logo
news image

ডাব বিক্রয় করে চলে মোস্তফার সংসার

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গরম কিংবা শীত সব ঋতুতেই ডাবের পানির সমান কদর রয়েছে। তবে গরমে ডাবের কদর অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। তাইতো পথেঘাটে পিপাসা নিবারণের জন্য সচেতন মানুষ বেছে নেন ডাবের পানি। বিশেষজ্ঞদের মতে যত পানীয় পাওয়া যায় তার মধ্যে ডাবের পানিই সবচেয়ে নিরাপদ। তাই অনেক ক্ষেত্রে কোমল পানীয়র বদলেও গ্রাহকরা বেছে নেন ডাবের পানি। গ্রামে ঘুরে ঘুরে ডাব কেনা, গাছ থেকে পাড়ানো, ট্রাকে ওঠানো, আড়তে নামানো, পাইকারি বিক্রি ও খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষ জড়িত। রাজধানীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন এই ডাব বিক্রির পেশা। ডাবের ওপর নির্ভর করে সংসার চলছে অনেকেরই। নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মোড়ে মোড়ে চোখে পড়ে ভ্যানে করে ডাব বিক্রির দৃশ্য।
সোমবার (১ অক্টোবর) নাটোরের লালপুর উপজেলার গৌরীপুর স্কুল এন্ড কলেজ গেটের পশ্চিমে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে ডাব বিক্রি করতে দেখা যায় গোলাম মোস্তফাকে। তিনি ৫ বছর ধরে ডাবের ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে তিনি ডাব হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন কোনটায় কতটুকু পানি আছে, কোনটায় সর বা শাঁস হয়েছে, কোনটার শাঁস শক্ত হয়েছে, কোনটায় পানি কম। গোলাম মোস্তফা জানান, ৫ বছর আগে এক শ’ ডাব কিনতেন ১হাজার টাকায় আর এখন একটু বড় সাইজের এক শ’ ডাব কিনতে অন্তত ২৪ থেকে ২৫শত টাকা লাগে। ডাব বিক্রিতে তার খুব সুনাম রয়েছে। অনেকেই তার কাছ থেকে ডাব কিনে খান।
বড় ছেলে সপ্তম শ্রেণীর ও ছেটে ছেলে ২য় শ্রেণীর শিক্ষাথী । গোলাম মোস্তফা জানান, ডাবের ব্যবসা করেই সংসারের খরচ এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চলছে। যা আয় করেন খরচ হয়ে যায়। অতিরিক্ত কিছু জমাতে পারেননি। দিনে অন্তত ৫০-৬০টি ডাব বিক্রি  করতে পারেন। তার কাছে সবচেয়ে বড় একটি ডাবের দাম ৫০ টাকা।
তার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন গৌরীপুর গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে একটি রোগী বহণকারি এ্যম্বুলেন্স রাস্তার পাশে পার্কি করে ডাব কিনছিলেন রোগীর স্বজনরা। তিনি জানান, ‘প্রায়ই ডাব বিক্রেতাদের কাছ থেকে তিনি ডাব কিনে খান। কারণ, তিনি মনে করেন ডাবের পানি সবচেয়ে নিরাপদ।’ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান ডাবের দোকানে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার ডাব পছন্দ এবং দরদাম ঠিক হলে বিক্রেতা দা/হাসুয়া দিয়ে একপাশে কেটে ফুটো করে একটি প্লাস্টিকের চিকন পাইপ দেন। এরপর পাইপ দিয়ে ক্রেতা পানি পান করেন। কারো পছন্দ কচি ডাব, কেউ চান ভেতরে হালকা একটু শাঁস, আবার কেউ চান শক্ত শাঁস। কিছু ক্রেতা ডাবের পানি পান করা হলে ভেতরের শাঁস খাওয়ার আগ্রহ দেখান। তার কাছ থেকে ডাবের খোল হাতে নিয়ে তা দা দিয়ে কেটে দুই ভাগ করে শাঁস তুলে দেন মোস্তফা। আকার ভেদে একেকটি ডাবের দাম ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত হয়।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘ডাবের পানি প্রাকৃতিক পানীয়। এতে প্রচুর পটাশিয়াম আছে। ১০০ গ্রাম ডাবের পানিতে প্রায় ১৮০ মিলি গ্রাম পটাশিয়াম থাকে। ডাবের পানি খাওয়ার পরে পটাশিয়ামের জন্য শরীরে একটা শীতল আমেজ আসে। পটাশিয়াম হার্টের রোগীর জন্য খুবই ভাল। তবে শরীরে যদি পটাশিয়াম বেশি থাকে সেক্ষেত্রে তার জন্য ডাবের পানি পান করা ঠিক নয়। ডাবের পানি চর্বি বাড়ায় না। ডাবের পানি রক্তে চর্বির কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। ক্লোরাইড আছে ১১৭ গ্রাম। ক্লোরাইড আমাদের দাঁত ভাল রাখে। ডাবে ক্যালরি কম থাকে। তাই ডাব খেলে অনেক মোটা মানুষেরও কোন সমস্যার আশঙ্কা নেই। কার্বোহাইডও তুলনামূলক কম থাকে। ক্যালসিয়াম থাকে ১৫ মিলিগ্রামের মতো। ডাবে সোডিয়াম থাকে খুব কম।
ডাবের গুণাগুণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ডাবের পানি আমাদের শরীরের ডিহাইড্রেশন রোধ করে। মুখে পক্সের বা অন্য কোন দাগ থাকলে, দৈনিক ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুলে দাগ থাকে না। প্র¯্রাব সংক্রমন থাকলে তা রোধ করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গর্ভকালীন সময়ে ডাব খেলে তাতে এ্যান্টি ফাঙ্গাল, এ্যান্টি ভাইরাস হিসেবে কাজ করে। এটার মধ্যে এটা ল্যারিক এসিড আছে, এটার জন্য এ্যান্টি ভাইরাস এ্যান্টি হিসেবে কাজ করে। অনেকের ধারণা যে ডাব খেলে সর্দি হয়। কিন্তু ধারণাটা একেবারেই ভুল উল্লেখ করে এই ডাক্তার বলেন, ডাবের সঙ্গে সর্দি বা ভাইরাসের কোন সম্পর্ক নেই। গরমে ডায়েরিয়ার প্রকোপ দেখা যায়। ডায়েরিয়া প্রতিরোধের জন্য ডাবের পানি খুবই উপকারী। শরীরের পানি শূন্যতা রোধ করে। আমাদের ঘামের সঙ্গে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফ্লোরাইড-অনেক কিছুই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। শরীরের ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হয়ে যায়। ইমব্যালেন্স রোধ করার জন্য আমরা প্রতিদিন যদি একটা বা দুইটা ডাব খেতে পারি তাহলে আমাদের শরীর বেশ ভাল থাকবে। সুতারাং ডাব শরীরের জন্য সব দিক থেকে ভাল।
সম্পাদনায়: আ.স ০১/১০/২০১৮

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top