logo
news image

একুশে আগস্ট মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ

আইন-আদালত প্রতিবেদক।  ।  
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে সাক্ষ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগস্টের ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার চলছে। এর আগে মামলায় ৪৪ আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হয়।
বুধবার (২৯ আগস্ট) ছিল এ মামলার যুক্তিতর্ক পেশ করার ১১২তম দিন। বাবরের পক্ষে আজ অষ্টম দিনে সাক্ষ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেছেন তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম। পরবর্তী ধার্য তারিখে বাবরের পক্ষে আইনজীবী এসএম শাহজাহান ল’পয়েন্টে যুক্তি পেশ করবেন বলে জানান আইনজীবী নজরুল ইসলাম। এ আসামির যুক্তিতর্ক পেশ শেষ হলে মামলার সকল আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ সমাপ্ত হবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ও ৫ সেপ্টেম্বর বুধবার মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
আজ আসামি বাবরের পক্ষে তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম মামলার আইও আবদুল কাহ্হার আখন্দের (পিডব্লিও-২২৫) সাক্ষ্য থেকে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আজ আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সমাপ্তের পর সাংবাদিকদের বলেন, বাবরের পক্ষে তার আইনজীবী ফ্যাক্টেস্র ওপর যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেছেন। পরবর্তী ধার্য তারিখে ল’পয়েন্টে যুক্তি পেশ করবেন। আসামিপক্ষ যে সব যুক্তিতে বাবরের খালাস প্রার্থনা করেছে সেসব যুক্তি টেকেনা। কেননা আসামি বাবর ২১ আগস্ট ঘটনায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন তা আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। বাবর হাওয়া ভবন ও আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবনে ২১ আগস্ট ঘটনার বিষয়ে ষড়যন্ত্রমূলক সভায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন তা সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে। সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলের খুব কাছেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের অফিস হওয়ার পরও ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনাস্থল একবারের জন্যও পরিদর্শনে যাননি তিনি। বাবর হামলাকারীদের নির্বিঘেœ নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনিক সহায়তা করেছেন তাও মামলায় প্রমাণিত বলে দাবী করেন রাষ্ট্রপক্ষ।
তারেক রহামনের বিরূদ্ধে আনীত অভিযোগ বিষয়ে এক প্রশ্নে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, তারেক রহমান ২১ আগস্ট ঘটনা বিষয়ে তার কার্যালয় হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্রমূলক সভায় মিলিত হয়েছেন এবং সে সভার আলোকেই হামলাকারীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, আসামিপক্ষ এ মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে বিভিন্ন কারণে সময়ক্ষেপন করায় রাষ্ট্রপক্ষ বিরক্তি প্রকাশ করেছে।এ বিরক্তি প্রকাশ করলেও আজ ফ্যাক্টস্র ওপর যুক্তিতর্ক শেষ করায় তিনি আসামীপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় আদালত বলেন, সব আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় মামলার বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিচারকার্য পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যরা এবং নিউজ কাভারে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায় আদালত।
আদালতের আজ কার্যক্রম শেষে রাষ্ট্রপক্ষে অপর আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা পৃথক মামলার বিচার এখন একেবারেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ফৌজদারী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে নৃশংস এ হামলা ঘটানো হয়েছে। ড্রামাটিক লাইনে পরিকল্পিতভাবে হামলা কার্যকর করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে আফগান যুদ্ধফেরত ব্যক্তিরাও অংশ নিয়েছে। এটি ভয়াবহ ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে কাজল বলেন, দেশবাসী বিচারপ্রার্থী ও হামলায় আক্রান্তরা এ মামলায় ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌসুঁলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো.আবু আব্দুল্লাহ্ ভ্ুঁইয়া, আকরাম উদ্দিন শ্যামল. এডভোকেট ফারহানা রেজা, এডভোকেট আমিনুর রহমান, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান।
তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top