logo
news image

মাহে রমজান মনের পবিত্রতা অর্জনের মাস

আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে কখনও শেষ করা যাবে না। যিনি আমাদের মতো গুনাহগারদের প্রকৃত মোমিন হওয়ার জন্য মাহে রমজানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস রেখেছেন। মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য একটি শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। তবে আমাদের জন্য এটি তখনই নেয়ামত হিসেবে গন্য হবে যখন আমরা এর সঠিক নিয়ম মেনে চলবো। নতুবা শুধু সেই মাঝির মতো হবে যে কিনা নদীতে একটি মূল্যবান জিনিস ভাসতে দেখে সঠিক উপায় অবলম্বন না করে শুধু চিৎকার জুড়ে দিল আমি অমুক জিনিস দেখেছি, আমি অমুক জিনিস দেখেছি। আর মাঝি এতেই ভাবলো যে সে ওমুক বস্তু পেয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ এর বিপরীত।

এক হাদিসে আছে, “আমার উম্মত যদি জানতো রোজা কী জিনিস, তাহলে রোজা রাখা এতো কষ্টকর হওয়া সত্তেও সারা বছর রমজান মাসের কামনা করতো।”

হাদিস শরিফে রয়েছে- রমজান মাসের একটি নফল অন্য মাসের ফরজ আদায় সমতূল্য সওয়াব এবং এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের সওরটি ফরজ আদায় করার সওয়াব। (বায়হাকী)

নবিজি বলেন, “রমজান মাসে তোমরা চারটি কাজ বেশি করে করবে। এর দুটি হচ্ছে আল্লাহর জন্য যেমন-
 ১.কালিমায়ে তাইয়্যেবা বেশি করে পড়া
 ২.ইসতেগফার বেশি করে পড়া

আর বাকি দুটি কাজ এমন যা না করে তোমাদের উপায় নেই। সে দুটি হচ্ছে
১. জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা
২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।

আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ১০ দিনে আল্লাহ তায়ালা রহমত নাযিল করেন। দ্বিতীয় ১০ দিনে আল্লাহ গুনাহ থেকে মাগফেরাত করেন। তৃতীয় ১০ দিনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।

নবিজি বলেন, “রমজান মাসে আল্লাহ রোজাকে ফরজ ও তারাবিহকে সুন্নত করেছেন। রমজান মাসে ফরজ আদায়ের পাশাপাশি নফল ইবাদতগুলো গুরুত্ব দিয়ে আদায় করতে বলা হয়েছে। নামাযের ক্ষেত্রে কাজা নামাজগুলো আদায় করা। এছাড়া তাহাজ্জুদ, এশরাক, চাশত, আওয়্যাবিনসহ নামাজগুলো পাবন্দীর সাথে আদায় করা। এবং রমজান মাসে বিশেষভাবে জবান, চোখ, কান এর হেফাজত করতে হবে। মিথ্যা কথা বলা, গিবত করা বা শোনা, অস্লীল কথা বলা বা শোনা অথবা দেখা, গান শোনা, এবং অযথা গল্প গুজব না করে জিকিরের মাধ্যমে মনকে সতেজ রাখতে হবে।”

ইফতার অব্যশই হালাল খাদ্য দ্বারা করতে হবে অন্যথায় সারা দিনের রোজায় অনাহারে থাকা ছাড়া কিছুই অর্জিত হবে না। নবিজি রমজান মাসে খুব বেশি কোরান তেলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে সম্পূর্ণ কোরান একবারে এ মাসেই আবতীর্ণ হয়। তাছাড়া ইবরাহিম (আ.) এর উপর সহিফাসমূহ, দাউদ (আ.) এর উপর যাবুর ও মুসা (আ.) এর উপর তাওরাত এবং ঈসা (আ.) এর উপর ইনজিল এ মাসেই অবতীর্ণ হয়।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, রমজান মাসের সাথে আল্লাহ তায়ালার কালামের ব্যপক সর্স্পক রয়েছে। তাই এ মাসে অধিক সম্ভব কোরআন তেলওয়াত করা উচিত।

সারা দিন কষ্ট করে রোজা রেখে আমরা গুনাহ থেকে বেঁচে এ সমস্ত আমল এ মনোনিবেশ করা উচিত। কেননা হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, “বহু রোজাদার এমন রয়েছে যাদের রোজা রাখার দরুণ শুধু অনাহারে থাকা ছাড়া কিছুই অর্জিত হয়না। এবং আরও বর্ণিত রয়েছে, ধ্বংশ ঐ ব্যক্তির জন্য যে রোজা পেলো অথচ নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারলো না।”

তাই আমাদের রমজান মাসটিকে শুধু সেহরি, ইফতার ও কেনাকাটার মধ্যে সীমাবদ্ব না রেখে আমল এর দিককে বাড়িয়ে নেওয়া উচিৎ।

হাদিস শরিফে রয়েছে, “যদি কেউ খালেছ নিয়তে প্রত্যেক নিয়ম মেনে রোজা আদায় করে তাহলে এ রোজা দ্বারা তার অন্তর নূরানি হয় এবং এতে করে সে প্রত্যেক নেক আমল করতে আগ্রহী হয়।” নবিজি বলেন, “রমজান মাসের প্রতি দিবা-রাত্রে একজন জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয় ও প্রত্যেক মুসলমানের একটি করে দোয়া কবুল করা হয়। এবং ইফতারের পূর্ব মূর্হূতে দোয়া কবুল হয় যদিও তখন আমরা ইফতারি গুছাতেই ব্যস্ত থাকি।”

অনেকেই অলসতার দরুণ বা রাতে একটু দেরি করে খাওয়ার কারণে সেহরি খেতে উঠেন না। অথচ তবারনি কিতাবে ইবনে ওমর (রা.) এর থেকে বর্ণিত রয়েছে, “সেহরি খানেওয়ালার উপর স্বয়ং আল্লাহ পাক ও ফেরেস্তারা রহমত নাযিল করেন।” এছাড়া নবিজি আমাদেরকে ইহুদি, নাসারাদের বিপরীত কাজ করতে বলেছেন। আর তারা যেহেতু সেহরি খায়না তাই আমাদের সেহরি খাওয়া উচিত এবং সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব বলে অলসতার দরুণ এ সওয়াব থেকে বঞ্চিত থাকা যাবে না।

হাদিস শরিফে রয়েছে, “যদি কেউ রমজান মাসে তার সার্মথ্য অনুযায়ী একটি খেজুর বা এক গ্লাস পানি দ্বারা হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অপর ভাইকে ইফতার করায় তাহলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন। একই সাথে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন ও উক্ত রোজাদারের সমপরিমান সওয়াব দিবেন আর এ কারণে ঐ রোজাদারের সওয়াব একটুও কমানো হবে না।”

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিজি বলেন, “রমজান মাসে আমার উম্মতকে বিশেষ করে পাঁচটি জিনিস দেওয়া হয়েছে-

১. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের ঘ্রাণের চেয়েও প্রিয়।
২. রোজাদারের জন্য সমস্ত প্রাণী এমনকি সমুদ্রের মৎস পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে।
৩. রোজাদারের জন্য জান্নাতকে প্রতিদিন সুসজ্জিত করা হয় এবং আল্লাহ বলেন, খুব শ্রীঘই আমার নেক বান্দারা দুনিয়ার কষ্ট দূর করে জান্নাতে চলে আসবে।
৪. এই মাসে দুষ্ট ও অবাধ্য শয়তানদের আটকে রাখা হয়। ফলে অন্যসব মাসের তুলনায় এ মাসে গুনাহ হওয়ার আশংকা কম থাকে।
৫. রমজানের শেষ রাত্রে প্রত্যেক রোজাদারের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। সাহাবারা এটা শুনে আরজ করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ, এটা কি শবে কদরের রাত? নবিজি বললেন, “না বরং এটা মজদুরকে তার মজুরি দেওয়া হয়।”

রোজা এতো ফজিলতপূর্ণ আমল যে, সকল আমলের সওয়াব ফেরেস্তারা হস্তান্তর করবেন কিন্তু রোজার সওয়াব স্বয়ং আল্লাহ পাক তার কুদরতি হাতে দিবেন।



সূত্রঃ মুফতি মাওলানা আবদুল্লাহ আল সা’দ

নিউজবাংলাদেশ

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top