাই এই পুকুরের নাম হয়েছে বৌ পুকুর। ৭। খাঁড়া দোয়া- খাঁড়া অর্থ বড় তলোয়ার।সাধারণত মন্দিরে পাঁঠা বলি দেয়া হয় যা দিয়ে।শ্রুতি অনুসারে, বৌ হত্যা করে সেই খাঁড়া এই পুকুরে ধোয়া হয়েছিল। সেই থেকে এর নাম হয় খাঁড়া ধোয়া। ৮। ভুত খানা- জনশ্র্যতি অনুসারে, এই পুকুরে না কি ভুতেরা আড্ডা করতো। তারা নানা ধরনের পূজা করতো। ৯।ঘোড়া পুকুর- ঘোড়া পুকুরের নামের কিছু জানা যায়না। ৭০-৮০ বছর আগের কথা। তখন এই পুকুরে চৈত্রমাসে পানি থাকতো না। এখানে ঘোড়া থাকতো। কেউ ঘোড়া নিয়ে গেলে কাজ সেরে আবার ঘোড়া নিয়ে এসে এখানে রেখে যেত। ১০।মণিহারী- মনিহারী পুকুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল প্রতিষ্ঠিত হবার পর মিলের নিজস্ব প্রয়োজনে মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলে।কিন্তু পুকুর না থাকলেও এখনও মানুষ ঐ যায়গার নাম মনিহারি নামেই চিনে ও জানে। ১১। বাজি পুকুর বা বাইজী পুকুরঃ- রাজমলের মানুষদের চিত্ত বিনোদনের জন্য নাঁচ-গানের জন্য কর্মরত নর্তকি বা বাঈজি দের জন্য নির্দিষ্ট করে খনন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। ঠাকুর পুকুর, ভুঁই পুকুর, বাহির বাড়ি, চাল ধোয়া, ডাল পুকুর, নলগোনা, কালীতলা, বেলতলা, নিমবর, কদমতলী, ট্যাকা তোলা, আমবাড়ি, মানা গাছা, ঠাকুর পুকুর, ঠাইন, পুকুর, ছোট পুকুর, বড় পুকুর, গবর গাড়ি, কুমির গাড়ি, বহ্নিগাড়ী, নারিকেল্ বোনা, ছুঁচিগাড়ী, চুনিপাত্রী, হিন্নির পুকুর, বামুন তলা, তারা বুনা, মটর গাড়ি, হলুদ কুটা, বর্গী পুকুর, কুলপাড়া, হিজলতলা, বামন্নী, গাড়িনামা, তুরকুনী পুকুর, দীঘিরপুকুর, বেগমতলা, কালীতলা, জোড়া পুকুর, জানা মণ্ডলঃ নাম অজ্ঞাত। সম্ভবত কালের গর্ভে এই পুকুরের প্রকৃত নাম বিলুপ্তি হয়ে গেছে।জানা নামক জনৈক ব্যক্তি এই জমির আবাদ করতো জন্য এর নাম জানা মন্ডলের পুকুর। এছাড়া অনেক পুকুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল প্রতিষ্ঠিত হবার পর মিলের প্রয়োজনে ভরাট করে আবাদযোগ্য করা হয়েছে।এসব নামই বলে দেয় এই পুকুরের আলাদা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। অনেক পুকুর ও পুকুরের নাম কালের গর্ভে মুছে গেছে। তবে পুকুরগুলোর বর্তমান এসব নাম প্রকৃত নামের অপভ্রংশ হতে পারে।

* সাদ আহমেদ: সম্পাদক, সাপ্তাহিক শহীদ সাগর। 

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top