logo
news image

লালপুরে এক গাছে ২২ নাইট কুইন

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি বাসার ফুলবাগানের একটি গাছে এক সঙ্গে ২২টি রাতের রানী নাইট কুইন ফুল ফুটেছে।
সোমবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের ভাস্কর সরকারের বাসার ফুল বাগানের একটি গাছে এক সঙ্গে ২২ টি এই বিরোল প্রজাতির নাইট কুইন ফুল ফুটতে দেখাগেছে। ভাস্কর ওয়ালিয়া তরুণ সমাজের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষধের পিএইচডি গবেষক।
ভাস্কর সরকার জানান, তার বাড়ির ফুল বাগানের টবে লাগানো গাছটি তিনি ও তার ফুফু নীলা সরকার নিবীড় পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলেন। বিগত ৫ বছর থেকে গাছটিতে ফুল ধরছে। এই প্রথম এক সঙ্গে ২২টি ফুল ফুটেছে। এর আগে এক সঙ্গে ১৫ টি পর্যন্ত ফুল ফুটেছে। তিনি আরও জানান, বিকেলে হঠাৎ গাছে ২২ কলি দেখতে পান তিনি। এরপর রাত্রী গড়াতেই ফুটতে শুরু করে নাইট কুইন রাত ১১টার দিকে পূর্ণতা পায়। ভাস্কর সরকারের ফুফু নীলা সরকার জানান, গভীর রাতে একে একে ২২টি ফুল ফোটে। ফুলের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশিরা ফুলকে একবার দেখার জন্য তার বাসায় ছুটে আসেন ।
এক বারে ২২ টি ফুল ফোটায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। রাতের রানী কে একবার দেখার জন্য আগত উৎসুক জনতার মধ্যে সিরাজুল ইসলাম তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি জীবনে এই প্রথম নাইট কুইন ফুল ফোটা দেখলাম তাও একবারে ২২টি। ফুল ফোটার এই অপরূপ দৃশ্য ও ফুলের সৌন্দর্য দেখে আমি বিমোহিত।
নাইট কুইন: রানীর মতো সৌন্দর্য নিয়ে রাতের গভীরে যে অপূর্ব সাদা ফুল অসাধারন মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে ফোটে তার নাম নাইট কুইন। রাত বেড়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে কলি থেকে একটি একটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছড়াতে থাকে মৃদু অথচ মন কেড়ে নেয়া সুগন্ধ। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ নাইট কুইন ফুলের সুগন্ধ ও সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষা করে।
নাইট কুইন একটি দুর্লভ ফুল। অনেক সাধনা করে, অনেক অপেক্ষার প্রহর গুনে ফোটাতে হয় নাইট কুইন। কিন্তু তাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। যে রাতে ফুটে সে রাতেই ঝরে পড়ে। ফুলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি গন্ধেও অতুলনীয়। সাদা রং এর ফুলের ভেতর ঘিয়ে রং এর আবরণ ও সুমিষ্ট গন্ধ নাইট কুইনকে দিয়েছে রাজকীয় চেহারা। এজন্য নাইট কুইন ফুলকে রাতের রাণী বলা হয়।
নাইট কুইনের বৈজ্ঞানিক নাম Epiphyllum oxypetalum এবং ইংরেজিতে Dutchman's pipe ও queen of the night নামে পরিচিত। বিরল ক্যাকটাস জাতীয় এ ফুলটির আদি নিবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং মেক্সিকো হলেও এখন বাংলাদেশের অনেক পুষ্পপ্রেমির বাড়িতে এ ফুল শোভা পায়।
এই ফুলের বৈশিষ্ট অন্যান্য যেকোনো ফুলের তুলনায় একটু আলাদা। বছরের মাত্র একদিনে এবং রাতের কোনো এক সময় ফোটাই এর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। নাইট কুইন নিজেকে আত্মপ্রকাশ ও বিকশিত করে রাতেই এবং সেই রাতের অন্ধকারেই হয় তার জীবনাবসান। এর ফলে ফুলটিকে সচরাচর দেখা যায় না। তাছাড়া চারা থেকে ফুলটি ফুটতে সময় নেয় তিন-চার বছরেরও বেশী। বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষায় ফোটে।
নাইট কুইন ফুলের আর একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এ ফুলের গাছ পাথরকুচি গাছের মতো পাতা থেকে অঙ্কুরিত হয়। একটি পাতা নরম মাটিতে রেখে দিলে ধীরে ধীরে সে পাতা থেকে অঙ্কুর বের হয় এবং পরে তা গাছে পরিণত হয়। একটি পাতা থেকে একাধিক গাছ জন্মাতে পারে। পাতা থেকে শুধু নাইট কুইন ফুলের গাছই জন্মায় না, সেই পাতা থেকেই প্রস্ফুটিত হয় অসাধারণ নাইট কুইন ফুল। প্রথমে পাতার যে কোনো দিকে ছোট একটি গুটির মতো বের হয়। এই গুটি আস্তে আস্তে বড় হয়। ১৪ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেই গুটি কলিতে রূপান্তরিত হয়। আর কলি পুষ্ট হওয়ার পর যে রাতে ফুল ফুটবে সেদিন বিকালেই কলিটি অদ্ভুত সুন্দর সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। তখন এর দিকে তাকালে খুব সহজেই বোঝা যায় রাতের রাণী আসছে। পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গেলে আস্তে আস্তে পাপড়ি মেলতে শুরু করে নাইট কুইনের কলি। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটি দুটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সেই সঙ্গে মিষ্টি এক ধরনের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ গন্ধে তীব্রতা না থাকলেও আছে এক ধরনের অদ্ভুত মাদকতা, যা যে কোনো মানুষকে মোহিত করার জন্য যথেষ্ট। পরিপূর্ণ অন্ধকার যখন রাতকে আনন্দিত করে নাইট কুইন তখন অন্ধকারের বুক চিরে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরে। রাত যত বাড়তে থাকে তার রূপ ততই খুলতে থাকে। পূর্ব আকাশে আলোকছটা দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে মৃত্যু ঘণ্টা বেজে ওঠে নাইট কুইনের। কারণ রাতের রানী দিনের আলো সইতে পারে না।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top