logo
news image

বাঘায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আলোকিত ১৫ হাজার পরিবার

নুরুজ্জামান, বাঘা (রাজশাহী)
রাজশাহীর বাঘায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ শাহরিয়ার আলমের একান্ত প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকার আমলে একটি নতুন বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র চালু করার মাধ্যমে ৫০ টি গ্রামে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এই বিদ্যুতায়নের আওতায় আলোর মুখ দেখেছেন ১৫ হাজার পরিবার। এ জন্য সরকারের ব্যায় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
এ ছাড়াও এ বছর জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্য গ্রামে সাড়ে ৪ হাজার নতুন সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এ থেকে অত্র উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫২ হাজার। স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, বাঘা-চারঘাটের সংসদ সদস্য শাহারিয়ার আলমের সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় বাঘা সাব-জোনাল অফিসের মাধ্যমে উপজেলার মনিগ্রাম এলাকায় একটি নতুন ১০ এমভিএ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ জন্য ব্যায় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এই উপকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর ৪টি ফিলটারের মাধ্যমে বাঘা উপজেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে একদিকে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে অন্যদিকে কমেছে লোড সেডিং।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সরকার আমলে নতুন ভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া সম্ভব না হলেও বর্তমান সরকারের ৯ বছরে বাঘায় নতুন সংযোগ গ্রহণ কারিদের ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। গত দুইতিন বছরে এ উপজেলার আলাইপুর গ্রামে ৪ কি.মি, কিশোর পুর গ্রামে ৩ কি.মি আটঘরি গ্রামে ৩ কি.মি ঢাকা চন্দ্রগার্থী গ্রামে ২ কি.মি, হরিরামপুর গ্রামে দেড় কি.মি, গাওপাড়া গ্রামে ২ কি.মি এবং মশিদ পূর গ্রামে ১ কি.মিসহ মোট ৬০ কিলো মিটার রাস্তায় রড-সিমেন্টের পোল ব্যবহার করে ৫০টি গ্রামের ৯ হাজার ৬শ পরিবারকে নতুন বিদ্যুতায়ন সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। এ জন্য সরকারের ব্যায় হয়েছে ৬ কোটি ১৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস সামাজ, ভানুকর গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের হিমেল মিয়া জানান, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। এতো অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুতের পরিশিমা (ব্যবকতা) এতোটা বৃদ্ধি পাবে।
তাদের মতে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হওয়ায় এখন বাতি কিংবা হারিকেন জ্বালিয়ে বাচ্চাদের আর পড়ালেখা করতে হচ্ছে না। এখন তারা টিউব লাইট কিংবা এনার্জি বাল্পের আলোয় পড়া-লেখা করছে। সেই সাথে বাড়িতে বসে টিভি দেখাসহ কম্পিউটার চালাতে পারছে। তারা মনে করছেন, বাঘা-চারঘাটের সংসদ সদস্য শাহারিয়ার আলমের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে এ সব উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয়েছে।
বাঘার বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক এ্যাড. আব্দুল হান্নান সরকার বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চরাঞ্চল ব্যাতিত উপজেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ চলে গেছে। এ থেকে এলাকার মানুষ খুশি। তারা এই সরকারের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার লক্ষ আগামি ২০১৯ সাল নাগাদ চারঘাট-বাঘার ঘরে-ঘরে বিদ্যুতায়ন করবো। এটা বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার। সে মর্মে চারঘাট-বাঘায় নতুন বিদ্যুতায়নের প্রাক্কলন করা হয়েছে। আসা করছি যারা এখনও বিদ্যুৎ পাইনি তারা এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে।
এ দিক থেকে বাঘার চরাঞ্চলকে দুর্গম এলাকা হিসাবে চিহ্ণি‎‎ত করে ওই এলাকায় বর্তমান সরকারের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎতায়ন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাঘা পল্লী বিদুৎ সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আমজাদ হোসেন জানান, বিগত সময়ে এ উপজেলায় বিদ্যুতের ঘন-ঘন লোড সেডিংসহ নানাবিধ সমস্যা থাকলেও বর্তমান সরকার আমলে এখানে একটি উপকেন্দ্র চালু হওয়ার পর থেকে আর কোন সমস্য নাই। তিনি বলেন, আড়ানী পৌর সভা (সম্পূর্ণ) ও বাউসা ইউনিয়নের আংশিক ব্যাতিত উপজেলার ২০ হাজার ৮শ গ্রাহকের জন্য নতুন উপকেন্দ্র থেকে ৯ মেগাওয়াট ক্যাপাসিটির বিপরিতে চাহিদা ৬ মেগাওয়াট থাকায় বর্তমানে লোডশেডিং প্রায় শূন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে ।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top